
সামান্য সচেতন হলেই কিন্তু জীবনটাকে অনেক বেশি উপভোগ করা যায়। দরকার শুধু সামান্য চেষ্টার। মানুষের জন্ম হয়তো একটি উপায়েই হয়ে থাকে কিন্তু মৃত্যু ঘটতে পারে হাজারটা কারণে। হতে পারে তা স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত মৃত্যু। হতে পারে কোনো দুর্ঘটনা। আবার এই মৃত্যু আসতে পারে কোনো রোগজনিত কারণ থেকে। পৃথিবীতে হাজার রকমের রোগে প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে। একদিন যেহেতু মৃত্যু হবে। হবেই। তাই মৃত্যুটাও আনন্দময় করা যায়। কেউই কষ্ট পেয়ে মরতে চায় না। রোগশোকে না ভূগে ঘুমের মধ্যে আরামে মরে যেতে যেতে চায়। ঘুমের মধ্যে মৃত্যু খুব কম মানুষের হয়।
সকালে ঘুম থেকে উঠে চার গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এরপর বাথরুমে যান। এছাড়া সারা দিনে প্রচুর পানি খাবেন। পানি খাওয়ার নাম হচ্ছে হাইড্রোথেরাপি রা জলচিকিৎসা। মূলত এটি হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছরের প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে- ঘুম থেকে উঠে ধীরে ধীরে চার গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস করলে প্রায় ৩৬ ধরণের রোগ হয় না এবং হলেও সেরে যায়। পানির চেয়ে ভালো বন্ধু দুনিয়াতে আর কেউ না।
দিনে কমপক্ষে এক হাজার মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খেলে মানুষ চির তরুণ থাকে। তবে ট্যাবলেট খেলে কিছুই উপকার পাওয়া যায় না। খেতে হবে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ তাজা ফলমূল আর শাকসবজি। প্রতিদিনই খেতে হবে। ভিটামিন সি করোনা এবং ক্যান্সার ঠেকাতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি কোলেস্টেরলের মাত্রাকে আয়ত্তে রাখে ও হৃৎপিন্ডকে রক্ষা করে। প্রচুর পরিমাণে আধা-সেদ্ধ শাক-সবজি, তরিতরকারি এবং খুব অল্প পরিমাণে ভাত-রুটি, এই হওয়া উচিত আপনার দৈনন্দিন মূল খাদ্য। ভাজাভুজি খাবেন না। অতিরিক্ত তেল, চর্বি, ঘি, মাখন খাবেন না।
ছোট-বড় সব ধরনের মাছ খাবেন। সমুদ্রের মাছ খাওয়া অভ্যাস করতে পারলে তো খুবই ভালো। কেননা, ওটা মহৌষধ। সূর্যমূখী ফুলের বীজ হচ্ছে হার্টের ভেষজ ওষুধ। রান্নায় সূর্যমূখী তেল ব্যবহার করলে হার্টের সুরক্ষা যেমন হয়, তেমনি হার্টের অসুখ থাকলে তা সারাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অল্প একটু টক দই খাওয়ার অভ্যাস করুন। টক দই উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। আপেল নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত কথাটি হলো, প্রতিদিন একটি করে আপেল খান আর ডাক্তারকে দূরে রাখুন। আমি বলব, আপেলের সাথে দু'টা কলাও রাখুন।
প্রতিদিন, বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে, আট থেকে দশ কিলোমিটার হাঁটতে হবে। প্রথম আস্তে, আস্তে হাঁটতে শুরু করে, হাঁটার স্পীড বাড়াতে হবে এবং একদম শেষের দিকে হাঁটার স্পীড কমিয়ে আনতে হবে। আমাদের শরীর খুব জটিল কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারসাম্য ঠিক রাখে। গাছপালা, সবুজ মাঠ, খোলামেলা যেখানে মুক্ত বাতাসের অভাব নেই তেমন জায়গায়। একটু সাঁতার কেটে নিলে তো স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে যাওয়া হলো। সবুজ শাকসবজি যতো খাওয়া হয় ততো ভালো। ভাতের চেয়ে শাকসবজির পরিমাণ বেশি হলেও সমস্যা নেই।
ভবিষ্যত সম্পর্কে আশাবাদী, বিশ্বাস মানুষকে শারীরিক এবং মানসিক অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে পারে। আপনি কখনই জানেন না আপনার জন্য কি অপেক্ষা করছে। আপনার নিজের উপর বিশ্বাস রাখা দরকার। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে আপনার যা ভালো লাগে তাই করুন (যেমন আঁকা, নাচ, গান, রান্না, ঘর সাজানো ইত্যাদি)। এর ফলে আপনার মন আরো সতেজ হয়ে উঠবে। ঘুম পৃথিবীর সবচেয়ে সুখের একটা জিনিস। আপনি যদি ঘুমান তাহলে পৃথিবীর কোন চিন্তা আপনার মাথায় আসবে না। কমপক্ষে একটানা আট ঘন্টা ঘুমাবেন। আনন্দময় ঘুম অনেক শান্তির।
গরম চায়ের ধোঁয়ার সাথে আপনার জীবনের সব হতাশা উড়ে যাক! স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। শরীর ভালো তো মন ভালো। একটা ভালো সাউন্ড সিস্টেম কিনুন। মানেন তো, সুর-ই জীবন। সাহসী হন। যদি আপনি তা না-ও হন, অন্তত হবার ভান করুন। পার্থক্যটা কেউ ধরতে পারবে না। এমনভাবে নিজের জীবনকে উপভোগ করুন যাতে আপনার এপিটাফে লেখা থাকে, 'কোনো আফসোস নেই'। পেছনের গাড়ির মানুষটির টোল পরিশোধ করে তাকে আজকের জন্য খুশি করে দিন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



