
ভুলে যাওয়া রোগ হয়েছে আমার।
বহু লেখা লিখব বলে ভেবে রাখি, কিন্তু লেখা আর হয় না। ভুলে যাই। বয়স বাড়ছে, ভুলে যাওয়া রোগ দেখা দিয়েছে। 'আজকের ডায়েরী' ধারাবাহিকটি লিখি না একমাস হয়ে গেছে। অথচ লেখার মতোন কত কথা জমা হয়ে আছে। গতকাল রাতের কথাটা বলে নিই। যদি আবার ভুলে যাই। গতকাল রাতে তিনটায় বিছানায় গিয়েছি। একটা মুভি দেখতে গিয়ে দেরী হয়ে গেছে। মুভির নাম 'গুড উইল হান্টিং'। চমৎকার মুভি। মুভির নায়ক উইল হান্টিং। তিনি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচারক। জীবনে লেখাপড়ার সুযোগ পান নি। কিন্তু তারপরও নামকরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের চেয়েও দ্রুতগতিতে গণিতের জটিল সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারে। কিন্তু এই যোগ্যতা নিয়ে বিন্দুমাত্র উচ্ছ্বাস নেই তার। জীবনের কঠিন সংগ্রামের মোকাবেলা করা উইল পেশা হিসেবে বেছে নেয় শ্রমিকের কাজ, পুলিশের সাথে দুর্ব্যবহার করে পৌঁছে যায় থানায়। আর সেখান থেকে সে মুখোমুখি হয় সাইকোথেরাপিস্ট শন ম্যাগুয়েরের।
রাতে বিছানায় যাওয়া মাত্র ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখলাম। বড় ভয়াবহ স্বপ্ন। স্বপ্নে দেখি আমি মরে গেছি। আমার বাসার সামনে আমার লাশ। আমাকে সাদা কাপড়ে মোড়ানো হয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যে আমার জানাজা হবে। ঘুমের মধ্যে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। আমি খুব ভয় পাচ্ছি। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। সুরভি কাঁদছে, পরী কাঁদছে, আমার মা কাঁদছে। পাড়া প্রতিবেশীরা তাদের শ্বান্ত্বনা দিচ্ছে। একজন বললেন, এভাবে এতক্ষন লাশ রেখে দেওয়া ঠিক না। দ্রুত কবর দিয়ে দিতে হবে। আমি চিৎকার করে বলতে চাচ্ছি, আমি মরি নাই। অথচ আমার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। জানাজার জন্য আমার লাশ মসজিদে নেওয়া হচ্ছে। তারপর কবরস্থানে। আমি লাফ দিয়ে উঠলাম। ঘুম ভাঙলো। আমার পুরো শরীর ঘামে ভিজে গেছে। পাশে সুরভি আরাম করে ঘুমাচ্ছে। এক গ্লাস পানি খেলাম। স্বপ্নে নিজের মৃত্যু দেখলে কি হয়? কে জানে! এখন স্বপ্নটা তত ভয়ের লাগছে না। কিন্তু রাতের বেলা খুব ভয় পেয়েছিলাম।
গত একমাসে কত কিছু ঘটে গেল।
আরিশের মুসলমানি হলো। আগামী শুক্রবার বাসায় অনুষ্ঠান। ঘরোয়া অনুষ্ঠান। গত সপ্তাহে আমি বাজারে গিয়ে আমার ওয়ালেট হারিয়ে ফেললাম। ওয়ালেটে পাঁচ হাজার টাকা ছিলো। মা একদিন আমার সাথে কঠিন ঝগড়া করলো। ঝগড়া করে উনি সকালবেলা বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন কাউকে কিছু না বলে। সারাদিন নানান জাগায় খোজাখুজি করে সন্ধ্যায় মাকে পেলাম এক আত্মীয়র বাসায়। জোর করে টেনে বাসায় নিয়ে এলাম। ভাবী সিড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়েছে। পায়ে বেশ ব্যথা পেয়েছেন। আমার ঘরের আলমারিতে লাগানো বড় কাচটা ভেঙ্গে গেলো। আরিশ ঘরে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ভেঙ্গেছে। পরীর ট্যাবটা পানি ভরতি বালতিতে পড়ে গেছে। ছোট ভাইয়ের ল্যাপটপে এক মগ পানি পড়ে গেছে। চারিদিকে শুধু খারাপ খবর। অবশ্য একটা অতি ছোট ভালো খবর আছে। ছাদে পেয়ারা গাছে অনেক গুলো পেয়ারা হয়েছে। পেয়ারা গুলো অনেক বড় হয়েছে। আগামীকাল পেয়ারা গুলো খাওয়া হবে।
আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ছিলেন। কিন্তু চুক্তির ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। তবে তিনি অবশ্য সেখানে ডিজি সাহেবের অনুরোধে গেছিলেন। এদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন কথা শুনে খুব রাগ হয়। এরচেয়ে ভালো আমি আমার কথা বলি। গত কয়েকদিন ধরে খুব দাত ব্যথা। পরিচিত এক ডাক্তারের কাছে গিয়েছি। সে বলল তিন চার দিন আসতে হবে। দ্বিতীয় দিন গিয়ে দেখি ডাক্তার নেই। নোটিশ ঝুলছে- ডাক্তার গ্রামের বাড়ি গেছে। তার মা অসুস্থ। আমি ডাক্তারকে ফোন দিলাম, ডাক্তার আরেক ডাক্তারের ঠিকানা দিলেন। সেই ডাক্তারকে দিয়ে চিকিতসা করালাম। গতকাল গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ডাক্তার নেই। আসতে দেরী হবে। রিসিপসনিস্ট মেয়েটা বসা। মেয়েটার সাথে অনেক কথা হলো। মেয়েটা অলরেডি চারটা বিয়ে করে ফেলেছে। ২১/২২ বছরের মধ্যে চারটা বিয়ে করেছে। চারজনই তাকে তালাক দিয়ে চলে গেছে। আমি বিয়ে না করলে মেয়েটাকে বিয়ে করতাম। দেখতাম তার সমস্যাটা কি? কেন সবাই মেয়েটাকে ছেড়ে চলে যায়। কি সুন্দর একটা মেয়ে!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



