somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

এই সমাজ- ২৯

১২ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের দেশের আসল সমস্যা দূর্নীতি।
দূর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কখনও ভালো হবে না। আমি বুঝি না একজন লোক আট হাজার থেকে দশ হাজার কোটি টাকা কেন দূর্নীতি করে? এত টাকা দিয়ে সে করবে কি? একজন মানুষের পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে এত টাকা তো লাগে না। দূর্নীতি কারা করে? সাধারণ মানুষের দূর্নীতি করার উপায় নাই। দূর্নীতি করে রাজনীতিবিদ এবং তাদের ছত্রছায়ায় থাকা লোকজনেরা। খোঁজ নিলে জানা যাবে প্রতিটা রাজনীতিবিদের লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা এবং মালোশিয়াতে গাড়ি বাড়ি আছে। ভদ্র ভাষায় বললে- সেকেন্ড হোম। তাদের ছেলে মেয়েরা সব থাকে উন্নত দেশে। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা বোকা। তারা সামান্য চিকিৎসা বা চেকআপ এর জন্য যায় লন্ডন-সিঙ্গাপুর। অথচ তারা বুদ্ধিমান হলে নিজের দেশের চিকিৎসার ব্যবস্থা উন্নত করতো। তাহলে তাদের মৃত্যু বিদেশের মাটিতে হতো না। রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত একদল লোক নিয়ে চেকআপ করাতে লন্ডন যান। উনি কেন বলেন না, আমি আর চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবো না। দেশেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে দেশের সাধারণ মানুষও উন্নত চিকিৎসা পাবে। কোনো মন্ত্রী, এমপি বা রাষ্ট্রপতির মুখে এমন কথা শুনলাম না।

দুদক কি করছে?
দুদকের কাজ কি? চারিদিকে এত এত দূর্নীতিবাজ। অথচ দুদক চুপ করে আছে কেন? সমস্ত দূর্নীতিবাজদের ধরুক। তাদের টাকা, জমি, নামে বেনামে সমস্ত কোম্পানী বাজেয়াপ্ত করছে না কেন দুদক? দুদক হয়তো দূর্নীতিবাজদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা পাচ্ছে। রমজান মাসে তাদের বাসায় চলে চলছে উপহার। কোরবানীর ইদে চলে যাচ্ছে গরু। আরো নানান সুযোগ সুবিধা তারা পাচ্ছেন হয়তো দূর্নীতিবাজদের কাছ থেকে। ভালো করে খোঁজ নিলে এসব তথ্য পাওয়া যাবে। যেহেতু দুদককে না বললে তারা কিছু করে না। তাই শেখ হাসিনা দুদককে কেন বলছেন না সমস্ত দূর্নীতিবাজদের গ্রেফতার করতে? দূর্নীতিবাজদের ধরলে কি দেশের ক্ষতি হবে? প্রতিটা দূর্নীতিবাজের নামে বেনামে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। আদতে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্বস্তিত্ব নেই। কিন্তু সরকারী লোকেরা পরামর্শেই তারা ট্রেড লাইসেন্স করে রেখেছেন। এবং বছর বছর সেই ট্রেড লাইসেন্স রিনিউ করে যাচ্ছেন।

একজন চোর বা ছিনতাইকারী ধরা কঠিন।
সবচেয়ে সহজ কাজ হলো দূর্নীতিবাজদের গ্রেফতার করা। দূর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করা সবচেয়ে সহজ। মানুষ তার বয়স এবং প্রেম লুকিয়ে রাখতে পারে না। তেমনি মানুষ তার টাকা লুকিয়ে রাখতে পারে না। প্রতিটা দূর্নীতিবাজ সবার আগে তারা দামী গাড়ি কিনেন। তারপর একটা দৈনিক পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল বের করেন। এমনকি টিভি চ্যানেল। তারপর নিজ গ্রামে স্কুল মাদ্রাসা করেন। গ্রামে বিঘায় বিঘায় জমি কিনেন। দখল করেন। টাকা দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হোক। তারপর রাজনীতিতে নামেন। যাকে ইচ্ছা বা যার প্রতি রাগ আছে তাকে জেলে পাঠান মিথ্যা মামলা দিয়ে। গত একযুগ ধরে এমনটাই হয়ে আসছে। টাকা দিয়ে দলের বড় বড় পদ কিনে নেন। টাকা দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। সমাজের বড় বড় মানুষদের মাথায় তেল দেন। তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। সামান্য চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ড যান। নিজের গ্রামেও তারা গাড়িতে যান না। হেলিকাপ্টারে করে যান। তাদের সময়ের অনেক দাম আছে। হেলিকাপাটার দেখতে সারা গ্রামের মানুষ ভিড় করে স্কুল মাঠে। চারিদিকে এত এত দূর্নীতিবাজ অথচ দুদক চুপ করে আছে। তাহলে তারা সারা বছর করছে কি? তাদের কি কোনো জবাবদিহিতা নেই?

দেশের সমস্ত দূর্নীতিবাজরা মুজিব কোট পড়েন।
মুজিব কোট পড়লে কি সমস্ত অপরাধ মাফ? হজ্ব করলে যেমন হাজীরা মনে করেন সমস্ত পাপ মাফ হয়ে যায় তেমন? দূর্নীতিবাজদের বিশেষ বিশেষ দিনে মুজিব কোট পড়তে দেখা যায়। আমার প্রচন্ড রাগ লাগে। আ.লীগ কি আপাদমস্তক একটি বাটপারির দলে পরিণত হয়েছে? শেখ হাসিনা এদের কান ধরে দল থেকে বের করে দিচ্ছেন না কেন? এই দেশে কোনোভাবে, ভাঁজভুজ দিয়ে জায়গা মতো বসতে পারলে রাস্তার কুকুরকেও বাঘের মতো দেখায়। অতি ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক দিয়ে বিশ্বের ৭৫টি দেশের মধ্যে এক নম্বরেই আছে বাংলাদেশ। সমস্ত দূর্নীতিবাজদের সাথে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য সকল মন্ত্রী, এমপিদের সাথে ছবি থাকে। ছবি থাকে মিডিয়ার নানান লোকদের সাথে। দুষ্ট লোকে ভরে গেছে দেশ। আশা করি প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন। দেশের কোটি কোটি মানুষ তার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি নিজে তার উপর সম্পূর্ন আস্থা রাখি। ভরসা রাখি।

মানবাধিকার কমিশন কি করে?
তাদের তো আবার পত্রিকাও আছে। মহাত্মাগান্ধী, মাদার তেরেসা ইত্যাদি বিখ্যাত লোকদের নামে এওয়ার্ডও দেয় প্রতি বছর। এসব এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরাও প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি হিসেবে যান। মানবাধিকার সংস্থাগুলোসহ যে কোনো অফিসে গেলেও দেখা যাবে দেশের প্রায় সকল প্রভাবশালীদের সঙ্গে তাদের সাহেদ মার্কা ছবি। এমনকি যে লোক হাত দেখে, পাথরসহ আঙটি দেয় তার শো রুমে গেলেও দেখতে পাবেন সমস্ত মন্ত্রী, সিনেমার নায়ক নায়িকার সাথে ছবি তুলে, সেই ছবি বড় করে বাধাই করে রেখেছে। দিন শেষে আজও আমি লক্ষ কোটি মানুষের মতো আস্থা রাখি, ভরসা রাখি প্রধানমন্ত্রীর উপর। তিনি দুষ্টলোকদের ছাড়বেন না। তাদের অবশ্যই বিচার করবেন। জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:১০
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×