
(বহু বছর আগে একটা গল্প পড়েছিলাম। এখন গল্পটির নাম মনে নাই। এমন কি লেখকের নামটাও মনে আসছে না। কিছুতেই মনে আসছে না। অনেক চেষ্টা করেছি। তবে গল্পটির কিছু কিছু ঘটনা মনে আছে। যতটুকু মনে আছে আমি লিখলাম। কেউ কি বলতে পারবেন, গল্পটির নাম কি? লেখক কে?)
হ্ত দরিদ্র একটি পরিবার।
গ্রামের সবচেয়ে দরিদ্র সম্ভবত এই পরিবারটি। কোনো জমিজমা নেই তাদের। নেই কোনো জমানো টাকা পয়সা। দিন আনি দিন খাই টাইপ অবস্থা। শুধু একটা ঘর আছে, ঘরের সামনে ছোট্র একটা উঠান। তাও ঘরটি মাটির। উপরে খড় আর ছন। বর্ষাকালে খুব কষ্ট হয় এই গ্রামে। বহুদিন ধরে মেরামত করা হয় না তাই নানান ফুটোফাটা দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়তেই থাকে। মানুষ যে এত দরিদ্র হয় পরিবারটিকে না দেখলে বুঝার কোনো উপায় নাই। পরিবারটি বছরে একদিনও ভালো খাবার খেতে পায় না। নিরবে মা চোখের জল ফেলেন।
ছোট ছোট দুই ভাই।
একজনের নাম গোপাল। আরেক জনের নাম মনে নাই আমার এই মুহুর্তে। দুই ভাই খালে বরশি দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু বরশি তে কোনো মাছ'ই গাতছে না। বড় ভাই তবু চেষ্টা করেই যাচ্ছে। ছোট ভাই বলল, দাদা আব্বা যদি মরে যায় তাহলে আমরা খাবো কি? আমাদের তো না খেয়েই থাকতে হবে। বড় ভাই চুপ। সে ছোট ভাইকে কি বলবে বুঝতে পারছে না। কয়েকদিন আগে তাদের বাবা ভ্যান চালাতে গিয়ে একসিডেন্ট করে। গুরুতর অবস্থা। ডাক্তার বলেছেন, সে কোনো সময় ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বাকিটা ভগবানের ইচ্ছা। ছোট ভাইয়ের আছে শুধু ক্ষুধা। ভালো ভালো খাবার খেতে তার খুব ইচ্ছা হয়।
বাপ ঘরে অসুস্থ। বলা যায় মৃত্যু শয্যায়।
কোনো ইনকাম নাই তাদের। মা কাঁদে। এদিকে গোপাল স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলো। কারন স্কুলের বেতন দেওয়ার মতো সামর্থ্য তার বাবা বা মায়ের নেই। যদিও গোপাল স্কুল খুব ভালোবাসে। তিনবেলা খাবার জোটে না, আবার স্কুল! দুইভাই ঠিক করলো কিছু একটা করতে হবে। তারা দুই ভাই গ্রামের পয়সাওয়ালা লোকদের বাড়িতে গিয়ে নানান রকম কাজ করে দিতে লাগলো। কাজ বলতে, কুয়ার পাড়টা ঘষে পরিস্কার করে দেওয়া, গাছ থেকে সুপারি বা ডাব পেরে দেওয়া। বিনিময়ে কেউ কেউ তাদের মুড়ি গুড় বা পানি ভাত খেতে দেয়। আবার কেউ কাজ শেষে ধমক দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়েও দেয়।
দুই ভাই জঙ্গলা জায়গা থেকে শাক সংগ্রহ শুরু করলো।
সেই শাক বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে শুরু করলো। পাঁচ, দশ টাকা তাতে পাওয়া যেতে লাগলো। একদিন রাতে গোপাল স্বপ্নে দেখলো- তার বাবা মারা গেছেন। তার মা খুব কান্না করছেন। গোপাল অবাক হয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। মা কাঁদছে আর বলছে, মড়া পোড়ানোর খরচও তো আমাদের নেই। এখন কি হবে! বাধ্য হয়ে মা দৌড়ে আর কাঁদতে কাঁদতে যাচ্ছেন রেললাইনে আত্মহত্যা করার জন্য। তখন গোপাল বলছে মা যেও না। আমাদের কি হবে? গোপাল খুব কাঁদতে থাকে। আর মায়ের পিছু পিছু দৌড়াতে থাকে। কিন্তু মা ঠিকই রেললাইনে মাথা দিয়ে দেয়। এই স্বপ্ন দেখে গোপাল খুব ভয় পেলো। ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠলো।
কয়েকদিন পর জন্মাষ্টামী।
ছোট ছেলে মাকে জিজ্ঞেস করে- জন্মাষ্টমী কি? মা বলেন, কৃষ্ণের জন্মদিন। ছেলে বলে মা আমার জন্মদিন কবে? মা বলেন গরীবের জন্মদিন বলে কিছু থাকে না। যাই হোক, তারা দুই ভাই বাইরে বেড়াতে গেলো। শাক টোকাতে। শুরু হলো প্রচুর বৃষ্টি। এমন বৃষ্টি যে পুরো গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে যাবে যেন। গাছ থেকে টুপটাপ পাকা তাল পড়তে লাগলো। শাকের পাশাপাশি তারা দুইটা তাল পেলে। বাজারে শাক আর তাল বিক্রি করলো। বিক্রির টাকা ঘুমন্ত মায়ের শাড়ির আচলে বেঁধে দিলো গোপাল। মা যেন রেললাইনে টাকার জন্য আত্মহত্যা না করে। বাবা অসুস্থ, মা মরে গেলে তারা দুই ভাই বাঁচবে কেমন করে?
বৃষ্টি, ঝড় তুফান দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
তবে মানুষের দুঃখ কষ্ট দীর্ঘস্থায়ী হয়। জানা গেলো জন্মষ্টামীতে চৌধুরী বাড়িতে বিশাল পূজার আয়োজন করা হবে। এবং তারা পুরো গ্রামের সব মানুষকে নিমন্ত্রন করবে। তারা দুই ভাই খুব খুশি হলো। অনেকদিন তারা পেট ভরে ভালো মন্দ খায় না। চৌধুরী বাড়িতে তারা পেট ভরে ইচ্ছে মতোন খাবে। কিন্তু দেখা গেল চৌধুরী বাড়ির কর্তা গ্রামের সবাইকে নিমন্ত্রন করলেও তাদের করেনি। দুই ভাইয়ের ভীষন কষ্ট লাগে। সেদি দুপুরে দুই ভাই অন্য দিনের মতো তেল মরিচ লবন ছাড়া শাক ভাজি দিয়ে ভাত খায়। যদিও ছোট ভাই স্বপ্নে দেখেছিলো চৌধুরী বাড়িতে তারা নানান রকমক মজাদার খাবার খাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



