
আমি আমার দেশটাকে ভালোবাসি।
খুব ভালোবাসি। এই দেশে আমি সকলকে নিয়ে শান্তিতে বেঁচে থাকতে চাই। তা কি সম্ভব হবে না? এদিকে বিশ্ব জুড়ে চলছে মহামারি। করোনা আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেলো। আমি জানি না করোনা থেকে সবাই শিক্ষা নিয়েছে কিনা। ভালো করে খেয়াল করে দেখবেন- করোনা কিন্তু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। সরকার বলছে, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। অথচ আমি দেখছি, বাজারে দ্রব্যমুল্যের উর্ধগতি। আজও মানুষ রাস্তায় ঘুমায়। রাস্তায় বের হলেই ভিক্ষুক আর ভিক্ষুক।
গত একবছরে চাকরি হারিয়েছেন অনেকে।
তারা আজও চাকরি পান নি। বহুলোক তো গ্রামেই চলে গেছেন। করোনা বহু লোকের চাকরি খেয়ে দিয়েছেরে ভাই। যাদের চাকরি আছে তারাও ভালো নেই। করোনার উছিলায় অনেক অফিসেই বেতন দেয় না ঠিক মত। দিলেও কমিয়ে দিয়েছে ৩০%। আমি বুঝি না দেশের মানুষ কিভাবে খেয়েপরে বেঁচে আছে! বড় বিস্ময় লাগে! ফুটানি দেখিয়ে লাভ নেই। সত্য কথা বলি- আমার নিজেরই দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। চোখে অন্ধকার দেখছি। অবশ্য দেশে খাবারের অভাবে কেউ মরে গেছে এমনটা এখনও শুনতে পাই নি।
এখনো দেশের অনেক জায়গায় বিদুৎ পৌছেনি।
আমি নিজের চোখে বহু গ্রামে দেখেছি, বিদ্যুৎ নেই। আর যেসব গ্রামে বিদ্যুৎ আছে। বেশির ভাগ সময়ই লোডশেডিং থাকে। বহু গ্রামের রাস্তাঘাট পাকা হয়নি। বর্ষা কালে মানুষের খুব কষ্ট হয়। কার্লভাট নাই, ব্রীজ নাই। এখনও বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করছে। প্রাইমারী স্কুল গুলোর বেহাল দশা। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল আর ফ্লাইওভার দিয়ে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে চলে গেছে বলা ঠিক হবে না। সহজ সরল সত্য কথা হলো- উন্নয়নের মহাসড়কে পৌঁছে গিয়েছেন শুধু মাত্র রাজনীতিবিদ এবং তাদের ছত্রছায়ায় থাকা লোকজনেরা।
গ্যাসের নতুন সংযোগ দেয়া বন্ধ।
ঢাকা শহরে এত এত নতুন দালানকোঠা উঠছে। অথচ গ্যাস নেই। তাদের রান্না করতে হবে সিলিন্ডারে। সারাদেশে স্কুল কলেজ বন্ধ। এক বছর পার হয়ে গেলো। এদিকে বেসরকারি শিক্ষকদের সংসার চলছে না। এসব বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের খবর কেউ রাখছে না। তারা কিভাবে ছেলেমেয়ে নিয়ে বেঁচে আছেন। আমার মনে আছে নির্বাচনের ইশতেহারে আওয়ামীলীগ বলেছিলো- ঘরে ঘরে চাকরি দিবে। কেউ বেকার থাকবে না। তারা কথা রাখে নি।
চল্লিশের নীচে কাউকে টিকা দেয়া হচ্ছে না।
আমি কি টিকা পাবো না? আমি বেকার। আমার তো কোনো কোটাও নেই। অবশ্য শেখ হাসিনা বলেছেন, সবাই টিকা ভাবে। সেই ভরসাতেই আছি। শেখ হাসিনার কথায় আমি কিছু নিশ্চিন্ত হয়েছি। প্রত্যেকটা সরকারি অফিসে ঘুষ দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। যা আগেও ছিল, এখনো আছে। সরকারি অফিস আদালতে গেলে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হয়। এসব জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি হিসেবে না নিয়ে আমরা আন্দোলন করি কে আসলো, কে গেল এসব নিয়ে। মহামারিকালে এগুলো মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ বলে মনে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০২১ রাত ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




