
নিজের তীব্র ইচ্ছা না থাকলে ওই সব সস্তা মোটিভেশন নিয়ে লাভ হবে না। বন্ধুগন মনে রাখবেন, সেল্ফ মোটিভেশনই সবচেয়ে বড় মোটিভেশন। আরো মনে রাখবেন, মোটিভেশন ফোটিবেশন কিচ্ছু না প্রয়োজনটাই আসল। আপনি যদি আপনার মন বা ব্রেইনকে একবার আপনার দরকারটা বোঝাতে পারেন তাহলেই আপনার কাজ হয়ে যাবে। সেল্ফ মোটিভেটেড হবার চেষ্টা করুন। এর ওর গল্প, পরামর্শ বা ভিডিও দেখে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবেন না। আমিও হাজারের উপর মোটিভেশনাল ভিডিও দেখেছি। বই পড়েছি। ফলাফল শূন্য। প্রত্যেক মোটিভেশনাল স্পিকার খুব কমন কিছু রুলস বলে থাকেন মোটিভেট হওয়ার জন্য- ১। পরিশ্রম করা, ২। ধৈর্য রাখা, ৩। কাজের প্রতি ডেডিকেটেড থাকা, ৪। হতাশ না হওয়া, ৫। সময় অপচয় না করা। মোটিভেশনাল স্পিকাররা বিভিন্নভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা এসব নিয়েই বক্তব্য দিয়ে থাকেন!
আপনার যদি বই পড়ার অভ্যাস থাকে তাহলে এই বইটা পড়তে পারেন। 'The 7 Habits of Highly Effective People' সমগ্র বিশ্বে বইটি একটি প্রভাবশালী ও আলোচিত বই। লেখক হলেন- Stephen R covey' খেয়াল করে দেখবেন, যারা মোটিভেশনাল বই লেখে এরা তো কোনো বুদ্ধিজীবী না বা দার্শনিকও না। বেশিরভাগ সময়ই কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়া ইয়াং উদ্যোক্তারা এই ধরনের বই লেখে থাকেন। কিন্তু জীবন কি শুধুই কর্মক্ষেত্র? আমাদের জীবনে সবচেয়ে যে জিনিসটা বেশি প্রয়োজন তা হলো- সেল্ফ মোটিভেশন । আপনার লক্ষ্য অর্জন করবার জন্য যে কেউ আপনাকে অনুপ্রেরণা দিতে পারে কিন্তু লক্ষ্য অর্জনে আপনাকেই এগিয়ে যেতে হবে। আপনার হয়ে অন্য কেউ সেটা করে দিবে না।
অল্পতেই হতাশ হয়ে যাওয়া মানুষ আমরা বেস্ট মোটিভেশন খুঁজতে থাকি বছরের পর বছর! নিজের বুদ্ধি, মেধা, রুচি আর শিক্ষা কাজে লাগাই না, অন্যের মুখের স্বাদ খেতে চেষ্টা করি। অন্যে যেটা বলে, সেটাই সেরা মনে করি। একটা মোটিভিশন ভিডিও যদি আপনাকে ভিতর থেকে সজাগ করতে না পারে, লাখো ভিডিও পারবে না! কেবল মাত্র ইচ্ছাই মানুষের সমস্ত বাধার অবসান ঘটাতে সক্ষম। প্রতিদিন নানান রকম পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে করতে আমাদের এনার্জি কমতে থাকে। শারীরিক এনার্জির সাথে মানসিক এনার্জিও কমে। শারীরিক এনার্জি ফিরে পেতে যেমন প্রতিদিন খাবার খেতে হয়, তেমনি মানসিক এনার্জি বৃদ্ধির উপায় হল নিজেকে প্রতিদিন অনুপ্রাণিত করা। আপনি যা বিশ্বাস করেন সেই জিনিসটাই আপনাকে অনুপ্রাণিত করে। আপনাকে কোন জিনিসটি অনুপ্রাণিত করে সেটা আগে খুঁজে বার করতে হবে। মোটিভেশন থেকে দূরে থাকুন- বন্ধুগন।
কখনো মোটিভেশন নিতে যাবেন না। মেসি, রোনালদো, অমিতাভ বচ্চন, শচীন, হুমায়ূন আহমেদ, আইনস্টাইন, মাদার তেরেসা, চার্লি চ্যাপলিন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন ফকির, বঙ্গবন্ধু, গান্ধী, টমাস আলভা এডিসন, গোর্কি এবং মোহাম্মাদ আলীরা কখনো মোটিভেশন নেন নি। প্রচ্চুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হরর, থ্রিলার, এডভেঞ্চার, রোমান্টিক, ফিকশন, নন-ফিকশন, ফ্যান্টাসি, স্প্রিচুয়ালিটি হাতের কাছে যে বই পাবেন পড়ে ফেলুন। এই একটা বস্তু যে কখনো আপনার সাথে বেঈমানি করবে না। পথে-ঘাটে, শহরে-বন্দরে যেখানে যাকে পাবেন তার সাথে কথা বলবেন। লম্বা আলাপ করুন। কারো বন্ধু হোন, কারও ভাই, কারও ভাতিজা, কারও নাতি। সম্পর্ক তৈরি করুন। এই দুনিয়ায় ট্যালেন্টের যত দাম নেই তারচে বেশি আছে কমিউনিকেশন এর। উদাহরণ দিই, আপনিও গ্রাজুয়েট আমিও গ্রাজুয়েট। আমার পরিচত কেউ ভাইভা বোর্ডে আছে, নিয়োগ আপনার হবে নাকি আমার বলুন?
অনেক ভুল করছি জীবনে আমি। এখন না অতীতে যেতে পারব, না সময় ফিরে পাবো। মোটিভেশন টাইপ বইপড়া আমি ছেড়ে দিয়েছি। কারণ আমি নিজের কাছেই নিজেই মোটিভেশন। আমি বিশ্বাস করি- প্রচুর বই পড়তে হবে এবং সাথে সাথে বাস্তববাদী হতে হবে। তবে কথা আছে, সারাদিন শুধু বই পড়ে জ্ঞান-অর্জন করে গেলেন, আর সেই জ্ঞান কাজে লাগালেন না, তাহলে সেই বই পড়া বৃথা। সুন্দর বই মনের দরজা খুলে দেয়। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের জীবনকে দেখতে শেখায়। নতুন নতুন ভাবে ভাবতে শেখায়। সেই ভাবনা নিয়ে যদি আপনি বাস্তবতা বাদ দিয়ে সারাদিন শুধু ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডে পড়ে থাকেন, তাহলে সেই বই পড়া অবশ্যই খারাপ।
অনুরোধঃ আপনি আপনার লাইফ থেকে সকল প্রকার নেগেটিভ মানুষ ডিলিট করে দিন। সবসময় পজিটিভ মানুষদের সাথে থাকুন। আর আপনার মন এবং শরীরকে পবিত্র রাখুন। যা চিন্তা করবেন তা পজিটিভ চিন্তা করুন। ধরুন আপনার পকেটে টাকা নাই। তো এখন ভাগ্য বা বাবা মাকে দোষ না দিয়ে বরং সত্যটা ভাবুন- উপার্জন করেন নাই এজন্য টাকা নাই।
আসলে আমরা জানি অনেক কিছু, কিন্তু মানি না কিছুই। কেউ যদি নিজে নিজেকে প্রেরণা না দিতে পারে, নিজেকে প্রতিযোগিতায় দাঁড় করানোর মতো উপযুক্ত না করতে পারে, যতদিন না সাফল্যের ক্ষিদে তাঁর মধ্যে না আসবে ততদিন কোন প্রেরণা'ই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে না। মন খারাপ থাকলে আমরা অনেকে একা থাকতে চাই। তখন একা থাকা মানেই যা নিয়ে আপনার মন খারাপ, সেটা নিয়ে আপনার মনকে আরও ভাবার সুযোগ করে দেয়া। মন খারাপ থাকার সময়টা দীর্ঘস্থায়ী করতে না চাইলে, মনকে অন্য কিছুতে ব্যস্ত করে ফেলাই সেরা কাজ হবে। যদি সময় সুযোগ হয় তাহলে এদুটো বই অবশ্যই পড়বেন- 'অক্ষয় মালবেরি' লেখক- মণীন্দ্র গুপ্ত। আত্মজীবনী মূলক বই। দারুন একটা বই। বইটা সবার পড়া উচিত। জসীম উদদীনের 'জীবনকথা'। আমার খুব পছন্দের বই। বইটা খুব ভালো লাগবে এটুকু বিনা দ্বিধায় বলতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



