somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মানুষ কিসের তৈরী?

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কুরআনে বিভিন্ন আয়াত এবং সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে বলা যায়, মানুষ মাটির তৈরী। নূর বা অগ্নির তৈরী নয়। আসুন, কয়েকটি আয়াতের দিকে লক্ষ্য করি- 'যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেস্তাদের বললেন- আমি মাটির তৈরী মানুষ সৃষ্টি করব'। (সূরা সোয়াদ-৭১) অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, 'নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি পঁচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা'। (সূরা হিজর-২৮) আরেক জায়গায় বলা হয়েছে- 'তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুস্ক মৃত্তিকা থেকে এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে'। (সূরা আর রাহমান-১৪,১৫) সূরা মুমিন- ৬৭ তে বলা হয়েছে- 'তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা'। সূরা মুমিনুন- ১২ তে বলা হয়েছে- 'আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি'। সুরা আল ফুরকান, আয়াত ৫৪' তে বলা হয়েছে- 'তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানবকে, অতঃপর তাকে রক্তগত, বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন। তোমার পালনকর্তা সবকিছু করতে সক্ষম।

উপরোক্ত বক্তব্য থেকে মানব সৃষ্টির পদ্ধতি ও মূল উপাদান সম্পর্কে আশা করি সুষ্পষ্ট ধারণা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার বাণী দ্বারা একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণিত যে, মানুষ নূর বা আগুনের তৈরী নয়। বরং মাটির তৈরী। নাস্তিকেরা বলবে, মায়ের পেটে মাটি ঢুকলো কি করে! কোরআন বলছে, মানুষের সৃষ্টি একটি অলৌকিক ঘটনা। মহান আল্লাহ কাদামাটি দিয়ে প্রথম মানব সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি এই কাদার কাঠামোকে রুহ বা আত্মা দান করেছেন। আমার একটা প্রশ্ন জাগলো, অন্য প্রানী কী দিয়ে তৈরি? এ বিষয়ে বিজ্ঞান কী বলে? বিজ্ঞান বলছে, মানুষের শরীরের সাথে মাটির উপাদান সমূহের মিল রয়েছে। মানুষ মরে গেলে মাটির সাথে মিশে যায় তবে ডিএনএ অক্ষত থাকে। আমাদের শরীর গঠিত হয়- মায়ের পেটে। সেখানে রক্ত মাংসে আমাদের শরীর তৈরী হয়। আর আমাদের শরীর কিভাবে তৈরী হবে তা নির্ভর করছে ডি.এন.এ'র উপর।

বাইবেল ও কুরআনে আদম তৈরীর কাহিনী অনুযায়ী, আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে পৃথিবী থেকে মাটি নিয়ে যায়। সেই মাটি দিয়ে আদমের দেহ কাঠামো (মাটির মূর্তি) তৈরী করে। এবং শেষে তাতে রূহ (আত্মা) দিয়ে জীবন্ত করে। মানুষ প্রজাতির যাত্রা শুরু হয় এভাবে। বিজ্ঞান বলে, মানুষের দেহ গঠিত হয়েছে কোটি কোটি কোষ দিয়ে। আর এই কোষগুলো গঠিত হয় প্রধান দুই উপাদান নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম-এর সমন্নয়ে।
মনে প্রশ্ন আসতে পারে- বিজ্ঞান কি সূর্য সৃষ্টি করেছে, আসমান যমিন সৃষ্টি করেছে, এই পৃথিবীর বাইরে তাদের কার্যাবলি কতটুকু? প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর বাইরে, আর তা পৃথিবীতে এসেছে ধূমকেতু আর উল্কাখন্ডের মাধ্যমে। ডারউইন তো আর ঈশ্বর নন। তার তত্ত্ব যে চিরকাল টিকে থাকবে তা তো না-ও হতে পারে। এতে পরিবর্তন হতেই পারে। তবে এটা ঠিক যে প্রথমে যে সব অণুজীব মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে এসেছিল তারা জৈবিক কাঠামো ছিল অত্যন্ত সরল। তার পরে তা থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই ডারউইনের তত্ত্বে যে বিবর্তনের কথা আছে তা তো ঘটেছেই, কিন্তু প্রাণের সূচনা পৃথিবীতে হয়নি, হয়েছে তার বাইরে কোথাও।

বাইবেলে বলা হয়েছে প্রথম মানবকে জীবন দান করতে ঈশ্বর তার মুখে ফুঁ দিয়েছিলেন। এক মহা বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। আপনি মানুষ। আপনার বিবেক বুদ্ধি আছে। আপনার যেটা সঠিক মনে হবে আপনি সেটা বিশ্বাস করবেন। দুটা তো একসাথে বিশ্বাস করা যাবে না। হয় বিজ্ঞান অথবা ধর্ম। আমি বিজ্ঞান বিশ্বাস করি। সারাদিন তো বিজ্ঞানের কল্যান উপভোগ করছি। ইন্টারনেট, মোবাইল ছাড়া তো এক মুহুর্ত চলতে পারবো না। এগুলো তো আমাকে বিজ্ঞান দিয়েছে। যদিও নির্বোধেরা বলবে, কোরআন রিসার্চ করেই ইন্টারনেট, মোবাইল এসেছে অথবা বলবে ঈশ্বর মানুষকে মেধা দিয়েছে, সেই মেধা দিয়ে বিজ্ঞানীরা এসব আবিস্কার করেছে। আমি এরকম ধার্মিকদের পক্ষে নই। জন্মের পর থেকেই বাপ মার দেখাদেখি কোনো কিছু মেনে চলা আমার পক্ষে সম্ভব না। কোনো কিছুতেই আমার অন্ধ বিশ্বাস নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৬
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×