
তসলিমা নাসরিনের প্রথম বই বের হয় ১৯৮৬ সালে।
আর আমি তসলিমা নাসরিনের বই প্রথম পড়ি ১৯৯৬ সালে। তখন আমার অল্প বয়স। আমার মনে আছে- এক আকাশ কৌতুহল নিয়ে তার বই পড়তে শুরু করি। আমি বুঝি না, এই সাহসী নারীকে কেন কিছু মানুষ খারাপ বলে। আজেবাজে কথা বলে? সে কি এমন লিখেছে? সে কি কিছু মিথ্যা লিখেছে? এসব জানতে- আমি তার সব বই পড়ে ফেলি। তার প্রতিটা বই-ই ৪/৫ বার করে পড়ে ফেলেছি।তিনি যা লিখেছেন, সব সত্যি কথা লিখেছেন। তসলিমা নাসরিনের সব লেখা পড়ে আমার একটা কথাই বার বার মনে হয়েছে যে- অনেক বড় কলিজা না থাকলে এই রকম লেখা সম্ভব নয়।
তিনি একজন মহৎ কবি, সাংবাদিক এবং চিকিৎসক।
আমি ইদানিং খুব ভাবছি তসলিমা নাসরিনকে কি করে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। আমি কি স্বরাষ্ট মন্ত্রীর সাথে কথা বলব? নাকি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব? অথবা বাইডেন বা মোদির কাছে সাহায্য চাইবো? আবার ভাবছি দেশে ফিরিয়ে আনলে তো মোল্লা'রা তাকে বাঁচতে দিবে না। হুমায়ূন আজাদের মতো তাকেও মেরে ফেলবে।
তসলিমা নাসরিনের জন্ম ১৯৬২ সালের ২৫ আগষ্ট, ময়মনসিংহে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন নিষ্ঠার সাথে। ১৯৯৩ সালে চাকরিতে ইস্তফা দেন- কারণ চাকরি করলে লেখালেখি ছাড়তে হবে সরকারের নির্দেশ। এই লেখালেখির জন্যই তিনি তার প্রিয় স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হন। কিন্তু তিনি লেখালেখির জন্য প্রচুর পুরস্কার এবং সম্মান অর্জন করেছেন। ভারত থেকে দু'বার পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। পৃথিবীর ৩২টি ভাষায় তার বই অনুবাদ হয়েছে। মানববাদ, মানবাধিকার, নারী-স্বাধীনতা ও নাস্তিকতা বিষয়ে তিনি পৃথিবীর বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বিভিন্ন বিখ্যাত মঞ্চে বক্তৃতা দিয়েছেন।
গতকাল তসলিমা নাসরিনের 'ফরাসি প্রেমিক' বইটি পড়লাম।
উপন্যাসের নায়িকা নীলাঞ্জনা সংসারের দাসত্ব ও শৃঙ্খল ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে অনিশ্চয়তার পথে, দু'চোখে জীবন দেখতে দেখতে। তাঁর সব রচনার মতোই ঝকঝকে গদ্যে লেখা সরল, সতেজ, প্রাণবন্ত এই উপন্যাসের কাহিনী-কেন্দ্রে আছে নারীজীবন। এবং তসলিমার কলমে যে-জীবন কখনও মেনে নিতে পারে না পরাজয়।
তসলিমা নাসরিনকে আমি আমার বোন মনে করি।
আমার একসময় ধারনা ছিলো শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনবেন লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে। আমার ধারনা ভুল প্রমানিত হয়েছে। দেশের মেয়ে দেশে ফিরে আসবে এটাই স্বাভাবিক। এই দেশে কত দুষ্টলোক। চোর, বদমাশ, খুনী আর দূর্নীতিবাজ থাকছে। অথচ একজন মুক্তমনা লেখিক কেন থাকতে পারবে না? বর্তমান সময়ের কোনো লেখককে তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনার কথা বলতে শুনি না। এটা লেখকদের দৈন্যতা। তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের সম্পদ। অসহায় আর দুর্বল মেয়েদের প্রেরনা। এই জাতি একদিন তার জন্য আফসোস করবে। দেশের মেয়েকে সম্মান দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনুন। তা না হলে ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না। দ্রুত। আসুন আমরা সবাই চিৎকার করে বলি- দেশে মেয়ে দেশে ফিরে আসুক।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০২১ রাত ১২:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




