
এক কেজি টোমেটো মাত্র ১৫-২০ টাকা।
এক কেজি আলু মাত্র ১৫-২০ টাকা। সবজির বাজারে গিয়ে আমি তো অবাক! টিনের চালে কাক। বড় একটা রুই মাছ পাওয়া যায় ৪০০ টাকায়। বড় বড় আপেল বড়ই মাত্র ৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংসের দাম অবশ্য বেশী- ৬০০ টাকা কেজি। ভাতের চাউল এর দামও বেশী। আদা রসুন এর দামও অনেক বেশী। তাতে কি দেশে প্রতিদিন প্রচুর বাইক বিক্রি হচ্ছে, গাড়ি বিক্রি হচ্ছে, ফ্লাট বিক্রি হচ্ছে। নতুন নতুন রেস্টুরেন্ট হচ্ছে, বাজারে আর বড় বড় শপিংমল গুলোতে মানুষের প্রচন্ড ভিড়। কক্সবাজার আর বান্দরবানে ভিড়। তার মানে মানুষের হাতে টাকা আছে। বেঁচে থাকুক আওয়ামীলীগ সরকার। বেঁচে থাকুক হাসিনা। জয় বাংলা।
বাজারে শুধু চাষের মাছ দিয়ে ভরা।
তাহলে দেশী মাছ কারা খায়? দেশী মাছ গুলো কই যায়? কাঁদের ভাগ্যে জোটে। ভালো ভালো খাবারও কি দুষ্টলোকদের দখলে চলে গেছে? বাঙ্গালী দুইটা জিনিস শিখে গেছে। এক, খাওয়া। দুই, ঘুরতে যাওয়া। এই করোনা কালে সব ব্যবসা ফেল মেরেছে। কিন্তু খাবারের ব্যবসায়ীরা ভালো ব্যবসা করেছে। করোনার মধ্যেও মানুষ কক্সবাজার আর বান্দরবানে ভিড় করে ফেলেছে। হাসিনা সরকারের আমলে মানুষের হাতে টাকা এসেছে। কিছু লোকজন পাগলের মতো ফ্লাট, গাড়ি, জমি আর বাইক কিনেছে। কেউ কেউ শুধু ব্যাংকে টাকা জমিয়েছে। মানুষের হাতে এত টাকা হয়েছে যে সামান্য বিয়ের কেনাকাটা করতেও লোকে কলকাতা অথবা দুবাই যাচ্ছে। চিকিৎসা করাতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর।
সবার এত এত পরিবর্তন!
আমি শালা সেই দিন আনি, দিন খাই অবস্থায়ই রয়ে গেলো। আমার এক বন্ধু ছাত্রলীগ করে সে আজ সীমাহীন টাকার মালিক। বউ নিয়ে ইউরোপ ট্যুর দিয়ে এলো করোনার আগে। ছাত্রলীগওলা যেখানে যায় তার পেছনে কমপক্ষে ত্রিশ জন পোলাপান থাকে। একটা সরকারী কলেজে শুধু তার পোস্টার দিয়ে ভরা। যেন সরকারি কলেজটা তার বাপ দাদার সম্পদ। চ্যাংড়া চ্যাংড়া পোলাপান সারাদিন বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আর আমার একটা বাইসাইকেল নাই। জীবনে কি করলাম? কি বাল ফালাইলাম! এই শহরে আমার গাড়ি নাই, ফ্লাট নাই। ব্যাংকে টাকা নাই। নেই এক টুকরো জমি! পোড়া কপাল আমার। জীবনটা বৃথা গেলো!
মানুষের কত টাকা!
বিদেশ থেকে নর্তকী এনে গ্রামে নিয়ে গিয়ে নাচায়। পরিবারসহ কাজের লোক নিয়ে মালোশিয়া যায়। হেলিকাপ্টারে করে গ্রামের বাড়ি যায়। গ্রামে বিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ি করে। সরকারী লোক না তবু পুলিশ এসে রাতে বাড়ি পাহাড়া দেয়। এত এত টাকা তাদের খরচ এর পথ পায় না। তখন পিতামাতার নাম দিয়ে ফাউন্ডেশন খুলে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গরীবদের টাকা দেয়। চাল দেয়। ঢাকা থেকে বড় ডাক্তার নিয়ে গিয়ে গরীব গ্রাম বাসীর চক্ষু পরীক্ষা করে। এতিমখানায় টাকা দেয়। মসজিদে টাকা দেয়। অবশ্য এত কিছু করার কারন হলো- সে গ্রামবাসীর মন জয় করতে চায়। এমপি হতে চায়। দশ কোটি টাকা দিয়ে দলের কোনো একটা পদ কিনে নেয়।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




