somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

শুভ জন্মদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী।
আজ একটা বিশেষ দিন। এই বিশেষ দিনে আপনি সমস্ত বাংলাদেশ থেকে ছাত্রলীগকে অফ করে দিন। এরা বড় ভয়ঙ্কর। এরা কোনো কাজে আসে না দেশের। তাই আজ আপনি এদের চিরতরে অফ করে দিন। এই কাজ করলে দেশের মানুষ খুব খুশি হবে। আমরা দেখতে পাই, আপনি ক্ষমতায় আসার পর একে একে ভারতের সকল দাবী মেনে নিয়েছেন। হিসাব করলে দেখা যাবে বাংলাদেশ ভারতের কাছে তেমন কিছুই পায়নি। কাজেই, বাংলাদেশকে আজ হোক কাল হোক ভারতের কাছ থেকে দূরে সরে আসতেই হবে। জানি, ৩০০০ ভারতীয় সৈন্য মৃত্যু বরণ করেছেন আপনাদের স্বাধীনতার জন্য। আমাদের মহম্মদ ইউনুসের মত নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ আছেন । আমাদের লাখ লাখ মানুষ সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে থেকে সমানে দেশের অর্থনীতিকে হাজার হাজার ডলার যুগিয়ে চলেছেন। একদিন হয়তো আপনি অবসরে যাবেন। তাতে সমস্যা কিছু নেই। কারো জন্য কিছু বসে থাকে না। শেখ মুজিব নেই, দেশ তো থেমে থাকে নি। আপনি অথবা খালেদা না থাকলে তখন অন্য কেউ রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীতে চীন হচ্ছে এক নম্বর অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। ভারত আমাদের সহায়তার ভাব দেখায় কিন্তু সহায়তা করে না। ভারত সহায়তা না করে তবে চীন করবে। আমরা জানি, আপনি প্রয়োজনে যে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত বা মত পাল্টাতে পারেন কিন্ত খালেদা জিয়া অনেকটা এক রোখা, তিনি যা বিশ্বাস করেন তাই করেন। আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত লোকের বড় অভাব। মূলত অযোগ্য রাজনীতিবিদদের জন্য দেশ এগুতে পারে না, যদি সত্যিকারে দেশ প্রেমিক রাজনীতিবিদ দ্বারা দেশ পরিচালিত হলে আমাদের দেশ এখন মালয়েশিয়ার মত দেশ থাকতো। সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মহলে টাকা দিয়েই কাজ করতে হয়। বাংলাদেশে টাকা ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না। যদি বিএনপি ক্ষমতায় বসে তাহলে বর্তমান বিএনপির যে অবস্থা তখন আওয়ামীলীগ এর ও সে অবস্থাই হবে। কারণ এদেশে সুস্থ রাজনীতির অস্তিত্ব নেই।

একটা লোকের শরীরে যে রক্ত আছে, সেই রক্ত থাকলেও যদি হার্ট বিকল হয়ে যায়, লোকটা মরে যায়। কারণ রক্ত চলাচল চালু রাখতে হলে হার্ট একদিকে রক্ত শুষে নেবে, অন্যদিকে রক্ত পাম্প করে ঢেলে দেবে। ব্যাংক হল একটা অর্থনীতির হার্ট। বাংলাদেশেও যত টাকা আছে তার কমপক্ষে ৮৫%ভাগ নগদে নয়, চেকের মাধ্যমে অর্থাৎ ব্যঙ্কের মাধ্যমে চলাচল করে। টুকিটাকি খুচরা কেনাবেচায় নগদ চলে। ছাপানো নগদ টাকা লোকের হাতে থাকলেও তা দিয়ে আপনি ১৫% এর বেশি কাজ চালাতে যাবে না। নরেন্দ্র মোদী ভালো কাজ কিংবা খারাপ কাজ যাই করুন না কেন জনগনকে পাশে পান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার মাঝে মাঝে আপনাকে মিথ্যাবাদী শাসক বলে মনে হয়। আপনি নিজের নামে সুনাম শুনতে ভালবাসেন। আপনাকে যারা তেল মারতে পারেন আপনি তাদের ভালবাসেন। এই স্বভাব আপনি কি আপনার বাবা শেখ মুজিব থেকে পেয়েছিলেন? আপনি দেশ কন্যা, বঙ্গকন্যা, দেশ মাতা, মাদার অফ হিউমেনিটি, হযরত ইত্যাদি আখ্যানে আখ্যায়িত হতে ভালবাসেন। এত ক্ষুদ্রতা আপনার মধ্যে থাকবে কেন? আপনাকে তো অনন্য এক উচ্চতায় বসিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী আমি আপনাকে শ্রদ্ধা করি। ভালোবাসি।
বাংলাদেশ এক অদ্ভুত দেশ। দেখবেন যারা শাপলা চত্বরে সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে হত্যাকান্ড চালিয়েছে দাবি করে, তারাই আবার ক'দিন পর সরকার প্রধানকে সার্টিফিকেট পাওয়ার আনন্দে কওমি জননী বানিয়ে ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত ভক্তদের তেলবাজি দেখতে হয়, শুনতে হয়। আপনি এসব উপভোগ করেন কিনা আমার জানা নেই। কেউ সংসদে আপনাকে নিয়ে গান গেয়ে শোনান, কেউ আপনার শাড়ির প্রশংসা করেন, কেউ কেউ দুঃখ করেন (রোহিংগাদের আশ্রয় দেওয়ার পরও) আপনি নোবেল পাচ্ছেন না বলে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বয়স এখন ৭৩, আল্লাহই ভালো জানেন তার জীবন কতটা বাকী আছে! আল্লাহ তাকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুক এটাই চাই। কিন্ত আপনি মৃত্যুবরন করলে সবই স্বাভাবিক চলবে কোন সমস্যা হবে না কারণ কোন কিছুই কারো জন্য আটকে থাকে না। শাসক হওয়ার উপকার খুব সামান্য কিন্তু মৃত্যুর পরে শাসকের অবস্থা দেখলে কেউই ক্ষমতায় যেতে চাইত না। পৃথিবীতেই আমরা দেখি শাসক ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে তার পরিনতি কি হয়।

আলোর দিকে এগিয়ে গেলে অন্ধকার আপনি'ই পেছনে পড়ে থাকে। এই সহজ সত্য বাংলাদেশের মানুষ কবে বুঝবে? নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করতেই হবে। সাধু সাবধান। আপনি আর দশটার মহিলার মতই সারাদিন নিজের পরিবারের কথা বকবক করে কান্না করতে ভালোবাসেন। OIC এর সম্মেলন হোক, জাতিসংঘ, ভারত সফর, বাংলাদেশের যেকোন অনুষ্ঠানের সবজায়গা আপনার চৌদ্দগোষ্টির কথা স্মরণ করে কেঁদে ফেলেন এবং আপনি চান যারা তা শুনেন তারাও কান্না করুক। না করলে হয়তো আপনি কষ্ট পান। গ্রেনেড হামলার পর থেকে কানে সমস্যা হয়েছে, চোখেও মারাত্মক সমস্যা। গ্লুকোমা আছে মনে হয়। চোখ দেখাতে ও কানের চিকিৎ্সা করাতে আপনি বিদেশে যান মাঝে মাঝে। রাষ্ট্রপতিও চেকাপ করাতে বিদেশ যান। অনেক রাজনীতিবিদ, নেতা, পাতি নেতা, দূর্নীতিবাজরা সামান্য বা কঠিন চিকিৎসার জন্য বিদেশ যান। আপনাকে অনুরোধ করবো দেশের চিকিৎসা সেবা এমন করবেন যেন কারো চিকিৎসা নিতে বিদেশ যেতে আর না হয়।

সরকারের অধীনে স্বাধীন দেশে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে। এই নির্বাচনে ১৪টি দলের এক হাজার ৯১ জন প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ শুরুতেই ১১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। জিয়া আমলে কি হয়েছে? জিয়া নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করে, অবৈধ উপায়ে একই সাথে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি থাকা এবং ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান একটি গণভোটের মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য জনসমর্থন চান- হ্যাঁ আর না ভোটর মাধ্যমে। এরশাদের কথা তো সবার জানা এই বিশ্ব বেহায়াকে তো কান ধরে নামানো হয়। আমার নিজের কাছে মনে হয় এতবড় একটা দেশ চালাতে মোদী ও ইমরান খানের চেয়ে আপনি অনেক ভালো। এবং যোগ্য। কারণ আপনার অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের ফলেই বাংলাদেশে হিন্দু মুসলিম নিয়ে কখনো বড় সড় সমস্যা হয়নি। আর উপমহাদেশের অন্যতম প্রতিভাবান রাজনীতিক আপনি। দূর্নীতি আর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করলেই হবে না। এগুলো একেবারে নির্মূল করে দেখান। আমি জানি আপনি পারবেন।

আপনি ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। দীর্ঘজীবি হোন। মনে রাখবেন দেশের প্রতিটা মানুষ আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। দেশের মানুষের প্রতি আপনার দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। দেশের মানুষ আপনাকে ভালোবাসে। আপনার দলে যারা দুষ্টলোক আছে, তাদের কানটা ধরে বের করে দিন। তাতে দেশের মঙ্গল হবে। হোক সে আপনার আত্মীয়। আগে দেশ। তারপর আত্মীয়স্বজন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ইত্যাদি ভালো ভালো কাজের অভাব নেই আপনার। আপনাকে অনুরোধ করবো দূর্নীতিবাজদের ধরুন। জানি, অনেককে ধরেছেন। কিন্তু আরো ধরতে হবে। আমাদের চাওয়া আর পাওয়ার জায়গা একটাই। সেটা হলো আপনি।

আজ আপনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে অনেকে অনেক রকম লোক দেখানো কাজ করছে। কেউ মিলাদ পড়িয়েছে। কেউ দরিদ্রদের খাইয়েছে। কেউ পঙ্গুকে হুইল চেয়ার দিয়েছে। কেউ গাছ লাগিয়েছে, কেউ ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা করেছে, কেউ আপনার ছবি দিয়ে চিত্র প্রদশর্নী করেছে, কেউ আপনাকে বা আপনার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বই লিখেছে। এসব শুধু আপনাকে খুশি করতে আর নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে। এরা সবাই দূর্নীতিবাজ এবং দুষ্টলোক। এই শ্রেনীর লোককে আপনার ধারে কাছে ঘেষতে দিবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৪২
১০টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×