
(এই লেখাটি আমার নয়। এটা লিখেছেন আমার শ্বশুরমশাই। তার অনুমতি নিয়েই লেখাটি ব্লগে দিলাম।)
জেল জীবন সম্পর্কে কোন ধরনের ধারনা ছিল না আমার। যেহেতু আমি সচিবালয় থেকে গ্রেফতার হয়েছি, সেহেতু আমার গায়ে একটি ফতুয়া, প্যান্ট ও জুতা ছাড়া কোন অতিরিক্ত কাপড় ছিল না। এক কাপড়ে থাকার কারনে সেভেন মার্ডারার নাটকা বাবু আমাকে বলল- মুরব্বি, আপনার পরিবারতো জানে না আপনি কোথায় কি ভাবে আছেন, এছাড়া জেল সম্পর্কে আপনাদের ধারনাও স্পষ্ট নয়, সুতরাং বাসার ঠিকানা দিন আমি খবর পাঠিয়ে দিব। সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে আমার শুধু নয় সকলেরই একটা খারাপ ধারণা থাকে, আমার বেলায়ও তার ব্যতিক্রম নয়। ওর চাপাচাপিতে বাসার টিএন্ডটি ফোন নম্বর দিয়ে দিলাম। পরের দিন সুর্য উঠার পুর্বেই বাবুর দুই কর্মী আমার বাসায় হাজির হয়ে বিস্তারিত জানাল এবং জেল গেইটে নির্ধারিত সময়ে আমার জন্য প্রয়োজনীয় কাপড় ও শুকনো খাবার নিয়ে যেতে বলে ওরা বিদায় নিল।
ঐ দিন বিকেলে আমার শ্যালক মতিউর রহমান মিঠু ও দীন মোহাম্মদ ভাই জেল গেইটে আমার জন্য কাপড়, শুকনো খাবার নিয়ে যথাস্থানে হাজির হলে সকালে আমার বাসায় আসা ছেলেদ্বয় নাটকা বাবু ও সেভেন ষ্টার গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড টিক্কার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সন্ধ্যাব্দি আমার রুমমেট হাসতে হাসতে বলল, মুরব্বি 'আপনারা আমাদের খারাপ ভাবেন এবং তুচ্ছ করেন অথচ কেউ জানতেও চায় না আমরা ক্যান খারাপ হলাম।' আমি ওদের এ কথার মধ্যে কি আবেগ জড়িত ছিল তা আমি কাছ থেকে দেখেছি এবং তোমাদের সে গল্প আর একদিন না হয় শুনবো।
এরপর একদিন পরপর মিঠু জেল গেইটে যেত এবং আমার স্ত্রী যাকে আমি ২০০৮ সালে হারিয়ে আজ একান্ত একা হয়ে জীবনের শেষ পংতির অপেক্ষায় দিন গুনছি। সে আমার জন্য রান্না করে জেল গেইটে মিঠুকে দিয়ে খাবার পাঠাত। এদিকে দীন মোহাম্মদ ভাই আমার ছবিসহ মুক্তির জন্য পোষ্টার ছাপিয়ে সচিবালয়ের বাহির দেয়ালে লাগাতে গিয়ে এক অপ্রতিকার পরিস্থিতি স্বীকার হলো যা হয়তো কোনদিনই ভুলব না। আমি দীন ভাইয়ের কাছে ঋণাবদ্ধ হয়ে আজও তা স্বরন করি। পরের দিন একটি পোষ্টার আমাকে পাঠালো যা আজব্দী সংরক্ষণ করে রেখেছি।
ইত্যবশরে আমি ডিটেনশন আদেশ প্রাপ্ত হই। যাতে লেখা ছিল পাঁচটি মামলায় আমি হুকুমের আসামী।
চলবে----
জেলখানার দিন গুলো- ১ পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




