somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

করোনাকালে যে মুভি গুলো দেখেছি

২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি প্রচুর মুভি দেখি।
এই করোনাকালে আরো বেশি মুভি দেখেছি। এমনও হয়েছে একদিনে ৩/৫ টা করে মুভি দেখেছি। গত কয়েকমাসে যে মুভি গুলো দেখেছি, সেই মুভিগুলো নিয়ে এই পোষ্ট। The Shawshank Redemption (দ্যা শশাঙ্ক রিডেম্পশন) সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্র। এই মুভি যতবার দেখি ততবারই ভালো লাগে। গল্পটা এরকম- একজন ব্যক্তি তার বউয়ের খুনের অপরাধে জেলে যায়। কিন্তু সে ওই খুন করেনি, বারবার সবাইকে বলেছে কিন্তু কেউ বিশ্বাস করেনি। রবীন্দ্রনাথের 'শেষের কবিতা' বইটা আমি বারবার পড়ি। এই মুভিটাও আমি বারবার দেখি। খুব কম লোকই আছে এই মুভি দেখে নি। The Pursuit of Happiness (দ্য পারসুইট অফ হ্যাপীনেস) চমৎকার একটা মুভি। বেশ কয়েকবার দেখে ফেলেছি। আবার দেখবো। আবেগি মানুষরা এই মুভি দেখে অবশ্যই কেঁদে ফেলবেন। একজন বাবা আর ছেলের ভালোবাসা মুভিতে চমৎকার ফুটে উঠেছে।

মুভির নাম- NH 10 হিন্দী সিনেমা। কোনো টুইস্ট নেই। তা সত্ত্বেও টানটান উত্তেজনায় পরিপূর্ণ সিনেমা। চমৎকার মুভি বলা যায়। পুরো মুভি দেখলাম কিন্তু বিরক্ত লাগে নি। তবে এই মুভি বারবার দেখার মতো না। Wall-E (ওয়াল-ই) এনিমেশন মুভি। মুভিটিতে ওয়াল-ই নামের একটি ক্লিন মেশিন ভবিষৎ থেকে আসা মেয়ে রোবটের প্রেমে পড়ে যায়। বিজ্ঞানের কল্পিত টাইম মেশিনের সাথে যন্ত্রের এক অভূতপূর্ব সম্পর্ক তৈরি করে পুরো মুভিটি সাজানো হয়েছে। যা মানুষকে মনের টাইম মেশিনে করে ভবিষৎ পৃথিবীর কল্পায় ডুব দেওয়ায়। এনিমেশন মুভি যে এত ভালো হতে পারে আমার ধারনার বাইরে ছিলো। charlie chaplin এর সমস্ত মুভি আমার ভীষন প্রিয়। আমি চার্লি চ্যাপলিনের প্রতিটা মুভি অসংখ্যবার করে দেখেছি। আরো দেখব। চার্লি চ্যাপলিনের the city lights মুভিটা আমার সবচেয়ে প্রিয়। আমি কমপক্ষে একশ' বার দেখেছি। চ্যাপলিনের The kid মুভিটা দেখলে আমার মন খুব বিষন্ন হয়ে যায়। কয়েকটা দৃশ্যে চোখ ভিজে আসে।

Inception এই মুভি চালাক বা বুদ্ধিমান মানুষদের জন্য। বোকা মানুষ এই মুভি দেখলে কিচ্ছু বুঝবে না। এই মুভিতে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। গ্রেট অভিনেতা। মাথা নষ্ট মুভি একেই বলে। বাংলা সিনেমা ঘুড্ডি দেখলাম। আগেও বেশ কয়েকবার দেখেছি। ১৯৮০ সালে সিনেমাটি মুক্তি পায়। এই সিনেমায় অভিনয় করার সময় সুবর্ণ মুস্তাফা যে ক্লাস টেনের ছাত্রী ছিলেন, তা বুঝতেই পারি নি! কি পরিপক্ব অভিনয়, কি এলিগ্যান্স, কি অদ্ভুত সুন্দর ডায়ালগ! No mercy কোরিয়ান মুভি। প্রতিশোধ যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা জানতে হলে দেখতে হবে কোরিয়ান এই মাস্টার পিছ মুভিটি। মাথা নষ্ট মুভি। বেশ কয়েকবার দেখেছি। গল্প হলেও সত্যি দেখলাম। দেখলাম সাড়ে চুয়াত্তর। কোলকাতার বহু পুরানো মুভি। সাদা কালো। ভালোই লেগেছে। নিমাই ভট্রাচার্যের বিখ্যাত উপন্যাস মেম সাহেব। সিনেমাটা দেখলাম। তবে মুভিটা ভালো হয়নি।

Eternal Sunshine of The Spotless Mind চমৎকার রোমান্টিক মুভি। মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। আবারও দেখবো। La La Land দারুন রোমান্টিক মুভি। পুরো মুভি আমাকে এক মুহুর্তের জন্যও বিরক্ত হতে দেয় নি। এই মুভিটাও আবার দেখবো। A Moment to Remember কোরিয়ান মুভি। কোনো মারামারি নাই। কাটাকাটি নাই। কিন্তু মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। চমৎকার কাহিনী। আবেগী মানুষরা এই মুভি দেখলে কেঁদে ফেলবে নিশ্চত। shutter island (শাট্টার অইল্যান্ড) ২০১০ সালে সিনেমাটি মুক্তি পায়। শাটার আইল্যান্ড চমৎকার মুভি। মুভির প্রধান ভূমিকায় আছেন, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। মুভিতে তিনি একজন ইনস্পেকশন হিসেবে একটা আইল্যান্ডে যাবেন। যেখানে একটা জেলখানা রয়েছে পাগল সেখানে গিয়ে তিনি ইনস্পেকশন করতে গিয়ে কিভাবে নিজেই পাগল হয়ে ওই জেল খানায় ভর্তি হয়েছেন সেই নিয়েই। মুভিটা গতকাল রাতে আরেকবার দেখলাম। সুন্দর থ্রিলার মুভি। দারুন লেগেছে।

the god must be crazy (দ্য গডস মাস্ট বি ক্রেজি) চমৎকার মুভি। এই মুভি যতবার দেখেছি হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছি। এই মুভির সন্ধান দেয় আমার বন্ধু রাব্বি। ওর বাসায় এই মুভি প্রথম দেখি। এই সিরিজের ৪ টা মুভি আছে। চারটাই চমৎকার। Children of Heaven ইরানি এক মাস্টারপিস মুভি। দরিদ্র এক পরিবারের দুই ভাই বোনের মধ্যকার ভালবাসা রাগ অভিমানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ছবির প্লট। দূর্দান্ত সিনেমা। অসংখ্যবার দেখেছি। আবার দেখবো। Andhadhun (আন্ধাধুন) হিন্দি মুভি। থ্রিলার মুভি। ভালো মুভি। এই মুভির সবচেয়ে ভালো দিক। এই মুভি আপনাকে বিরক্ত হতে দিবে না। মুভির কাহিনী একেবারে অন্যরকম। মুভির প্রথম দৃশ্যটা এই রকম-এক খরগোশ জমির ফসল নষ্ট করে। কৃষকের মাথা খারাপ অবস্থা। একদিন কৃষক রেগেমেগে বন্ধুক নিয়ে খরগোশকে তারা করে।

A Family Man সুন্দর সিনেমা। ২০১৬ সালে সিনেমাটা মুক্তি পায়। একজন খেঁটে খাওয়া মানুষ, যে প্রতিনিয়ত তাঁর পরিবার এবং ক্যারিয়ারের মাঝে সমতা বজায় রাখতে চেষ্টা করছেন, ম্যানেজ করছেন। কিন্তু জীবন যখন তাঁকে পরীক্ষায় ফেলে দেয়, সে কি করে? অসাধারণ মুভি, সকল পারিবারিক এবং সামাজিক জীবের দেখা উচিত। The forrest gump টম হ্যাংসের জীবনের সেরা মুভি এইটা। তার অনবদ্য অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করছে। অলরেডি এই মুভি দশবার দেখে ফেলেছি। একটুও বিরক্ত লাগে নি। মুভিতে ভিয়েতনামের যুদ্ধের দৃশ্য গুলো দারুন দেখেছে। Life is beautiful আমার ধারনা, এই মুভি দুনিয়ার সবাই দেখে ফেলেছে। এই মুভি না দেখাটা অন্যায়। train to busan ভাইরাসের কারনে সারা দেশে জম্বি ভরে গেছে। যেতে হবে বুসান। টান টান উত্তেজনায় চলে যাবে পুরোটা সময়। চার বার দেখেছি।

saw the devil না না এটা কিন্তু মুভির ভিলেনকে বলা হচ্ছে না। এখানে বরং ভিলেন বলছে 'i saw the devil' তাও আবার হিরোকে দেখে। একজন সাইকো সিরিয়াল কিলার একের পর এক মেয়েকে রেপ করে তারপর খুব নৃশংস ভাবে হত্যা করছে। নায়কের গর্ভবতী বউও এই ভয়াবহতার শিকার হয়। নায়ক চাকরি থেকে মাত্র ৭ দিনের ছুটি নিয়ে খুনির পিছনে লেগে পরে। খুনিকে ধরেও ফেলে কিন্তু মেরে ফেলাই কি প্রতিশোধ? নায়ক চাইছে সাইকো কিলারকে চরম কষ্ট দিয়ে দিয়ে মারতে। দূর্দান্ত এক মুভি। এই মুভি কোরিয়ান ছাড়া অন্য কেউ বানাতে পারবে না। নো নেভার। Triangle এই মুভি দেখে আমার মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিলো। এরকম মুভি খুব কম আছে। এই মুভি মাথায় যন্ত্রনা দেয়। আমি এই মুভি একরাতে তিনবার দেখেছি। তারপর আমার যন্ত্রনা থেকে মুক্তি মিলেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৭
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×