somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কাঁকড়া

১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কাঁকড়া বহু মানুষ আগ্রহ নিয়ে খায়।
কাকড়ায় আছে অনেক ভিটামিন। আমাদের সুন্দরবনের কাঁকড়া বিশ্ববাজারে ব্যাপক চাহিদা। চীন, মীয়ানমার, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালেয়শিয়া, শ্রীলংকা, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, হংকংসহ বিভিন্ন দেশে। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার সহস্রাধিক জেলে বনবিভাগ থেকে নির্দিষ্ট রাজস্বের বিনিময়ে পারমিট সংগ্রহ করে সুন্দরবনে কাঁকড়া সংগ্রহ করতে যান। সুন্দরবন এলাকায় বারো প্রজাতির কাকড়া পাওয়া যায়। কাকড়াদের নাম গুলো বড় অদ্ভুত- মাইলা, হাব্বা, সিলা, মায়া ও সেটরা। কাঁকড়া ধরা সুন্দরবনের বহু মানুষের পেশা। একবার আমি কাঁকড়া শিকারিদের সাথে সুন্দরবন গিয়েছিলাম। সেই গল্প আজ বলব।

চিংড়ি মাছের চেয়ে কাঁকড়া চাষ সহজ।
কাঁকড়া নদী বা খালে বেড়ে উঠলেও এর প্রজনন হয় সাগরের মুখে বা গভীর সাগরে। পথিবীর সব সাগরেই কাঁকড়া পাওয়া যায়। চিন-সহ বেশ কিছু দেশ করোনাভাইরাসের আতঙ্কে আপাতত কাঁকড়া আমদানি বন্ধ রেখেছে। ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন কাঁকড়া-ব্যবসায়ীরা। যে কাঁকড়া ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হত, বর্তমানে সেই কাঁকড়া ৩০০ টাকা কেজিতেও কিনতে চাইছেন না রফতানির সঙ্গে যুক্ত কারবারিরা। তবে আমাদের দেশে কোনো এক বিশেষ কারনে মুসলমানেরা কাঁকড়া খুব কম খায়। কিন্তু হিন্দুরা কাঁকড়া বেশি খায়। ঢাকা শহরে বেশির ভাগ মন্দিরের সামনে কাঁকড়া বিক্রি করতে দেখা যায়। কক্সবাজারে গেলে অনেকেই আগ্রহ নিয়ে কাঁকড়া খেতে দেখা যায়। কাকড়া ফ্রাই খেতে খুব সুস্বাদু।

মুসলমানদের চিন্তার কোনো কারন নেই-
কাঁকড়া খাওয়া জায়েজ। যদি কারো খেতে রুচি হয়, তিনি খেতে পারবেন। যেহেতু নবী সাঃ হাদিসের মধ্যে বলেছেন, ‘সমুদ্রের অথবা নদীর যেই মৃত প্রাণী আছে, সেগুলো সবটাই হালাল।’ এর মধ্যে কাঁকড়াও অন্তর্ভুক্ত হবে এবং কাঁকড়া খাওয়াও হালাল হবে। গরু বা মূরগীর মাংসে যে পরিমান প্রোটিন থাকে কাঁকড়াতেও একই পরিমান প্রোটিন থাকে। সব সামুদ্রিক মাছেই সেলেনিয়াম থাকে, কিন্তু কাঁকড়ায় সেলেনিয়াম থাকে পরিমানে আরো বেশি বেশি। সেলেনিয়াম আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও থাইরয়েড হরমোন ঠিক রাখে। নুডুলস, বার্গার বা স্যুপের সাথে মাশরুম যদি খেতে পারেন কাঁকড়া খাবেন না কেন?

কাঁকড়ার একটা রেসিপি দিয়ে দিলামঃ
কাঁকড়া কেটে ভালভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। গোল মরিচ গুড়া, কাঁচা মরিচ বাটা, হলুদ গুড়া এবং লবণ পরিমান মতো দিয়ে ভাল করে মেখে কমপক্ষে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর কড়াইতে সয়াবিন তেল দিন। তেল গরম হলে কাঁকড়া ঢেলে দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। কাঁকড়া লাল রং হয়ে আসলে তুলে নিন।
অন্য একটি পাত্রে সয়াবিন তেল দিন। তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ ফালি, লবণ, দারচিনি, লবঙ্গ, এলাচ দিয়ে কষিয়ে আদা বাটা, রসুন বাটা দিয়ে ভাল করে কষিয়ে নিন। ছোট একটা বাটিতে পানির সাথে শুকনা মরিচ গুড়া, বাকি হলুদ গুড়া, জিরা গুড়া, ধনে গুড়া, গোলমরিচ গুড়া গুলে নিয়ে মশলায় দিন। ভাল করে কষিয়ে কাঁকড়া ও লবণ দিন। একটু কষিয়ে পানি দিয়ে অল্প আঁচে ঢেকে রাখুন ১০ থেকে ১২ মিনিট (যতক্ষণ না কাঁকড়ার মধ্যে মসলা ঢুকছে)। এরপর টমেটো কুঁচি দিয়ে কিছুক্ষণ অল্প আঁচে রেখে দিন। টমেটো কুচি নরম হয়ে আসলে ধনেপাতা কুচি দিয়ে নামিয়ে নিন।

একবার সুন্দরবনের কাছে এক গ্রামে গিয়েছি।
প্রায় ত্রিশ জন মিলে সুন্দরবন যাচ্ছেন কাঁকড়া ধরতে। এটাই তাদের পেশা। আমি অনেক বলে-কয়ে তাদের সাথে চলে গেলাম। জায়গাটার নাম সম্ভবত ফিরিঙ্গি বা কালির চর এর দিকে। ইঞ্জিনওয়ালা নৌকা করে গেলাম। জোয়ারের সময় কাঁকড়া ধরতে হয়। জোয়ারের পানি বিকেলের দিকে নামতে থাকে। জোয়ারের সময় অসংখ্যা কাঁকড়া ভেসে আসে। লম্বা একটা দড়িতে, এক হাত সমান দূরে দূরে লইট্রা বা কাইকা মাছ বাঁধা থাকে। কাইকা মাছ খেতে এসেই কাঁকড়া আটকা পড়ে যায়। তখন শিকারী ঝাল দিয়ে কাঁকড়া ধরে ফেলে। তার সাথে বড় একটা পাতিল থাকে। সেই পাতিলে কাঁকড়া দিয়ে ভরে যায়। প্রায় তিন ঘন্টার মধ্যে পাতিল ভরে যায়।

আমি যতক্ষন তাদের সাথে ছিলাম-
বেশ ভয়ে-ভয়ে ছিলাম। যে কোনো সময় বাঘ চলে আসতে পারে। কুমির থাকতে পারে, সাপ থাকতে পারে, থাকতে পারে নানান রকম বিষাক্ত জীবজন্তু। ওদের মধ্যে কোনো ভয়ডর দেখলাম না। আপন মনে কাঁকড়া ধরে যাচ্ছে। সবাই কাজে ব্যস্ত। কেউ কোনো কথা বলছে না। আর এদিকে আমি ভয়ে জমে গেছি। জোয়ারের পানি হাটু পর্যন্ত হয়ে যায়। আরাম করে পা ফেলে হাটাও যায় না। মাটি থেকে এক ধরনের 'হাল' বের হয়ে থাকে। যার মাথা থাকে চোকক্ষা। খুব হিসাব করে পা ফেলতে হয়। আমার প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছিলো। ওদের সাথে কোনো খাবার ছিলো না। ছিলো শুধু এক বোতল পানি। তাও সেটা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিলো। কত রকম পেশা যে দুনিয়াতে আছে! কত কষ্ট মানুষের। সুন্দরবনে আসে কাঁকড়া ধরতে অথচ তাদের নেই কোনো নিরাপত্তা!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৪৯
১৬টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×