
পাকিস্তানে এক মাফিয়া আশ্রয় নিয়েছে।
এই মাফিয়া ইন্টারন্যাশনাল। সারা বিশ্বে তার লোকজন রয়েছে। পাকিস্তান তাকে খুব সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও এত সুযোগ সুবিধা পায় না। এই মাফিয়া ডনকে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা সব রকম সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। সেই মাফিয়া ইন্ডিয়াতে হামলা চালাবে। এই হামলার খবর ইন্ডিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জেনে গেছে। ইন্ডিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বেশ চিন্তিত। এদিকে ইন্ডিয়ার মন্ত্রী তাদের গোয়েন্দা সংস্থাকে বলে দিয়েছে- যে করেই হোক, মাফিয়া যেন হামলা চালাতে না পারে। এর আগেই তাকে গ্রেফতার করতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ব্যাক্তির মুখে চিন্তার ভাঁজ।
এখন নায়কের আগমন হয়।
এই মুভির নায়ক বিরাট কামিলদার। সে একজন ডাক্তার। সে একজন ব্যাংকার। সে আবার ইন্ডিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার চৌকস অফিসার। ইন্ডিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান নায়ককে দায়িত্ব দেয় মাফিয়া ডনকে গ্রেফতার করার। নায়ক বলেছে, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। পাকিস্তানে থাকা এই মাফিয়া ডনকে এনে আপনার পায়ের কাছে ফেলবো। এদিকে পাকিস্তানে থাকা মাফিয়ার লোকজন অলরেডি ইন্ডিয়ার বর্ডারের কাছে গোপন মিটিং করতে থাকে। কিভাবে তারা ভারতে হামলা চালাবে। এসমন সময় নায়ক বর্ডারে চলে আসে। দুই হাত দিয়ে ননস্টপ গুলি করতে করতে সে তিন তলা সমান দেয়ালে উঠে যায় কোনো রকম দড়ির সাহায্য ছাড়াই। এই দৃশ্যটা টেনে টেনে আমি পঞ্চাশ বার দেখলাম।
এদিকে একদিন নায়ক তার ব্যাংকে আসে।
ব্যাংক ম্যানেজার নায়ককে খুব বকাঝকা দেয়। কারন সে বছরে অর্ধেক সময় অফিসে আসে না। এই ব্যাংকে একদিন নায়িকার আগমন হয়। নায়িকার এই ব্যাংকে অনেক টাকা পয়সা আসে। সে একজন ভালো গ্রাহক। উল্লেখ্য, নায়িকার বাবা-মা মারা গেছে। তবে তারা নায়িকার জন্য সীমাহীন টাকা-পয়সা আর সম্পত্তি রেখে গেছেন। নায়িকার কাজ হলো- সে সারাদিন ছোট ছোট জামা পড়ে বান্ধবীদের নিয়ে শপিংমলে ঘুরে বেড়ায়। এদিকে নায়কের বাপ-মা ব্যাংকে চাকরি করতো। তারা নায়ক ছোট থাকতেই এক সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। অনেক অনেক কষ্ট করে ব্যাংকার হয়, ডাক্তার হয় এবং গোয়েন্দা সংস্থায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নেয়। নায়কের মুখ ভরতি দাঁড়ি। কপালে কাটা দাগ। নায়কের কিছু অলৌকিক ক্ষমতা। সে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকেই বলে দিতে পারে- রেস্টুরেন্টে কয়টা চেয়ার টেবিল আছে। রেস্টুরেন্টের রান্না ঘরের হালহকিকত।
যাই হোক, নানান ভুংভাং করে সিনেমার কাহিনী এগিয়ে যায়।
এর মধ্যে নায়কের চারজন বন্ধুকে পাকিস্তানে থাকা মাফিয়া ধরে নিয়ে যায়। এই চারজন বন্ধু আবার নায়কের সাথে গোয়েন্দা সংস্থাতে কাজ করে। এবং মাফিয়া এক ভিডিও বার্তা পাঠায়। নায়ক এসে যেন তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। মাফিয়া সময় বেঁধে দেয় ৪৮ ঘন্টা। নায়কের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। সে ভিসা, পাসপোর্ট ছাড়াই কিভাবে যেন পাকিস্তান চলে যায়। পাকিস্তান গিয়ে সে মাফিয়ার কোনো খোঁজ খবর পায় না। সারাদিন সে করাচীর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। এদিকে ৪৮ ঘন্টা সময় শেষ হতে চললো। মাফিয়া নায়কের চার বন্ধুর এক বন্ধুকে গলা কেটে মেরে ফেলে। গলা কাটার ভিডিও দেখে নায়ক খুব কষ্ট পায়। কান্না করে। কাঁদতে কাঁদতে সে একটা বারে যায়। মদ খায়। তখন তার এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। মেয়ের নাম শাহনাজ।
শাহনাজ বারে নাচ গান করে।
অনেক সুন্দরী মেয়ে সে। নায়ক তার কাছে যায়। শাহনাজ বলে, আমি তোমাকে মাফিয়াকে খুঁজে দিতে পারই। দেখা গেলো শাহনাজ তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান। সে তার গোপন সব ক্যামেরার মাধ্যমে মাফিয়া ডনের সন্ধান নায়ককে দেয়। এইবার আর পায় কে!! নায়ক শাহনাকে নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্থান এর বর্ডারের কাছে যায়। মাফিয়া মাটির নীচে এক রাজপ্রসাদে থাকে। যাই হোক, অনেক মারামারি হয়, কাটাকাটি হয়। খুনোখুনি হয়। নায়ক একাই অসংখ্য মানুষকে মেরে ফেলে। এই নায়কের কাছে সুপারম্যান, স্প্রাইডারম্যান সব ফেল। এরকম গাজাখুরী মুভি দেখে মেজাজ আমার প্রচন্ড খারাপ হয়েছে। মুভির নাম জানতে চাইবেন না। সমস্যা হলো- একই মুভি ইউটিউবে বিভিন্ন চ্যানেলে বিভিন্ন নামে ছাড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




