somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

খুনী কে?

০১ লা অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মাত্র ভোর হলো। চারপাশ জেগে উঠতে শুরু করেছে।
দুইটা জমজ মেয়েকে খুন করা হয়েছে। মেয়ে দুটার বয়স ১৩ বছর। দুই বোন এক রুমে ঘুমাচ্ছিলো। সকালে তাদের গলা কাটা লাশ পাওয়া যায়। বাবা মা পাশের রুমে ঘুমাচ্ছিলেন। সকাল সাত টায় বুয়া আসে বাসায়। মেয়েদের স্কুল আছে। সকালে মা মেয়েদের ঘরে ঢুকে দেখতে পান কে যেন তাদের মেয়ে দুটাকে গলা কেটে হত্যা করেছে। সারা বিছানায় রক্ত দিয়ে ভরা। রক্ত জমাট বেঁধে কালো হয়ে গেছে। অথচ বাপ মা পাশের রুমেই ঘুমাচ্ছিলেন। তারা কোনো শব্দ পান নি।

মেয়ের বাপ মা চিৎকার করে কাঁদছেন।
মেয়ের মা কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। তাদের আদরের দুজন সন্তান। মেয়ের বাবা একজন ডাক্তার। মা গৃহিণী। সুন্দর সুখের সংসার। সবচেয়ে বড় কথা তাদের কোনো শত্রু নেই। তাছাড়া বাইরে থেকে কোনো লোক তাদের ফ্লাটে প্রবেশ করতে পারবে না। নিচে দাড়োয়ান আছে। এবং তাদের ফ্লাটে দরজায় তিনটা তালা। এমন কি কলাপসিবল গেইট আছে। সেখানে দুটা তালা লাগানো। সকালে বুয়া এলে মা নিজে দরজা আর কলাপসিবল গেইট খুলে বুয়াকে ঘরে ঢুকান। কিভাবে সম্ভব?

বাসায় পুলিশ এলো।
পুলিশ এসে লাশ নিয়ে গেলো পোস্টমর্টেম এর জন্য। তারা বাইরের কেউ ঘরে প্রবেশ করেছে এরকম কোনো চিহ্ন খুঁজে পেলেন না। পত্রিকা আর টিভিতে নিউজ হলো। শহরের মানুষ অনেক চিল্লাচিল্লি করলো। দু'টা কিশোরী মেয়েকে হত্যা করা হলো- অথচ পুলিশ আসামী ধরতে পারলো না। মানবাধিকার সংস্থাও খুব হইচই শুরু করলো। পুলিশ অবস্থা বেগতিক দেখে মেয়ের বাবা মাকে গ্রেফতার করলো। তারা বলল, মেয়ের বাবা মা'ই তাদের মেয়েদেরকে হত্যা করেছে। এদিকে মেয়ের বাপ মা বলছে, আমাদের মেয়ে আমাদের কলিজার টুকরা। আমরা জন্ম দিয়েছি। আদর ভালোবাসা দিয়ে বড় করছি। আমরা কেন হত্যা করবো!

মেয়েদের বাপ মাকে থানায় নিয়ে গিয়ে অনেক অত্যচার করা হলো।
পুলিশ তাদের খুব মারধর করলো। কিন্তু তবু মেয়ের বাপ মা বলল, আমাদের মেয়েকে আমরা মারি নি। নিজের সন্তানকে কোনো বাপ মা হত্যা করতে পারে! নিজের মেয়েদের হত্যা করে আমাদের লাভ কি? আপনারা বিনা কারনে আমাদের ধরে অত্যাচার করছেন। দয়া করে আপনারা আসল অপরাধীকে খুঁজে বের করুন। পুলিশ মেয়ের বাপ মার কথা শুনলো না। তারা তাদের আরো অত্যাচার শুরু করলো। বলল, তোমরা হত্যা করেছে এই কথা স্বীকার করলেই তোমাদের উপর অত্যাচার বন্ধ হবে।

শেষমেষ কেস গেলো সিআইডি'র হাতে।
তারা তথ্য তালাশ করে দেখলো- পুলিশ তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করে নি। কোনো ফিঙ্গার প্রিন্ট সনাক্ত করে নি। এমন কি লাশের ভালো করে ময়নাতদন্ত পর্যন্ত করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কোনো সদুত্তর দিতে পারে নি। সিআইডি টিম ঘটনার স্থল ভালো করে পরিদর্শন করলো। কিন্তু তারা কিছু পেলো না। কারন ঘটনা পার হয়ে গেছে আরো ২৫ দিন আগে। সিআইডি মেয়েদের বাপ মায়ের সাথে কথা বলল, বাপ মায়ের এক কথাই- আমরা খুন করি নি। আমাদের সন্তান হলো আমাদের আত্মা। নিজের আত্মাকে কেউ খুন করে। করতে পারে।

মামলা কোর্টে উঠলো।
দীর্ঘদিন মামলা চললো। সিআইডি কোনো তথ্য দিতে পারলো না। পুলিশ যা বলেছে তাই কোর্ট মেনে নিলো। মেয়ের বাপ ছুরি দিয়ে তাদের ঘুমন্ত মেয়েদের গলা কেটে হত্যা করেছে। আর তাদের মা গলা কাটতে সহযোগিতা করেছে। এজন্য বিচারক মেয়েদের বাপকে ফাঁসির হুকুম দিলো। এবং মাকে যাবতজীবন কারাদন্ড দিলো। আদালতে মেয়ের বাপ মা চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, আমরা আমাদের মেয়েকে হত্যা করি নি। এটা সম্ভব না। আমরা কেন আমাদের কলিজার টুকরাকে হত্যা করতে যাবো? এটা সম্ভব না। আদালত মেয়ের বাপ মায়ের কথা শুনলো না।

আপনাদের কি মনে হয়?
খুনটা করলো কে? কে খুন করতে পারে? কেন? আমার দৃঢ় বিশ্বাস মেয়ের বাপ মা খুন করে নি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৫১
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×