
ছবিঃ আমার তোলা।
আজ সুরভির জন্মদিন।
৭ই মার্চ। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনের কারনে তারিখটা ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। সুরভিকে নিয়ে আমি সামুতে অনেক লেখা লিখেছি। আমার বহু লেখায় ঘুরে ফিরে সুরভির কথা বারবার এসেছে। আসাটাই স্বাভাবিক। সুরভির কারনে আমার ছোট্র পরিবারটি সুখী, সুন্দর এবং আনন্দময়। সুরভিকে বিয়ের পর আমার জীবনটা বদলে গেছে। একদম সাজানো গোছানো টিপটপ। সুরভি নামাজ পড়ে, কোরআন পড়ে। রোজা রাখে। আমাকে নামাজ পড়ানোর জন্য তাগাদা দেয়। মাঝে মাঝে সুরভি আমাকে কোরআন এর সূরা গুলো বাংলা অর্থ পড়ে শোনায়। আমার তিন মাসে পা রাখা কন্যা ফাইহাকে ননসেন্স রাইম না শুনিয়ে, সূরা শুনিয়ে ঘুম পাড়ায়।
আজ বাসায় একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।
আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবদের দাওয়াত দিয়েছি। গত বছর কোরনার জন্য অনুষ্ঠান করা হয়নি। ভাবী রান্না করবে। আমি বাজার করেছি। অনুষ্ঠানের কথা সুরভিকে জানানো হয়নি। সন্ধ্যায় একসাথে সমস্ত লকজন দেখে সুরভি বিস্মিত হয়ে যাবে! ফাইহাকে কোলে নিয়ে, পরীকে পাশে বসিয়ে সুরভি কেক কাটবে। আমি তাদের ছবি তুলে দিবো। খুব মজা হবে। সুরভির জন্য বেলি রোড থেকে একটা শাড়ি কিনেছি। শাড়িটা অনেক সুন্দর। নানান রঙের কিছু ফুল কিনবো। সুন্দর একটা তোড়া বানাবো। ফুলের তোড়া সুরভির হাতে দিয়ে বলব- শুভ জন্মদিন। ভালো থাকো। সুস্থ থাকো। জীবন হোক আনন্দময়।
সুরভির সাথে খুব অদ্ভুত ভাবে আমার পরিচয় হয়।
তারপর দুই তিন বছর প্রেম। এবং বিয়ে। সুরভি মাস্টার্স পাশ করার পর কিছু দিন চাকরি করেছিলো। এখন সে পুরোপুরি গৃহিণী। আমি সুরভিকে বলেছি, যদি ঘরসংসার নিয়ে এত ব্যস্ত থাকো, তাহলে মাস্টার্স পাশ করে লাভটা কি? ঘর সংসার করার জন্য মাস্টার্স পাশ লাগে না। সুরভি বলে, 'আমি চাকরি করলে আমার ঘর সংসার সামলাবে কে? সবার আগে আমার সংসার'। আমি কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরজবরদস্তি করতে চাই না। এটা আমার স্বভাব না। একবার নীলগিরি পাহাড়ে গিয়ে আমি ঘন্টা লুকিয়ে ছিলাম, সুরভি আমাকে খুঁজে পায় নি। সুরভি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলো। আরেকবার কক্সবাজার সমুদ্রের পাড়ে গিয়ে আমি ইচ্ছা করে হারিয়ে গিয়েছিলাম। আমি দূর থেকে সুরভিকে লক্ষ্য রেখেছি। বেচারি পাগলের মতো সমুদ্রের পাড়ে আমাকে খুঁজছিলো।
সুরভি অনেক ভূরের গল্প জানে।
সবই তার দাদীর কাছ থেকে সে শুনেছে। যে রাতে আমার ঘুম আসে না। সেসব রাতে সুরভি আমাকে ভূতের গল্প শোনায়। আমি ছাদে চাঁদর বিছিয়ে চায়ের মগ হাতে নিয়ে সুরভির ভূতের গল্প শুনি। আর হাসি। সুরভি একসময় খুব বই পড়তো। লিখতো। বিয়ের পর সে বইও পড়ে না, লিখেও না। আজিব! মিথ্যা বলব না, বাড়িয়েও বলব না- সুরভির হাতের রান্না খুব ভালো। যা রান্না করে তা-ই খেতে ভালো লাগে। মাঝে মাঝে বিকেলে ডিম চপ বানায়। খেতে দারুন হয়। সামান্য ডিম চপ অথচ কি সুন্দর করেই না তৈরি করে। এত ভালো ডিম চপ আমি আমার জীবনে খাই নাই। পঞ্চাশ জন মানুষের রান্না সুরভি একাই করতে পারে। সুরভির হাতের নেহারি অসাধারণ হয়। সাসলিক, কাচ্চি, তেহারি আর আলু ভর্তা যা-ই রান্না করুক খেতে খুব স্বাদ হয়।
সুরভিকে কখনও বলি না- আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আসলে ভালোবাসার কথা বলতে হয় না। হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা কথা অন্য হৃদয়ে এমনিতেই গিয়ে পৌঁছে যায়। যেখানে সঠিক স্বচ্ছ পবিত্র ভালোবাসা থাকে না, সেখানেই লোক বারবার ভালোবাসার কথা বলে। সারাদিন হাজার বার বললেও লাভ নেই, আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভালোবাসা অনুভব করার ব্যাপার। মুখে বলতে হয় না। সেটাই আসল ভালোবাসা। আজকালকার ছেলে মেয়েরা মুখে মুখে হাজার বার করে বলে, ভালোবাসি ভালোবাসি। অথচ যাকে বলা হচ্ছে সে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসা অনুভব করতে পারে না। সুরভি আমাকে ভালোবাসার কথা বলে না। অথচ আমি প্রতিনিয়ত ভালোবাসা টের পাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১১:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




