
১১ টি পর্নোগ্রাফিতে দেখা গিয়েছিল মিয়া খলিফাকে।
মিয়া খলিফা জন্মগ্রহণ করেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ লেবাননে ১৯৯৩ সালে। মিয়া খালিফা বলতেই প্রথমেই মনে পড়ে পর্নস্টার, নীল ছবিতে অভিনয় করা একজন বিখ্যাত পর্নস্টার। ব্যস এই পরিচয়েই আমরা মিয়া খালিফাকে চিনি এবং কত মিথ বানানো হয় মিয়া খালিফাকে নিয়ে, কত ব্যঙ্গ করা হয়। কিন্তু মিয়া খালিফা জন্মসূত্রে লেবাননবাসী, হ্যাঁ সেই লেবানন! যেখানে কদিন আগেই ঘটে গেছে ভয়াবহ বিস্ফোরন। লেবাননের বৈরুটে ২ হাজার ৭৫০টন মজুত করা আ্যমোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরিত হয়েছিল। মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৫০র উপর এবং ৫০০০ মানুষ গুরুতর আহত। লেবাননের সরকার পদত্যাগ করেছেন, মানুষগুলো হাহাকার করছে, চিকিৎসা নেই, জল নেই, খাবার নেই, সেরকম দেশের পাশে মিয়া খালিফা দাঁড়িয়েছেন।
খলিফার সম্পদের মোট মূল্য দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মিয়া খালিফা যে চশমা পরে পর্ন ছবিতে সাবলীল অভিনয় করেছেন, সেই চশমা উনি নিলামে দিয়েছেন, সেখানের থেকে সংগৃহীত অর্থ তিনি ত্রাণ হিসেবে দিয়েছেন। মৃতদের পরিবার এবং আহত মানুষদের পরিবারের জন্য প্রায় এক লক্ষ ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৪ লাখ টাকা। একজন মানুষ হিসেবে মিয়া খালিফার ভক্ত হলাম আজ থেকে। যদিও মিয়ার কোনো ভিডিও আমি এখনও দেখি নি। মিয়ার বাবা-মা জানিয়েছেন, মিয়ার সঙ্গে নাকি তাঁদের সম্পর্কই নেই। কারণ ও যে কাজটা করে সেটা আমাদের পরিবার বা আমাদের দেশ লেবাননকে কোনও ভাবেই সম্মানিত করে না।
আমার ধারনা, মিয়া না বুঝে এবং আবেগের বশে পর্ণ ইন্ড্রাস্ট্রিতে পা দিয়েছিলেন।
অবশ্য এখন তিনি তার ভুল বুঝতে পেরেছেন। তিনি পর্নো ইন্ডাস্ট্রি থেকে মোট ১২ হাজার ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৮ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা) আয় করেছেন। পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার পর সেখান থেকে আর একটা পয়সাও পাননি। ২০১৪ সালে মিয়া খালিফার হিজাব পরা একটি ছবি প্রকাশিত হয়। তারপর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস। মিয়া এখন ক্রীড়া উপস্থাপকের কাজ করছেন। এই কাজেই মিয়া খালিফা নিজের ভবিষ্যত গড়তে চান। লেবানন থেকে ২০০০ সালে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় চলে আসেন মিয়া। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক। পড়াশোনায় বেশ ভাল ছাত্রী ছিলেন মিয়া। কলেজে অধ্যয়নের সময় খলিফা বারটেন্ডার হিসাবে কাজ করতেন এবং কিছু মডেলিংয়ের কাজও করেছিলেন।
আশা করি, ভবিষ্যতে হিন্দি কোনো মুভিতে দেখা যাবে মিয়াকে।
২০১১-তে মাত্র ১৮ বছর বয়সে একজন আমেরিকানকে বিয়েও করেন মিয়া। কিন্তু সে সম্পর্ক টেকেনি। মিয়ামিতে সাধারণ চাকরি করতে গিয়েই পর্ন ছবিতে অভিনয়ের অফার পান। তারপরই পাল্টে যায় তাঁর জীবন। বর্তমানে খলিফা লস অ্যানঞ্জেলেসে বাস করছেন। মিয়া খলিফা পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে তিন মাস ছিলেন। কিন্তু তার প্রভাব বহু বছর ধরে চলেছে। লাখ-লাখ মানুষ তাঁকে মনে রেখেছে। তখন তাঁর বয়স ছিল ২১ বছর। এখন তার বয়স ২৭ বছর। পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার পর সেখান থেকে আর একটা পয়সাও পাননি। পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার পর সাধারণ কোনও কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন, এটা খুব ভয়ের। মিয়া ভালো থাকুক। সুস্থ থাকুক।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



