
পুরো বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে এমন একজন লেখক- হুমায়ূন আহমেদ। তিনি নেই এই কথা মনে পড়লেই কোত্থেকে যেন এতগুলো কষ্ট এসে জমা হয় বুকে। আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখক। হয়তো আজীবন লিখলেও উনার সম্পর্কে আমার সব অনুভূতি বোঝাতে পারব না। কোনোদিন না। শব্দের এই যাদুকরের কাছে আমাদের অনেক ঋণ। একবার ভাবুন, হুমায়ুন আহমেদ বলে কোনো লেখকের জন্ম হয়নি।
চোখ ভরতি জল নিয়ে আপনাকে বিদায় জানিয়ে ছিলাম। আপনার এক একটা বই পড়তাম আর সেই বইয়ের- ঘোর কাটাতে আমার অনেকদিন লাগতো। বস্তুত আপনার কাছ থেকে যা পেয়েছি- তা পরিমাপ করার সামর্থ্যও কারো নেই! দুঃখ একটাই এই বাংলায়, এত চমৎকার আর সাবলীলভাবে গল্প বলার আর কেউ রইলো না! জীবনকে বোঝার জন্য- জীবনকে উপভোগ করার জন্য, হুমায়ুন আহমেদ একটি প্রতিষ্ঠান-একটি আশ্রয়স্থল। এই দিনে মনটা খুব অস্থির হয়ে থাকে... এক আকাশ শুন্যতা ভর করে বুকে। কখনও হতে চাইনি- নজরুল অথবা আইনস্টাইন, হতে চেয়েছি সচেতনভাবে- হিমু। স্যালুট হুমায়ূন আহমেদ আপনাকে, কোনদিনও আপনাকে ভুলতে পারব না।
হুমায়ূন আহমেদের একটা স্বপ্ন ছিলো। তা হলো একটি ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরি করা। আমি অপেক্ষায় আছি কবে সেটার কাজ শুরু হবে..... কবে আমরা একটি ক্যান্সার হাসপাতাল দেখতে পারবো... স্যার নিজেও মনে হয় অপেক্ষায় আছেন। একটা সময় ছিল হিমু সেজে দিন-রাত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতাম। স্যার আপনার জন্য আমার কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে। আপনার সমতুল্য আর কেউ নেই। আমার চোখে আপনি একজন মহাপুরুষ।
মৃত্যুর ওপারে ঠিক কেমন আছেন জানিনা। তবে পৃথিবী থেকে যে ভালবাসা আর দোয়া নিয়ে বিদায় নিয়েছেন তাতে বিধাতা আপনাকে ভালো'ই রাখার কথা। হোটেল গ্রেভারইন”-এ আপনার শূণ্য থেকে একশ পাবার ঘটনা পড়ে আমি নিজেকে অনুপ্রাণিত করেছিলাম। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বরের পরে আজ পর্যন্ত হুমায়ূন আহমেদের মত আর একজন সাহিত্যিক জন্মেনি আমাদের দেশে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



