somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল (পনের)

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ সারাদিন বৃষ্টি।
ভুল বললাম, বৃষ্টি না। মেঘলা। আকশ ভরা মেঘ। কিন্তু ঝুমঝুম বৃষ্টি হয়নি। তবে একআধবার অতি সামান্য গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হয়েছে। টিভিতে খবরে বললো- আগামী দু'দিনও নাকি বৃষ্টি হবে। বৃষ্টির কারনে শাহেদ আজ বাইরে যেতে পারে নি। সারাদিন ঘরে বন্ধী। শাহেদ জামাল সারাদিন বাসায় শুয়ে বসে থেকেছে। পুরোনো ম্যাগাজিন পড়েছে। দুপুরে ভাবী খেতে ডেকেছেন। লক্ষ্মী ছেলের মতোন টেবিলে বসে খেয়ে নিয়েছে। ভাবী আজ খিচুড়ি রান্না করেছেন। খেতে চমৎকার হয়েছে। মুগ আর মসুরের ডাল দিয়ে রান্না করেছেন। সাথে ইলিশ মাছ ভাজা এবং দেশী মূরগী ভূনা। তিন রকমের আচার ছিলো, সালাদ ছিলো। সব মিলিয়ে দুপুরের খাওয়াটা সেই রকম হয়েছে। সকাল থেকেই শাহেদ জামালের আজ খিচুড়ি খেতে ইচ্ছা করছিলো। কিন্তু সে কাউকে বলেনি। অথচ তার খিচুড়ি খাওয়ার ইচ্ছাটা পূরন হয়ে গেল! আসলে মাঝে মাঝে মানুষের জীবনে কাকতালীয় ব্যাপার গুলো ঘটে বলেই জীবনকে এত সুন্দর বলে মনে হয়।

ঘরের মধ্যে সিগারেট খাওয়া সম্পূর্ন নিষেধ।
তাই শাহেদ জামাল ছাদে গেলো। ছাদে গিয়ে আরামে সিগারেট খাবে। ধোঁয়ায় কারো কোনো সমস্যা হবে না। হেব্বি খাওয়া দাওয়ার পর আরাম করে একটা সিগারেট না খাওয়া পর্যন্ত অস্থির লাগে। শাহেদ ছাদে গিয়েই অদ্ভুত সুন্দর দু'টা দৃশ্য দেখলো। এই দৃশ্য শাহেদ জামালের অনেক দিন মনে থাকবে। ছাদে অসংখ্য ফড়িং। একসাথে এত ফড়িং শাহেদ আগে কখনও দেখে নি। ভনভন করে এলোমেলো ভাবে উড়ছে। কয়েকটা ফড়িং শাহেদ জামালের কপাল আর গাল ঘেষে গেলো যেন। নীলাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে ছাদে এত ফড়িং কেন? ফড়িং গুলো কোথা থেকে এলো? শাহেদ সিগারেট ধরালো। সিগারেটে লম্বা একটা টান দিতেই তার চোখ পড়লো পাশের বাড়ির ছাদে। সেখানে খুব সুন্দর একটা মেয়ে। ছাদে কাপড় মেলতে আসছে। মেয়েটা মাত্রই গোছল শেষ করেছে। তার চুল ভেজা। দুই হাত ভর্তি কাঁচের চুড়ি। শাহেদ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে!

দুপুর আড়াইটা।
আকাশ মেঘলা। সকাল থেকেই বৃষ্টি হবে হবে করছে কিন্তু বৃষ্টি হয়নি। শাহেদ জামালদের ছাদটা ছোট্র কিন্তু সুন্দর। টিনের ড্রামে বেশ কয়েকটা গাছ আছে। গাছ গুলো বেশ ভালোই বড় হয়েছে। এই গাছ গুলোই ছাদের সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। শাহেদদের বাড়ির চার পাশেই চারটা বাড়ি। প্রতিটা বাড়ির ছাদ গুলো একটা সাথে আরেকটা লাগানো। শাহেদদের বাম দিকের বাড়িটার ছাদে একটা মেয়ে ভেজা কাপড় মেলে দিচ্ছে। শাহেদ মুগ্ধ হয়ে মেয়েটাকে দেখছে। মেয়েটাকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে। মুখটা ভীষন মিষ্টি। মাথার ভেজা চুল গুলো খোলা। ভেজা চুল থেকে পানি চুইয়ে চুইয়ে পড়ে কোমরের কাছে অনেকখানি ভিজে গেছে। শাহেদ মেয়েটাকে বেশ কয়েকদিন ধরেই দেখছে। সম্ভবত নতুন ভাড়া এসেছে। শাহেদ এর সাথে এখনও মেয়েটার কোনো কথা হয়নি। তবে চোখাচোখি হয়েছে অনেকবার। শাহেদ ঠিক করেছে আজ মেয়েটার সাথে কথা বলবে। বলবেই। শাহেদ জিজ্ঞেস করলো- তোমার নাম কি? মেয়েটা কোনো জবার দিলো না। তবে একটু হাসলো। শাহেদ বলল, এটা আমাদের বাড়ি। মেয়েটা হাসলো।

মেয়েটা কথা বলছে না কেন?
কিছু জিজ্ঞেস করলেই শুধু হাসে। হাসিটা অনেক সুন্দর। একদম বুকে এসে লাগে। শাহেদ বলল, তুমি কথা বলছো না কেন? প্লীজ কথা বলো? আমি দুষ্টলোক নই। তাছাড়া আমি তোমার সাথে প্রেমট্রেমও করবো না। আমার প্রেমিকা আছে। তার নাম নীলা। সে নাখালপাড়া থাকে। কিছু দিনের মধ্যেই আমার একটা চাকরি হবে। তারপর আমি নীলাকে বিয়ে করবো। সব ঠিকঠাক। কাজেই তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারো। আমি তোমাকে কোনো বিরক্ত করবো না। আমার স্বভাব এরকম না। আমি ভালো লোক। মেয়েটা হাত আর ঠোঁট নেড়ে বুঝিয়ে দিলো সে বোবা। সে কথা বলতে পারে না। শাহেদ ভীষন চমকে গেলো। এত সুন্দর একটা মেয়ে অথচ কথা বলতে পারে না! শাহেদ মনে মনে বলল, হে আল্লাহ এটা তুমি মেয়েটাকে কেমন শাস্তি দিলে! কথা না বলে মানুষ থাকতে পারে! শাহেদ মেয়েটাকে আরো কিছু জিজ্ঞেস করতো, কিন্তু মেয়েটা হাসি মুখে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। মেয়েটার জন্য শাহেদ খুব কষ্ট হতে লাগলো।

শাহেদ জানে এই মেয়েটার সাথে অসংখ্যবার দেখা হবে।
এবং মেয়েটার সাথে তার ভালো একটা সম্পর্ক হবে। সম্পর্কের প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বের পরেই আসে বিশ্বাস এবং নির্ভরশীলতা। মেয়েটা অবশ্যই শাহেদ জামালকে বিশ্বাস করবে। শাহেদ জামালকে তার নানী বলেছিলেন, যারা কথা বলতে পারে না, তারা কানেও শুনতে পায় না। কানে না শোনার কারণেই তারা কথা বলতে পারে না। মেয়েটা কি কানেও শুনতে পায় না! শাহেদ মনে মনে ভাবলো, যে বোবা সে কখনো কাউকে গালি দেয়নি, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়নি, গীবত করেনি। জন্ম থেকেই যারা অন্ধ, বোবা তাঁরা তো সবচেয়ে সৌভাগ্যবান। তাঁরা জান্নাতের উঁচু স্থানগুলোতে এমনসব জিনিস অনন্তকাল ধরে দেখবে এবং শুনবে যা কোনো হৃদয় কখনো কল্পনা করেনি। শাহেদ ঠিক করলো নীলার সাথে মেয়েটার পরিচয় করিয়ে দেবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ২:৩৫
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×