
ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ স্পেন।
স্পেন এর সাথে পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশের সাথেই সু সম্পর্ক। এতটাই সুসম্পর্ক যে স্পেনের পাসপোর্টে ১২৩টি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়, যা পাসপোর্ট শক্তি সূচকে ৩য় স্থানে রয়েছে। স্পেনের আয়তন ৫ লক্ষ ৫ হাজার ৯ শত বর্গকিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ৫১তম দেশ। স্পেনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সবচেযে গুরুতর চেহারা নিয়েছিল। দেশটিতে কোভিড -১৯ আক্রান্ত হয়ে ২৮ হাজার ৩০০রও বেশি মানুষ মারা গেছে এবং মৃত্যুর এই সংখ্যা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে তৃতীয সর্বোচ্চ। কোভিড নাইনটিনে বিশ্বে সর্বাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে আমেরিকায়। এরপরই তালিকায় দু নম্বরে আছে স্পেন। এই তথ্য এসেছে জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি থেকে। বর্তমানে স্পেনে করোনা পরিস্থিতি বেশ উন্নতি করেছে। এখন পর্যটকেরা আসতে পারেন।

১৫৮১ সালে হল্যান্ড স্পেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
সামরিক জেনারেল ফ্রানসিস ফ্রাংকো একনায়ক হিসেবে পরবর্তী ৩৬ বছর স্পেন শাসন করেন। ১৯৭৫ সালে ফ্রাংকোর মৃত্যুর পর স্পেন আধুনিক, গণতান্ত্রিক, গতিশীল একটি ইউরোপীয় জাতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পায় এবং একটি ধনী, নগরায়িত, শিল্পোন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে একবিংশ শতক শুরু করে। আয়তনে স্পেন ইউরোপের ৪র্থ বৃহত্তম এবং দক্ষিণ ইউরোপের বৃহত্তম দেশ। মাদ্রিদ স্পেনের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। স্পেনের সরকারি নাম কিংডম অব স্পেন। দেশটির জনসংখ্যা জনসংখ্যা ৮ কোটি'র কিছু বেশি। মুদ্রার নাম ইউরো। প্রধান ধর্ম খ্রিস্টধর্ম। ভাষা: স্পেনিশ। জাতিসংঘে যোগদান: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৫। স্পেন এর জনগন ভদ্র। বর্তমান রাজনীতিবিদরা সৎ। দেশটির নাগরিকেরা দেশের সব নিয়ম এবং আইন পুরোপুরি মেনে চলেন। স্পেনের পুলিশেরা ঘুষ নেয় না। তারা জনগনের বন্ধু।

স্পেনের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে রয়েছে গম ও আঙুরের খেত আর অলিভ গাছ। স্পেন ভ্রমনে প্রতি বছর ৫ থেকে ৭ কোটি পর্যটক আসে। স্পেন সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অলিভ অয়েল উৎপাদন করে। ফুটবল স্পেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। রিয়েল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা দেশটির দুটি জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব। বর্তমানে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৭৫৫ কোটি যার মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় ১৯০ কোটি, বিশ্বের প্রায় ৫৬ দেশ মুসলিম প্রধান। স্পেনে মুসলিম পতনের পর পাঁচশো বছর অতিবাহিত হয়েছে। এখনো স্পেনে মুসলিম পুনর্জাগরণের স্বপ্ন দেখেন স্প্যানিশ মুসলিমগণ। বর্তমানে স্পেনের ৮ কোটি জনসংখ্যার ৫.৪ ভাগ মুসলিম। প্রায় ৩২ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস স্পেনে। যাদের মধ্যে সিংহভাগ থাকেন রাজধানী মাদ্রিদ এবং পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ কাতালোনিয়ায়। এদের মধ্যে বেশিরভাগিই হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং সুপারমার্কেটে চাকরি করেন। বাংলাদেশি কিছু ব্যবসায়ীও সেখানে আছেন।

স্পেনের জাতীয় খেলা ষাড়ের লড়াই।
এই ষাড়ের লড়াইয়ে যারা জিতে যায় তাদেরকে ম্যাটাডোর বলা হয়। বড় অদ্ভুত একটা খেলা! যারা দেখেন নি ইউটিউবে দেখে নিতে পারেন। বুল ফাইট নিয়ে লিখেছিলাম। বিশ্বের অনেক দেশ থেকে এই খেলা দেখতে এবং খেলতে বহু লোক স্পেনে আসে। স্পেনে আরেকটা খেলা আছে, টোমেটো খেলা। শহরের মানুষজন সব রাস্তায় নেমে আসে। একজন আরেকজনের গায়ে টমেটো ছুড়ে মারে। ইউরোপের সব গুলো দেশই সুন্দর। প্রায় ৫০টা দেশ রয়েছে ইউরোপে। 'হিংস্র' উৎসব আর সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের দেশ স্পেন। ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের দেশ স্পেন। প্রাচীনকালে ফিনিসীয়, কার্থেজীয় ও সবশেষে রোমানরা অঞ্চলটি শাসন করে। দেশটি দীর্ঘ মুসলিম শাসনামলে শিক্ষা, গণিত, ভূগোল, স্থাপত্য, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও কাব্যচর্চায় ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলো। ১৫ শতকে নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নেতৃত্বে স্পেনের রাজার জাহাজের বহর আমেরিকা মহাদেশে পদার্পণ করে।

তাগুস, গােয়াদিয়ানা ও গােয়াদালকুইভির স্পেনের উল্লেখযােগ্য নদ-নদী।
স্পেনের প্রাচীন নগরীসমূহের একটি কর্ডোভা। এন্তাকীরা হলো স্পেনের জনপ্রিয় এক চিত্তবিনোদনের শহর। এখানে আছে অসংখ্য গগনচুম্বী হোটেল ও রেস্তোরা। সমুদ্র উপকূল উপভোগের জন্য এই জায়গাটি পুরো স্পেনজুড়ে প্রশংসিত। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে স্পেনের সরকার কাগজেকলমে গণতান্ত্রিক হলেও আসলে একটি বিশেষ শ্রেণীর হাতে স্পেনের রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ক্রমে সংঘর্ষ ও নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়ে। ১০০২ সালে ইবনে আবি আমিরের মৃত্যুর পরপরই মুসলিম স্পেনে বিশৃঙ্খলা নেমে আসে। সমগ্র উপদ্বীপ কম-বেশি ৩৪টি ক্ষুদ্র স্বাধীন শাসকের হাতে চলে যায়। তারা একে অপরের সাথে নিজের স্বার্থ নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। এর থেকে মূলত লাভবান হচ্ছিল উত্তর-পশ্চিম অংশের ক্যাথলিক রাজারা। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে স্পেনের মাটিতে পা রাখে মুসলিম বাহিনী। মুসলিম সেনাপতি তারিক ইবনে জিয়াদের নেতৃত্বে স্পেনের অত্যাচারী রাজা রডারিককে পরাজিত করে তারা ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



