
একলোক সরকারী চাকরি করেন।
বড় পদে আছেন। আমি মাঝে মাঝে তার কাছে যাই। তিনি নিজের হাতে কফি বানিয়ে খাওয়ান। এবং তিনি বলেন, আমি যাদের পছন্দ করি তাদের নিজের হাতে কফি বানিয়ে খাওয়াই। তিনি চিৎকার করে বলেন, আমি সৎ। আমি ঘুষ খাই না। আমার ডিপার্টমেন্টের অন্যরা ঘুষ খায়। কিন্তু আমি ভালো মানুষ। এই লোক ইউরোপের অনেক দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন পরিবার নিয়ে। ভদ্রলোক লেখালেখি করেন। নিজের লেখা নিয়ে নিজেই গর্ব করেন। সারাদিন অফিসে বসে ফেসবুকে নিজের আর নিজের বইয়ের ছবি পোষ্ট করেন। ইদানিং তিনি নিজের বই নিয়ে নিজেই আলোচনা করেন। সেই আলোচনার ভিডিও নিজেই ফেসবুকে পোষ্ট করেন। অফিসে বসে পড়বেন, লিখবেন। উনি প্রায় ৪০ টার মতোন বই লিখে ফেলেছেন। আমার কথা হলো, উনি কেন অফিস টাইমে লেখালেখি করবেন? কেন ফেসবুকে ছবি দিবেন? কেন ভিডিও দেবেন। অফিস রুমটাকে নিজের ব্যাক্তিগর রুম বানিয়ে নিবেন। তার কি কোনো কাজ নেই অফিসে? প্রতিদিন একই ঘটনা। এবং উনার বিশ্বাস সরকারী আমলারা বাংলা সাহিত্যকে দখল করে নেবে।
আমি বিশ্বাস করি-
যার যা দায়িত্ব তা সঠিকভাবে পালন করলেই দেশ উন্নত হবে। অফিস হচ্ছে কাজ করার জন্য। লেখালেখি বা পড়ার জন্য না। এই সাহিত্যিককে কে বুঝাবে? যাই হোক, 'আজকের ডায়েরী'তে আমি এসব নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। ভদ্রলোকের কথা বললাম, কারন সামুতে ঢুকার আগে ফেসবুকে ঢু মেরেছিলাম। সেখানে দেখলাম ভদ্রলোক একটা নতুন ভিডিও দিয়েছেন। ভিডিওতে নিজের লেখার গুনগান করছেন। এবং তার বই যারা পড়েছে তাদের তিনি নিজের হাতে কফি বানিয়ে খাওয়াতে চাছেন। কফি খাওয়াবেন নিজের বাসায় না। অফিসে। আমি বলতে চাই, অফিসটা কি তোর বাপ দাদার সম্পত্তি? তোর বাসা নাই? সরকারী অফিস কি তোর বই নিয়ে আলোচনার জায়গা? ভিডিও করার জায়গা? কফি খাওয়ার জায়গা? কফিও তো তোর নিজের পয়সা কেনা না। তুই কেমন সাহিত্যিক? তোর মানসিকতা তো উন্নত না। তুই সাহত্যিক হলি কেমন করে রে ছাগল? এই জন্যই দেশের আজ এই অবস্থা। তোর মতোন লোক নিশ্চিই আরো অনেক আছে সরকারী অফিস গুলোতে।
আজ আমাদের বুয়া আসে নি।
আসবে না, তা আগেই বলে গেছে। আজ এক তারিখ বুয়া তার বাসা পাল্টাবে। এটা আমাদের নতুন বুয়া। আগের বুয়া নিজে ইচ্ছা করেই চলে গেছে বলা যায়। আগের বুয়া মাসে পনের দিন আসতো না। নানান রকম উছিলা সে দেখাতো। টানা পাঁচ বছর সে এরকম করেছে। তবুও তাকে মানবিক কারনে মানা করি নাই। একদিন সে টানা বিশ দিন এলো না। সুরভি ফোন দেয় কিন্তু ফোন ধরে না। তারপর সুরভি নতুন বুয়া রেখে দেয়। নতুন বুয়া চমৎকার কাজ করে। কোনো তাড়াহুড়া নেই। সবচেয়ে বড় কথা প্রতিটা কাজ সুন্দর করে করে। যাই হোক, নতুন বুয়া আসে নাই। সুরভিকে সকালে বললাম, আজ দুপুরে বাসায় রান্না করার দরকার নাই। আমরা বাইরে খাবো। অনেকদিন দুজনে একসাথে বাইরে খাই না। দুপুর দেড় টায় আমরা সত্যি সত্যি বাইরে খেতে গেলাম। ততক্ষনে আকাশ মেঘলা হয়ে গেছে। ভাবী বললেন, বাইরে যাওয়ার দরকার নাই- আমি খিচুড়ি রান্না করেছি, সাথে বেগুন ভাজি আর ইলিশ মাছ ভাজা আছে, এখানেই খাও। আমরা বললাম, ভাবী রাতে খাবো।
সুরভি নিলো কাচ্চি, আমি নিলাম তেহারী।
সাথে কোক আর ফানটা। খাবার মোটামোটি ভালোই হয়েছে। রেস্টুরেন্টে বেশ আরাম করেই খেলাম। অবশ্য এই রেস্টুরেটে আরো অনেকবার এসেছি। বয় বেয়ারা আমাদের চিনে। সুরভি বলল, অনেকদিন পর বের হয়েছি- চলো রিকশায় করে কিছুক্ষন ঘুরি। আমরা রিকশায় দোয়েল চত্ত্বর পর্যন্ত গেলাম। সেখান কিছুক্ষন আগে বাসায় ফিরলাম। ঘরে ঢুকার পরই শুরু হলো ঝুম ঝুম বৃষ্টি। ভাবী বেশ রাগ করেছেন মনে মনে। তার ঘরে না খেয়ে কেন বাইরে খেলাম! সব সময় সবার মন রক্ষা করা যায় না। খুব আলসেমি পেয়ে বসেছে। আজ আর বাইরে যেতে ইচ্ছা করছে না। অথচ মনে হয় বাইরে যেতে হবে। আজ এক বন্ধুর জন্মদিন। সে আজ রাতে খাওয়াবে আমাদের কয়েকজনকে। না গেলে রাগ করবে। আসলে মানুষ হয়ে জন্মালে কত জনের মন যে রক্ষা করে চলতে হয়! মন রক্ষা করতে না পারলেই গাল ফুলিয়ে থাকবে। অসহ্য।
গতকাল সন্ধ্যায় ভাবীর ঘরে চা নাস্তার দাওয়াত ছিলো।
আমি আর সুরভি গেলাম। গিয়ে দেখি ভাবী চিকেন ফ্রাই করেছে। আর থাই স্যুপ। চিকেন ফ্রাই আর থাই স্যুপ দুটাই আমার পছন্দ। ইচ্ছা মতোন চিকেন ফ্রাই খেলাম। প্লেটে যত গুলো ছিলো সব গুলোই খেয়ে নিয়েছি সস দিয়ে। একটাও অবশিষ্ট রাখি নাই। হে হে। থাই স্যুপটা কিভাবে করেছে, কে জানে! খেতে ভালো হয়েছে। স্যুপে চিকেন আর চিংড়ি মাছ দিয়ে ভরা। সব শেষে খেলাম চা। চা টা অসাধারন হয়েছে। ভাবী পানির মধ্যে চাপাতি দেয় না। দুধের মধ্যে চাপাতি ঢেলে চা বানায়। চায়ে সাথে সাথে চুমুক না দিলে সর পড়ে যায়। আমি ভাবীকে বললাম, আমি ভেবেছিলাম আপনি মোগলাই পরোটা বানাবেন। ভাবী বললেন, আগামীকাল (আজকে) খাওয়াবো মোগলাই। এখন তো বিকেল প্রায় হয়েই গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



