somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ১৮৬

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। একবার, এক বুড়ি সকালে আমাদের বাসায় ভিক্ষা করতে এসে আমাকে নিয়ে গেল। আমি খুশি মনে বুড়ির সাথে তার বস্তিতে চলে গেলাম। মনে মনে ভাবলাম, যাক বাসার অত্যাচার থেকে বাচলাম। এত এত শাসন থেকে রেহাই পেলাম।
বুড়ি বলল- বাবু সেজে বসে থাকলে হবে না। আমার সাথে ভিক্ষা করতে হবে রোজ। আমি বললাম জ্বী অবশ্যই। বুড়ি বলল গুড বয়।

বুড়ির এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে আমার হাত ধরা। বুড়ি নাকি সুরে বলছে, দেন গো বাবা দু'টা পয়সা ভিক্ষা দেন। নাতিটাকে নিয়ে বড় বিপদে পড়ছি। লোকজন বেশ ভিক্ষা দিচ্ছে। কয়েক ঘন্টায় আমাদের বেশ ইনকাম হলো। বুড়ি তো আমার উপর মহা খুশি! এক মাসের ইনকাম একবেলায় হয়ে গেল। বুড়ি বলল, বল কি খাবি? আমি বললাম, চিকেন ফ্রাই। বুড়ি ছোট্র করে দমক দিলো আমার কাছে বাবুয়ানা চলবে না। খুব হিসাব করে চলতে হবে।

শেষে বুড়ি এক চা'র দোকানে নিয়ে এক পিস কেক আর চা দিলো। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে সবটুকু চা আর কেক খেয়ে নিলাম। আহ কি আন্দময় জীবন! কপাল মন্দ। সুখ কপালে শইলো না। ফিরে যেতে হলো নিজের আস্থানায়। যদি সেদিন বাসায় না ফেরা হতো, তাহলে আজ আমি ঢাকা শহরের শ্রেষ্ঠ ভিক্ষুক হতাম।

২। অনেক বছর আগের কথা।
রাত ৮ টায় বেইলী রোডে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাত দেখি আমার পাশে দাঁড়িয়ে একটি মেয়ে খুব কাঁদছে। চারপাশের লাইটের আলোতে মেয়েটির কান্না ভেজা মুখ ঝকমক করছে। যেন জল রঙ এ আকা ছবি। খুব'ই রুপসী মেয়ে! সাদা শাড়ি পরা। ঠিক সাদা না, অফহোয়াইট বলা যেতে পারে। শাড়ির সাথে মিল রেখে কানে দুল। কপালে টিপ, চোখে মোটা করে কাজল, আর দুই হাত ভরতি কাচের চুড়ি। মেয়েটি চোখ ভরতি পানি টপটপ করে পড়ছে। আমার ইচ্ছা করলো মেয়েটির চোখের পানি মুছে দেই। এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরি। আমার সামনে একটি মেয়ে কান্না করবে তা তো হতে পারে না।

শেষমেষ মেয়েটির সাথে আমার ভাব হয়ে গেল। আমরা একসাথে ডিনার করলাম। অনেকক্ষন রিকশা করে ঘুরলাম। বেইলী রোড থেকে নীলক্ষেত গেলাম। মুখস্ত করা সব কবিতা শুনিয়ে দিলাম। কবিতা শুনে কেউ হাসে? কিন্তু মেয়েটি খুব হাসলো!

৩। সিঙ্গারা আলুকে বলছে, ওরা যখন আমায় গরম তেলে ভাজে তখন আমি তোমাকে Cover করি। কারণ " I Love u ....
আলু সিঙ্গারাকে বলছে, ওরা যখন তোমায় সাথে সাথে মুখে নেয় তখন আমি তাদের জিভ পুরিয়ে দেই। কারণ " I Love u ...

৪। কেউ বলেন, আমি ডাক্তার হবো, সাংবাদিক হবো, সাহিত্যিক হবো, কবি হবো, ব্যাবসায়ী হবো, আলোকচিত্রী হবো- সবাই অনেক কিছুই হতে চায় কিন্তু কেউ ভালো মানুষ হতে চায় না। আসলে, ভালো মানুষ না হলে যে কিছুই হওয়া যায় না- সেটা কেউ বুঝতে চায় না।

৫। অসাম্প্রদায়িক শান্তিপূর্ণ আদর্শ ছড়িয়ে পরুক। যুক্তি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে মতের বিরুদ্ধে মত শক্তিশালী হোক। বল প্রয়োগ করে অনেক কিছু করাই সম্ভব হতে পারে, কিন্তু একটা আদর্শকে দমিয়ে রাখা কখনই সম্ভব নয়। জয় বাংলা।

৬। পল্টনে যেদিন হাজার হাজার মানুষের বিশাল সমাবেশে শেখ সাহেবকে বঙ্গবন্ধু খেতাবে ভূষিত করা হলো ছাত্রজনতার পক্ষে থেকে, সেদিনের জনসভায় উপস্থিত ছিলেন- আমার মা ও বাবা। কিন্তু কেউ কাউকে চিনতেন না। মা গিয়েছিলেন আমার নানা'র সাথে। আর আব্বা একাএকা গিয়ে ছিলেন। তাহলে অদৃশ্যভাবে তো সেই জনসভায় আমিও ছিলাম। কি ছিলাম না?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:০৭
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×