
লালসালু হচ্ছে লাল রঙের কাপড়।
এমনিতে লাল কাপড়ের তেমন কোনো মহিমা নেই। তবে এটি খুব উজ্জ্বল রং হওয়ায় একে বিশেষ উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো যায়। বাংলাদেশের এক শ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী যুগ-যুগ ধরে লাল রংটিকে সফলভাবে কাজে লাগিয়ে আসছে। কবরের উপর লাল কাপড় বিছিয়ে দিলে কবরের গুরুত্ব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। তখন তা আর সাধারণ কবরে সীমাবদ্ধ থাকে না, মাজারে পরিণত হয়। কবরটি তখন মানুষের ভক্তিপ্রীতির আকর্ষণ হয়ে দাড়ায়। এ ধরনের কবরে মানুষ প্রতিনিয়ত ভিড় জমায়, জেয়ারত করে, দোয়া দরুদ পড়ে এবং শিরনি দেয়। টাকা পয়সা দেয়। এভাবে মাজারটি হয়ে দাড়ায় পরলোক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। এই মাজার বাংলাদেশের লোকজীবনে অসামান্য প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের মানুষ ধর্মের প্রতি দুর্বল।
আমার মনে হয়, যারা পাপ বেশী করে তারা ধর্মের প্রতি খুব দুর্বল হয়। খানকা শরিফ, দরগা, আশেক রাসূল, দরবার শরীফ, চিশতী- মাজার এদেশের বিশাল লোকজীবনে অশিক্ষা, অজ্ঞানতা আর কুসংস্কার জমাট বেধে আছে। পীর-ফকিরদের প্রতি ভক্তি-বিশ্বাসের মূল আছে অশিক্ষা আর কুসংস্কার। মানুষের ধারণা, পীর-ফকিরেরা আধ্যাত্মিক শক্তিতে বলীয়ান, সৃষ্টিকর্তার নৈকট্যে তারা আছে, কাজেই তাদের মুরিদ হয়ে তাদের সেবাযত্ন করতে পারলে পাপ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব হবে।
মানুষের দুর্বলতাকে পুজি করে ভণ্ড ধার্মিকেরা ধর্মব্যবসায়ে নেমে পড়ে। তাদের কর্মতপরতার মধ্যে রয়েছে কবরকে কারুকার্যমণ্ডিত ঝালরওলা লাল রঙের কাপড়ে আব্রত করে মাজারে পরিণত করা এবং তার মধ্যে দিয়ে দুনিয়াদারি হাসিল করা। গ্রামগঞ্জসহ বাংলাদেশের সর্বত্র এ ধরনের ব্যবসার জমজমাট পরিবেশ দেখা যায়। সরকার কোনো এক বিশেষ কারনে এদের বাঁধা দেয় না। তাই এদের প্রতারনা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। শিক্ষিত সমাজ এদের বিরুদ্ধে বললেও সরকার নিরব। সরকারের উচিত এদের মাজার, দরবার, দরগা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া। এবং মানুষকে সচেতন করে গড়ে তোলা।
বহু শিক্ষিত সমাজ এদের মুরিদ হয়।
বাবাকে খুশি করতে এরা সব করতে রাজী। এরা বছরে এক দুইবার বিশাল অনুষ্ঠান করে। সেখানে দুই শ' গরু জবাই হয়। এবং অসংখ্য উট জবাই হয়। হাজার হাজার ভক্ত জমায়েত হয়। তারা বাবার মাধ্যমে পরকালে বেহেশতে যেতে চায়। সারা জীবন মন্দ কাজ করবে, অথচ বেহেশতের লোভ তাদের প্রবল। তাদের নজর বেহেশতের হুরের দিকে। রক্ত মাংসের নারী তাদের পোষায় না। অলৌকিক হুর তাদের লাগবে। কক্সবাজারে বছরে যত লোক যায়, তার চেয়ে বেশী যায় সিলেট সহ অন্যান্য মাজারে। মাজার মানেই ভন্ডামির আখড়া। সেখানে নানান কিসিমের দুষ্ট লোক দিয়ে ভরা। একজন দরিদ্র লোক না খেয়ে আসে, অথচ মাজারে টাকা দিতে কি তাদের তোরজোর। এই দেশের মানুষ আর কবে সচেতন হবে?
সত্যিকার ভাবে মানুষের কবে মুক্তি হবে?
সরকার এদের মুক্তির ব্যস্থা করছে না কেন? সরকারের একটা মন্ত্রনালয় থাকা উচিত। কুসংস্কার মুক্ত মন্ত্রনালয়। এরা সমাজের কুসংস্কার গুলো দূর করবে। এরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে মানুষকে সচেতন করবে। যারা মাজার ব্যবসা, উরশ আর দরবার করবে তাদের কানে ধরে জেলখানায় নিবে। এবং যারা তাদের কাছে যাবে তাদেরও জরিমানা করবে। যতদিন দেশ সম্পূর্ন কুসংস্কার মুক্ত না হবে ততদিন সরকারের কুসংস্কার মুক্ত মন্ত্রনালয় কাজ করবে। স্কুল থেকেই পাঠ্যবইয়ে কুসস্কার নিয়ে একটা চ্যাপ্টার থাকবে। যা পড়ে ছেলেমেয়েরা সচেতন হবে। কুসংস্কার হতে পারলেই দেশে শক্তিশালী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমার দেশ হবে কুসংস্কার মুক্ত। মৃত্যুর আগে আমিএটা দেখে যেতে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২১ দুপুর ১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




