
কিছুক্ষনের মধ্যেই হয়তো নাটক শুরু হবে।
নাটকের নাম 'মানবতা'। চমৎকার ভাবে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। থিয়েটারের আসন সংখ্যা তিন শ'। আসন পরিপূর্ন। পুরো থিয়েটার এসি। এত মানুষ, পুরো থিয়েটার জুড়ে এত লাইটিং কিন্তু একটুও গরম না। চৎকার আধুনিক থিয়েটার। দর্শকগুলো ভদ্র, বিনয়ী। কেউ চেচামেচি করছে না। মোবাইলে কেউ চিৎকার করে কথা বলছে না। আজকের 'মানবতা' নাটকটি লিখেছেন রাজীব নূর খান। নাটকটি পরিচালনা করছেন শাহেদ এবং রাজীব। রাজীব শাহেদ জামালের দীর্ঘদিনের বন্ধু। ঘনিষ্ট বন্ধু। মানবতা নাটকে যারা অভিনয় করছেন- তারা থিয়েটার ভালোবাসেন। ভা্লোবাসা থেকেই নাটক করছেন। এখানে অর্থ মূখ্য বিষয় না। যারা মঞ্চের অভিনয় শিল্পী তারা নিজের আবেগ এবং তাগিদ থেকেই অভিনয় করেন। দেশের জন্য। দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই।
দেশভাগের আগে মঞ্চ নাটক ছিলো কলকাতা কেন্দ্রিক।
আজও বাংলাদেশের মঞ্চ নাটক ঢাকা শহরের কয়েকটি অডিটোরিয়ামের গণ্ডি পেরিয়ে তেমন একটা বিস্তার লাভ করতে পারেনি। এটা প্রচন্ড দুঃখজনক। এও সত্য একটি নাটক মঞ্চস্থ করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়, শুধু টিকিট বিক্রি থেকে তা উঠে আসে না। মঞ্চনাটক শব্দটির মানে হলো দর্শনের জন্য যে স্থান। মঞ্চ নাটকের কথা ভাবলেই মাথায় আসে শেক্সপিয়রের নাম। শাহেদ জামাল মনে করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মঞ্চ নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে করে সেখানে নিয়মিত নাটক হতে পারে। ভালো নাটক মানুষকে সচেতন করে, মহৎ করে। শাহেদ সস্তা আর শুধু কমেডি নাটক করবে না। তার নাটক দেখে মানুষ সভ্য হবে, বিনয়ী হবে। হৃদয়বান হবে, মানবিক হবে। শাহেদের চিন্তা পরিকল্পনা হলো সে শুধু নাটক দিয়ে মানুষকে বিনোদন দিবে না। দিবে শিক্ষা।
শাহেদ এতক্ষন বেঞ্চে শুয়ে ছিলো।
এখন উঠে বসলো। রমনা পার্ক হলো তার ভাবনা চিন্তা করার জায়গা। কেউ বিরক্ত করার নেই। ভাবনা চিন্তা করে রাখা মানে একটা কাজ অনেকখানি এগিয়ে রাখা। শাহেদ তার কাজ গুলো এগিয়ে রাখছে। খুব দ্রুতই তার স্বপ্ন গুলো বাস্তবে রুপ নেবে। তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা একটা নাটকের দল করবে। তার দল সারা বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে নাটক করবে। মানুষকে সচেতন করবে। তারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নাটক করবে। সকল অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে নাটক করবে। ধর্ষনের বিরুদ্ধে নাটক করবে। কালো টাকার বিরুদ্ধে নাটক করবে। নাটক অনেক বড় হাতিয়ার। ধারালো তরোয়ালের চেয়ে বেশি শক্তশালী। বন্দুকের চেয়ে শক্তিশালী। তাদের নাটক দেখে মানুষের বিবেক জাগ্রত হবে। মানুষের বিবেক জাগ্রত হলে দেশের উন্নতি হবে। তাতেই শাহেদ খুশি।
দুপুরের দিকে পার্কে লোকজন কম থাকে।
বিকেলের দিকে লোকজনের সংখ্যা বাড়ে। এত লোকজনের মধ্যে সঠিক চিন্তা ভাবনা করা যায় না। শাহেদ মোবাইলে সময় দেখলো। বিকেল চারটা। দুপুরে কিছু খাওয়া হয়নি। অনেকক্ষন ধরেই পেট জানান দিচ্ছে তার খাবার চাই। পকেট একেবারে ফাঁকা। পেট তো আর বুঝে না পকেটে টাকা নেই। শাহেদ খাবারের সন্ধানে রমনা পার্ক থেকে বের হলো। তার জন্য কেউ খাবার নিয়েই বসে নেই। কোনো বন্ধু বান্ধব, এমন কি আত্মীয়স্বজন পর্যন্ত শাহেদের কোনো খবর নেয় না। তাদের চাকরি আছে, ব্যবসা আছে, ঘর সংসার আছে। শাহেদের কিচ্ছু নেই। কিচ্ছু নেই বলাটা ঠিক না। তার নীলা আছে। এখন পর্যন্ত কোনোদিন নীলা শাহেদকে দেখে বিরক্ত হয়নি। সারাদিন প্রচন্ড গরম গেছে। এখন ঠান্ডা বাতাস ছেড়েছে। রাতে মনে হয় বৃষ্টি হবে।
(ছবিঃ আমার তোলা।)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৪:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



