somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ধার্মিক নয় মানুষ হও

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আসল ধার্মিকেরা নিজ ধর্ম নিয়ে থাকে আর অন্য সব ধর্মকে সম্মান করে।
যে নাস্তিক তার উচিত না অন্যদের আস্থা বা বিশ্বাসকে নিয়ে কথা বলা। যে কোনো ধর্ম নিয়ে আপনার জানার থাকলে ধর্মগ্রন্থ পড়বেন। পড়ে জানবেন। মানুষের কাছ থেকে ধর্ম জানতে গেলে সেই মানুষটি ধর্মের মধ্যে যদি বিষ ঢেলে দেয় তাহলে তো সেটাই বিশ্বাস করবেন। কাজেই নিজে পড়ে জানুন। এটাই বেস্ট।
আমাকে যদি প্রশ্ন করেন, ধর্ম মানুষকে কী দেয়? আমি বলব, ধর্ম মানুষকে মিথ্যা সান্ত্বনা দেয়। কাজেই কাউকে জিজ্ঞেস না করে, পড়ে জানুন আসল সত্যটা। অন্যের মুখের স্বাদ খেতে যাবেন না। পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম হচ্ছে নাস্তিকতা। মুসলমানদের আসল শত্রু হল মুসলমানেরা নিজেই। গত একশো বছরে যত মুসলিম খ্রিস্টান বা ইহুদিদের হাতে মারা গেছে তার চেয়ে সহস্রগুণ বেশি মারা গেছে মুসলিমদের হাতে। পশ্চিমা ইহুদি নাছারাদের গালি দেবার আগে একটু ভাবুন। ধর্মকে অতিরিক্ত আক্ষরিকভাবে অনুসরণ করতে গিয়েই মুসলিমদের এই দুর্দশা। দুর্দশার জন্য আপনি অন্যদের যত খুশি গালি দিতে পারেন না।

ধর্মীয় বিষয়ে একটা সামাজিক চাপ থাকে।
তা মোকাবেলা করা কঠিন বটে। বাংলাদেশের মানুষেরা সামাজিক চাপ আর মানসিক স্বস্তির জন্য ধর্ম পালন করছে। তারা ধর্মের নৈতিক শিক্ষাকে গ্রহণ করছে না। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের মানুষেরা প্রকৃত ধার্মিক বা ধর্ম ভীরু না হয়েও ধর্মের আনুষ্ঠানিকতার দিকে ঝুকে পড়ছে। ইসলাম ধর্মেও দ্বীনের নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কেউ যুদ্ধ করতে হয়েছে। ভাবলে অবাক হতে হয়, খোদ আল্লাহ প্রেরিত পৃথিবীর একমাত্র সত্য ধর্ম (ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে) ইসলামও দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেনি। ধর্ম জিনিসটা বর্তমানে আত্মসম্মানে রূপ নিচ্ছে, অলৌকিক সত্তা নিয়ে অনেকেই চিন্তাও করে না, বা বিশ্বাসও করে না। কিন্তু ধর্ম নিয়ে কেউ কিছু বললে ক্ষেপে যায়, তখন তারা যে কোন কিছু করতে পারে, এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক। অবশ্য যেখানে একই মায়ের পেটের দুই সন্তান আলাদা আলাদা মানসিকতার হয়, সেখানে দুটি বিপরীত ধর্মের রীতিনীতি আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক।

কিছু ধার্মিক ঈশ্বরকে বাঁচাতে তার ধর্মকে বাঁচাতে একে অপরের কল্লা কেটে নিতে দুইবার ভাবে না! ঈশ্বরের ক্ষমতার উপর তাদের কত বড় বিশ্বাস ভাবুন একবার! ওহে ধার্মিক, ধর্ম কোনোদিন বিরোধী হতে পারে না। যেই মানুষ ধর্মের কারণে বিরোধ খুজেঁ পায়, আমি তাকে আর যাই হোক ধার্মিক মানতে পারি না। কিন্তু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক যেই কারণেই হোক, ধর্মের বিরোধিতা তৈরী করা হয়েছে। হচ্ছে। একটা শিশুকে ধার্মিক হওয়া শেখানোর আগে 'মানুষ' হওয়া শেখাতে হবে সবার আগে। সমাজে ধার্মিক নয় ভালো 'মানুষ' দরকার। ধর্ম মানুষকে মরালিটি শেখায়, সহিষ্ণুতা শেখায়, প্রকৃতি ও সব জীবকে ভালোবাসতে শেখায়। কিন্তু ধার্মিকেরা এসব শিখছে না। যখন ডাক্তার চিকিৎসা না করে যদি বলতে আরম্ভ করে যে দোয়া দরুদ পড়ুন, বিচারক যদি বলেন যে, ধর্মে বলা আছে যে- অপরাধ প্রমান করতে চারজন সাক্ষী লাগবে, নাহলে অপরাধী সাজা পাবে না। নিচু জাতি বলে কাউকে জল দেওয়া যাবে না ইত্যাদি।

লালন ফকির একজন সমাজ সংস্কারক।
লালন সব ধর্মই পালন করতেন, যে নিয়মগুলো মানুষের কল্যাণের জন্য, সেগুলো মানতেন, আর যেগুলো কুসংস্কারে ভরা সেগুলো বাদ দিতেন। মহৎ বাউল ফকিরদের ধর্মটাই এমন। তারা অধিক যুক্তিবাদী, চোখ বুজে 'কেতাবে' বলেছে বলে কিছু তারা বিশ্বাস করেন না। মহামানবেরা কোন নির্দিষ্ট ধর্মের গন্ডিতে আবদ্ধ থাকেন না। থাকতে পারেন না। তারা ধর্ম, জাতি, দেশ, কালের সীমানার অনেক অনেক উপরে।
পৃথিবীতে প্রচুর মানুষ আছে, যাদের একমাত্র কাজ কিভাবে অন্যকে একটু খাটো করে দেখানো যায়, কিভাবে অন্যের সাফল্যকে কালিমাযুক্ত করা যায়। এই মানুষগুলোর একমাত্র সুখ আপনার মনকে বিষিয়ে তুলে, আপনার অর্জনকে যতদূর সম্ভব খাটো করে দেখাবে। এই মানুষগুলোর কটু কথায় নিজেকে নিয়ে এক বিন্দু দ্বিধা করবে না। জেনে রাখবেন, পৃথিবীতে এদের সংখ্যাই বেশি। গৌতম বুদ্ধ ধম্মপদে বলেছেন, 'যুদ্ধের ময়দানে হাতীর গায়ে হাজারটা তীর নিক্ষেপ করলেও সে যেমন ধীরস্থির থাকে, আপনাকেও একই রকম স্থিতধী হতে হবে। নিন্দুকের কটু কথা, যে সহ্য করতে পারে সে রাজ্যজয়ী বীরের চাইতেও উত্তম'।

আপনার ধর্ম হোক মানবতার।
জগতের কল্যাণের, চিন্তাশক্তির বিকাশ, বিজ্ঞান ও যুক্তির উন্মেষ। ছেলেভুলানো আষাঢ়ে গালগল্পকে কখনোই ধর্ম হিসেবে মেনে নিও না বন্ধু। প্রশ্ন করো, সবকিছুকে প্রশ্ন করো- বিনা প্রশ্নে মেনে নেয়াকেই পরম পাপ বলে জেনো। ধার্মিক হতে চান, ঈশ্বর মানতে চান আপত্তি নেই কিন্তু বিশ্বাসকে বিশ্বাসের জায়গায় রাখতে শিখুন। একজন মূর্তি পুজোয় বিশ্বাস করে না বলে অন্যজন মূর্তি পুজো করতে পারবে না এটা যে একটা আধিপত্যবাদী মনোভাব সেটা বুঝতে শিখুন। এই মনোভাব কোনো ধার্মিককে শোভা দেয় না। অন্যের বিশ্বাসের প্রতি যে সহিষ্ণুতা দেখাতে পারে না তাঁর নিজের ঈশ্বর বিশ্বাসের কোনো সার্থকতা নেই, সে ঈশ্বর মূর্ত হোক কি বিমূর্ত। এমন কোনো দেশের নাম জানেন যেখানে সকল ধর্মই নিষিদ্ধ? হয়ত জানেন কেউ কেউ। সেটি হলো উত্তর কোরিয়া। ওখানে ভগবান কেবল একজনই, তিনি কিম-জং-উন! উত্তর কোরিয়া দেশটিতে হয়ত 'শান্তির বিস্তার' আছে।

আমার চিন্তা করার জন্য একটা মস্তিষ্ক রয়েছে।
আর ভালোমন্দ বিচার করার মত সামান্য হলেও বোধবুদ্ধি আর শিক্ষা রয়েছে (যদিও সেটা যথেষ্ট না তাই গুরুজন আর শিক্ষক বা গুরুরা গুরুত্বপূর্ণ)। এই দু'য়ে মিলে বিচার করে যেটা আমার ঠিক মনে হয় এবং যেটা আমাকে আনন্দিত করে সেটা করি বা অনুসরণ করতে চেষ্টা করি (অনেকসময়েই পারি না) আর যেটা ভুল বা বিরক্তিকর মনে হয় সেটা মানি না।
পাশের বাড়ির ছেলেটি চিকিৎসার অভাবে তিলে তিলে মরছে। সেদিকে খেয়াল নেই। খেয়াল আছে হজ্বে তিনবার গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করার, খেয়াল আছে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে কুরবানি করার। এরই নাম ধর্ম?
সহজ সরল সরল সত্য কথা হলো- এই সমাজ, এই ধর্ম কোনদিন কোন মানুষের উপকার করে নি। সমাজের উপকার হতো যদি ধার্মিক না হয়ে মানুষ 'মানুষ' হতো। ধর্ম নিরপেক্ষতার আরেকটা ব্যপার হচ্ছে, যিনি বা যারা কোনো ধর্মই বিশ্বাস করে না, বা মানে না তাদের প্রেশার দেয়া যাবে না। কেউ ধর্ম বিশ্বাস নাও করতে পারে। মাইক লাগিয়ে ধর্মের গুনগান করা গেলে, প্রকাশ্যে কেন ধর্ম মানি না সেটা বলা যাবে না? Act as if what you do makes a difference. It does!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১০
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×