somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

'শকুন্তলা দেবী' হিউমান ম্যাথামেটিকাল জিনিয়াস

১৯ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কিছু মানুষের অঙ্কের প্রতি ভালবাসা থাকে।
আমি নিজে অঙ্ক কম বুঝি। কিন্তু অঙ্ক আমার প্রিয় বিষয় গুলোর একটা। আজ আপানদের 'শকুন্তলা দেবী'র গল্প বলব। তিনি কম্পিউটারের থেকে ১২ সেকেন্ড আগে সমাধান করেছিলেন জটিল সব অঙ্ক। যদিও ছোটবেলায় কোনও দিন স্কুলে পর্যন্ত যাননি তিনি। মুখে মুখেই যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগ ঝটাপট করে ফেলতে পারে পাঁচ বছর বয়সেই। বাবা মেয়েকে আদর করে ডাকেন ‘ক্যালকুলেটর।’ শৈশবে বাবার দেওয়া সেই নামই পরবর্তী কালে একবাক্যে মেনে নেয় গোটা বিশ্ব। নিজের শিক্ষক নিজেই ছিলেন তিনি। পাশে পেয়েছিলেন বাবাকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মেয়েকে নিয়ে ‘রোড শো’ করেছিলেন বাবা। পয়সা রোজগারের জন্য নয়, শকুন্তলার প্রতিভাকে পরিচিতি দিতে। প্রচন্ড প্রভাবান ছিলেন শকুন্তলা দেবী।

শকুন্তলা দেবী আজ আর বেঁচে নেই।
দেশের গর্ব নারী-শক্তির অনন্য প্রতীক শকুন্তলা দেবীর মৃত্যু হয়েছে ২০১৩ সালে। আজও তাঁর জন্মদিন ৪ নভেম্বরকে বিশেষ সম্মান দেয় গুগল ডুডল। সম্প্রতি তাঁর জীবনী নিয়েই সিনেমা বানিয়েছেন পরিচালক অনু মেনন। সিনেমার নাম- 'শকুন্তলা দেবী'। মুভিটা আমি দেখলাম। চমৎকার মুভি। আমার ধারনা, অঙ্কবিদ রামানুজন থেকেও এই মহিলার ক্ষমতা বেশী। তার অঙ্ক করার স্টাইল দেখে মনে হবে তার অলৌকিক ক্ষমতা আছে। তার বাবা যখন তাসের ম্যাজিক দেখাতেন, প্রতিটা তাসের নম্বর তাঁর মুখস্থ হয়ে যেত। একটা সময় বাবা আবিষ্কার করেছিলেন, মেয়েকে তাসের খেলায় হারানো দুষ্কর। পিচ্চি মেয়ে স্মরণ ক্ষমতায় টেক্কা দিয়েছে তার বাবাকেও। পাঁচ বছরের মেয়ের ব্যতিক্রমী মেধার কথা চাপা থাকে না। ছড়িয়ে পড়ে গোটা বেঙ্গালুরুতে। ১৯২৯ সালে বেঙ্গালুরুর গোঁড়া হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম শকুন্তলার। বাবা ছিলেন ধর্মের আস্ফালনের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এক বিপ্লবী।


ছবিতে শকুন্তলা দেবী এবং তার স্বামী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, জাপান, শ্রীলঙ্কা, ইতালি, কানাডা, রাশিয়া, ফ্রান্স, স্পেন, মরিশাস, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে নিজের স্কিল দেখিয়ে দিলেন শকুন্তলা। অবাক হলেন নামী দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-গবেষকরা। ১৯৭৭ সাল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ‘সাদার্ন মেথোডিস্ট ইউনিভার্সিটি’তে ডাক পড়ল শকুন্তলার। ততদিনে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েছে গোটা মার্কিন মুলুকে। ২০১ ডিজিটের নম্বরের ২৩ তম রুট করতে বলা হলো তাঁকে। শকুন্তলা কষে দিলেন ৫০ সেকেন্ডে।
শকুন্তলা দেবীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির সাইকোলজির অধ্যাপক আর্থার জেসন। নানা রকম জটিল অঙ্কের সমস্যা দিয়ে তিনি নিশ্চিত হন, এই মেয়ের ব্রেন কাজ করে অসামান্য ক্ষিপ্রতায়।

শকুন্তলার বাবার একটি সার্কাস কোম্পানি ছিল।
সেই সার্কাস কোম্পানি বন্ধ করে তখন তিনি মেয়েকে নিয়ে রোড শো শুরু করেন। শকুন্তলা দেবী 'হিউম্যান কম্পিউটার' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এই খেতাব শকুন্তলা দেবীর মোটেই পছন্দ ছিল না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, কম্পিউটারের থেকে মানুষের মস্তিষ্ক অনেক বেশি ক্ষমতা রাখে। তাই কম্পিউটারের সঙ্গে তাঁর তুলনা পছন্দ ছিল না।
কলকাতার আইএএস অফিসার পরিতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শকুন্তলা দেবীর। সেটা ১৯৬০ সালের মাঝামাঝি। বাঙালি পরিবারের বউ শকুন্তলা সব আদব কায়দাই রপ্ত করেছিলেন। জীবনও চলছিল চেনা ছন্দেই। তাল কাটে কয়েক বছর পরে। শকুন্তলা বুঝতে পারেন, তাঁর স্বামী আদতে সমকামী। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল!

ছবিতে শকুন্তলা দেবী এবং তার একমাত্র কন্যা।

সমকামিদের মানসিকতা নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা শুরু করেন শকুন্তলা। এই গবেষণার ফসল হলো তাঁর প্রথম বই ‘দ্য ওয়ার্ল্ড অব হোমোসেক্সুয়ালস।’ সমকামিতা যে অপরাধ নয়, সমকামীদের যাপন-পদ্ধতি শুধু আলাদা, এই বইয়ের প্রতি পাতায় সেটাই বুঝিয়েছিলেন শকুন্তলা দেবী। এছাড়াও জ্যোতিষশাস্ত্র নিয়েও তাঁর লেখা কয়েকটি বই রয়েছে। রান্না সম্পর্কেও তিনি কয়েকটি বই লিখেছিলেন। তাঁর লেখা কয়েকটি বইয়ের নাম ‘ফান উইদ নাম্বার’, ‘নাম্বারস অ্যান্ড পাজলস টু পাজল ইউ’, ‘অ্যাস্ট্রোলজি ফর ইউ’, ‘পারফেক্ট মার্ডার’ ইত্যাদি। শকুন্তলা দেবীর বিবাহিত জীবনের প্রাপ্তি এক কন্যা। নাম অনুপমা ব্যানার্জি।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাইকোলজির প্রফেসর শকুন্তলা দেবীর কাছে গণিতের পাঠ নিয়েছিলেন। শকুন্তলা তীব্র মনোবল ও সাহস নিয়ে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন। তিনি মুম্বাই ও তেলেঙ্গানায় ইন্দিরা গান্ধীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেব নির্বাচন করেছিলেন। নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন। শকুন্তলা দেবী বিশ্বের ৫০টিরও অধিক দেশ ভ্রমণ করে তার গণিতের প্রতিভা ছড়িয়েছিলেন। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নাট্যমঞ্চে তার গণিতের প্রতিভা প্রদর্শন করেন।

সমাজের অসহায় দুস্থ মানুষদের জন্য শকুন্তলার মন প্রতিনিয়ত কাঁদত। যে কোনো দানের কাজে সর্বাগ্রে শকুন্তলার নাম থাকত। বিশেষ করে বস্তি এলাকার শিশুদের জন্য তার সাহায্যের হাত সবসময়ই খোলা থাকত। এছাড়াও গরিব পরিবারের মেয়েদের নানাভাবে সাহায্য করতেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৩:৩৯
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারত খারাপ, তবে নিমন্ত্রণ পত্র ভালো

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৫



দুই ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়েছে, প্রবেশও করতে দেয়নি। তারপরও ঘোষণা দিলেন - আবার আমন্ত্রণ পেলে যাবেন।

ভারতবিরোধী কথা বলা ছিলো তার রাজনৈতিক স্ট্যান্ড পয়েণ্ট, কারো কাছে নতি স্বীকার করবো... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×