
আমি এখন হিসাব করে খাই।
ভালো খাদ্য খাই। ভালো খাদ্যের উপর নির্ভর করে শারীরিক সুস্থতা। ফার্মের মূরগী খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। চাষের মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। ফলমুলও বেছে বেছে খাই। আমার কথা হলো- অল্প খাবো, ভালো খাবো। ভালো খাবার খেলে শরীর ভালো থাকে। এজন্য বাসার জন্য কেনাকাটা করার সময় সব সময় ভালো এবং উন্নতটা ক্রয় করতে চেষ্টা করি। আমি জানি ঢাকা শহরের কোথায় কোনটা ভালো পাওয়া যায়। যে জিনিস যে জায়গায় ভালো পাওয়া যায়, আমি সেখান থেকেই কিনি। এতদিন এলোমেলো বাজার করেছি। আর না। পরিবারকে সুস্থ রাখতে হলে ভালো বাজার ছাড়া উপায় নাই। অন্যথায় শুধু ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। আর ডাক্তার মানেই নানান রকম টেস্ট আর ওষুধ। একগাধা ফালতু টাকা খরচ।
মাঝে মাঝে বাজার করে জিতে যাই।
সেদিন সন্ধ্যার পর বাজারের সামনে দিয়ে বাসায় আসছি। দেখলাম একলোক চারটা মাঝারি সাইজের দেশী মূরগী নিয়ে বসে। দাম জিজ্ঞেস করলাম। বলল, ২৪০০ শ' টাকা। দেশী মূরগীর দাম বেশী হয়। আমি বারো শ' টাকা বললাম। চারটা মূরগী দিয়ে দিলো। বিক্রেতা নিজেই সুন্দর করে মূরগী কেটেকুটে দিয়ে দিলো। এর জন্য আলাদা টাকাও চাইলো না। আমি বাজারে এক দোকান থেকে নিয়মিত খেজুর কিনি। আমি সাধারনত 'আজওয়া' অথবা 'মরিয়ম' খেজুর কিনি। ৮ শ' থেকে বারো শ' টাকা কেজি দাম নেয়। কিন্তু সব সময় খুজুর গুলো একরকম হয় না। অন্য খেজুর মিক্স করে দেয়। সেদিন দোকানদার বললো, আপনি নিজের হাতে বেছে নেন। আমি বেছে বেছে এক কেজি খেজুর নিয়ে নিলাম। খুব সুন্দর বড় বড় সব খেজুর।
গত শুক্রবার একটা পেঁপে কিনলাম।
দেড় কেজি হয়েছে। ৬০ টাকা করে কেজি। বাসায় এনে দেখি পেঁপে টা একেবারেই ভালো হয়নি। পেঁপে আমি খাই না। সুরভি খায়। পরের দিন দোকানদারকে বললাম, কি পেঁপে দিলেন মিয়াঁ, একেবারেই ভালো হয় নি। খাওয়া যায় নি। দোকানদার নিজে একটা পেয়ে বেছে দিলেন। টাকা নিলেন না। খুব সুন্দর পেঁপে হয়েছে। সুরভি খেয়ে আরাম পেয়েছে। এবার বাজারে খুব আপেল বরই উঠেছে। বড় বড় বরই। দেখতে অনেকটা অস্টেলিয়ান ছোট আপেলের মতোন। কেজি এক শ' থেকে এক শ' বিশ টাকা। সেদিন বাসাবো এলাকায় দেখলাম একলোক আপেল বরই বিক্রি করছে। দাম জিজ্ঞেস করলাম। বললো- ৫০ টাকা কেজি। দুই কেজি কিনলাম। তাও আবার একটা একটা করে বেছে বেছে। বরই গুলো খুব ভালো ছিলো। আর কি মিষ্টি! এই বরই কূল বরই এর চেয়ে অনেক বেশী মিষ্টি।
আমি প্রতিদিন এক ডজন করে কলা কিনি।
হোক চম্পা বা সবরি অথবা সাগর কলা। দোকানদার কলা গুলো ভালো দেয়। খেতে ভালো লাগে। মাঝে মাঝে আমি এক বসায় চারটা কলা খেয়ে ফেলি। বাসার মোড়ে একলোক দেখলাম ভ্যানগাড়িতে করে তরমুজ বিক্রি করছে। বড় বড় তরমুজ। অনেক বড় একটা তরমুজ কিনলাম। দাম নিলো ৩৫০ টাকা। সেই রকম তরমুজ হয়েছে। যেমন লাল, তেমন মিষ্টি। আমি নিজের হাতেই তরমুজ কাটলাম। বাসার সবাই খেয়ে মুগ্ধ! সুরভি বলল, রাজীব ফলটা ভালো কিনে। সুরভি'র কথা শুনে খুশি লাগলো। বললাম, আরেকটা নিয়ে আসবো। বাসায় গেস্ট আসবে চার কেজি গরুর মাংস লাগবে। কিনলাম। দোকানদার ভালো মাংস দিলো। মাঝে মাঝে দোকানদারেরা এত ভাল হয়ে যায়। সুরভি বলল, মাংসটা ভালো দিয়েছে। সুরভির কথা শুনে ভালো লাগলো।
আমার রাতে ঘুম আসে না।
ভোর পর্যন্ত জেগে থাকি। রাত জাগলে ক্ষুধা লাগে। এজন্য আমি নানান রকম খাবার এনে রাখি। নানান রকম বিস্কুট রাখি ডিব্বা ভরে। চকলেট বিস্কুট, নুনতা বিস্কুট, মিষ্টি বিস্কুট, টোস্ট বিস্কুট, ক্রীম বিস্কুট। যখন যেটা ভালো লাগে খাই। মাঝে মাঝে শুধু মুড়ি খাই। মুড়ি খেলে নাকি গ্যাস্ট্রিকের জন্য আরাম হয়। দুই বাটি মুড়ি খেয়ে ফেলি। এমনি মুড়ি ভালো না লাগলে কিছু চানাচুর নিয়ে নেই। লিখি, পড়ি, মুভি দেখি- মুহুর্তের মধ্যে রাত পার হয়ে যায়। কোক, ফানটা খাই। কোক, ফানটা না থাকলে ঠান্ডা পানিতে গুলিয়ে ট্যাং খাই। রাত জাগতে বিরক্তি লাগে না। অভ্যাস হয়ে গেছে। বরং রাতের সময়টা দিনের চেয়ে বেশী আনন্দময় লাগে। আমার রাত জাগাতে কারো ডিস্টার্ব হয় না। আমি পাশের ঘরে থাকি। একটু পর পর পাশের রুমে গিয়ে ওদের দেখে আসি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০২১ বিকাল ৪:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




