
অনেক ত্যাগ স্বীকার করেই তাঁরা নেতা হতে পেরেছিলেন। পৃথিবীতে তো চিরদিন থাকা যায় না। কেউ পারে নি। পারবেও না। আপনার মৃত্যু থেকেও কেউ শিক্ষা নেবে না। আমি শেষ নবীর উম্মত হিসেবে ওনার হেদায়েত চাই। যেহেতু এখন দুনিয়ার বিচারের বাইরে উনি চলে গিয়েছেন, আল্লাহর কাছে তার বিচারভার ন্যস্ত হয়েছে। একজন বললেন, ''আহারে অনেক ভাল মানুষ ছিল....আমাদের জন্য রেখে গেছেন সিঙ্গাপুরের চেয়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা। তার মৃত্যুতে দেশ অনেক পিছিয়ে পড়বে।'' করোনা প্রমাণ করেছে যে, দেশের হাসপাতাল গুলো ব্যক্তি মালিকানায় থাকা উচিত নয়।
দেশটাকে কারা ধ্বজভঙ্গ করেছে? কোথায় আজ মাউন্ট এলিজাবেথ্? বিশ্বাস করুন দুষ্টলোকদের মৃত্যুতে আমার কষ্ট হয় না। উনি মারা যাওয়ার কারণে একটি আইসিইউ খালি হয়েছে সেই আনন্দে বাংলাদেশ দিশেহারা। বর্তমানে জুলুম, হালুম করেও মানুষের মুখ আর বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। মানুষ এখন ভয় ডরের উর্ধে উঠে গেছে। করোনা এসে চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল। তবু কিছু বলা যাবে না! বলা যে যাবে না তার জন্য আইনও করা হয়েছে। আমাদের দেশের মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রপতি বা সচিবরা চিকিৎসার জন্য বিদেশ যায় কেন? আমাদের দেশের চিকিৎসার মান কি ভালো নয়? যদি ভালো না হয়ে থাকে তাহলে ভালো করেন। দেশে সাধারণ মানুষ কি করবে, কোথায় যাবে?
দায়িত্ব বড় কঠিন জিনিস। যথাযথভাবে তা পালন করতে না পারলে পাবলিক ছাড় দেয় না। স্বাস্থ্যখাতকে লুটপাট করে আজ তিনিও পরপারে। একজন নাসিম সাহেবই কি শুধু দায়বদ্ধ সমগ্র সাস্থ্য ব্যাবস্থার জন্য? তার আগে ও পরের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা কতটুকু কি করেছেন সেটা কি ভেবেছেন কখনও? মানুষ যখন তার বিবেকের কাছে অপরাধ অনুভব না করে তখন থেকেই সে তার মনুষত্ব হারিয়ে ফেলে। আর সে মানুষের দ্বারা জাতি, ধর্ম, রাষ্ট্র বা পৃথিবি কেউ উপকৃত হবেনা এটাই স্বভাবিক। কাজেই যাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব নেই তাদের খুজে বের করুন। কান ধরে বের করে দিন।
আগের মন্ত্রীরা কিছু করে নাই, তিনি চাইলে করতে কিছু পারতেন, তিনিও করেন নাই। কিছু করে গেলে মানুষ এখন তার জন্য দোয়া করত। স্বাস্থ্যখাতের মত জায়গায় মোটা গলায় ভাষণ দিলে কোন লাভ হয় না। এটা উনি বুঝতে চাননি। যেই দেশের জন্য ওনার বাবা প্রাণ দিয়েছেন সেই দেশের উনি সর্বোচ্চ ভালো কিছু করতে পারেন নি। যে যত বড় দূর্নীতিই করুক শেষ আশ্রয় হবে সাড়ে তিন হাত মাটির ঘর। ''কুল্লুন নাফসুন জালিকাল মাউত''। কেউ মৃত্যুর হাত থেকে পার পাবে না। সহজ সরল সত্য কথা হলো- এই দেশের কেউই আল্লাহর চেয়ে শক্তিশালী নয়। তাই গলাবাজি বন্ধ করুন।
আমাদের শিক্ষায় গলদ, রাজনীতিতে গলদ, অর্থনীতিতে গলদ এমনকি সামাজিক রীতি নীতিতেও গলদ। কারো মৃত্যুই কাম্য নয়- সে যত বিতর্কিতই হোক না কেন। প্রতিটা মৃত্যুই আমাকে যন্ত্রনা দেয়। তবে বর্তমানে করোনার বিভীষিকা এই স্খলিত সমাজের অনৈতিক ও অসৎ ব্যক্তিদের জন্য কিছুটা সতর্ক বাণী হিসাবেই কাজ করুক। উত্তরসূরীরা যদি এখন এসব দেখে একটু ভালো হয়। তবেই দেশের মঙ্গল হয়। লিখে লিখে যদি সমাজ বদলে দেওয়া যেত তবে আরো কত আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যেত। কাজেই কোনো কিছু লিখেই এই দেশে সমস্যার সমাধান হয় না। কাজেই সব লেখাই ফালতু। অপ্রয়োজনীয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৩:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



