
দেশভাগের পর বাঙ্গালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন কি?
উত্তর হলো- বাংলাদেশের স্বাধীনতা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে বিবিসির জরিপে বলা হয়েছে হাজার বছরের সেরা বাঙ্গালি। বঙ্গ বন্ধুর আগে সেরা বাঙালি হিসেবে ভাবা হতো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। স্বাধীনতা আমাদের কি দিয়েছে? একটি দেশ দিয়েছে। সেই দেশে মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারি।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ভিবিন্ন সভা সমিতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ন কথা বলেছেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম যে বাজেট হয় সেটি ছিল ছয় মাসের জন্য। সে বাজেটের পরিসর ছিল ১০০ কোটি টাকারও নিচে। এ মুহুর্তে মোটা চালের কেজি ৬৫ টাকায় পৌছালেও দেশে না খেয়ে থাকার ঘটনা চোখে পড়ে না বললেই চলে। স্বাধীনতার কারনেই জাতিসংঘ শান্তি বাহিনীতে বাংলাদেশের সেনা সদস্য সংখ্যা এখন সবচেয়ে উপরে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন দুনিয়া জুড়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। ব্রিটেনে হোটেল ব্যবসা মূলত বাঙালিদের দখলে।
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেল ৫ টা ১ মিনিটে ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১ লাখ সৈন্যসহ জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। ৭৫ এর পর ষড়যন্ত করে যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদের কথা লিখতে গেলে দীর্ঘ ইতিহাসকে টেনে আনতে হবে। একসময় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি ছিল বাংলার মানুষের মুক্তির তীর্থস্থান। কিন্তু ৩২ নম্বরের সিড়িতেই পড়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত লাশ। তারপর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি উলটো দিকে ঘুরে গেল। আত্মবিক্রেতা বিশ্বাসঘাতকরা ১৫ই আগষ্ট সামরিক অভ্যুথান ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে।
২৫ শে মার্চ রাতেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফপ্তার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যায়। এমাস বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিনের মাস। এ মাস স্বাধীনতার মাস। পৃথিবীর সব দেশ বঙ্গবন্ধুর লেজিটেম্যাসির ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনার বিষয়কে আমল দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন দেশ নেই যেখানে একজন সেনাপতি এলেন, ঘোষনা দিলেন আর দেশ স্বাধীন হয়ে গেল। ঐদিন দুপুরে জহুর আহমদ চৌধুরীসহ হান্নান সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ঘোষনাপত্র পাঠ করেন। লক্ষ্য করার বিষয়, মেজর জিয়াউর রহমান তখনও ক্যান্টমেন্ট থেকে বের হননি। কারণ,ঐদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনী জিয়াউর রহমানকে 'সোয়াত' জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করার জন্য হুকুম দিয়েছিল। আনুষ্ঠানিক ঘোষনা যে কেউ পাঠ করতে পারে, কিন্তু সে-ঘোষনা আইনগত বৈধতা পায় না। কালুর ঘাটের ঘোষনা প্রচার ছিল অনানুষ্ঠানিক।
বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে রাজনৈতিক ভাষায় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ছিল আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল প্রেরনা। তৎকালীন মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর জীবিতকালে কিংবা অবৈধভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হয়ে কখনও বলেননি যে তিনি স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সামনে যে ভাষন দিয়েছেন পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ভাষন আর কোনো নেতা দিয়েছেন কিনা জানি না।
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সম্প্রদায়ের ভূমিকা এবং অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরন করতেই হয়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সীমানায় দাঁড়িয়ে মহীয়সী এসব নারী মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরন করি। জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে উদ্যোগ নিয়েছেন। দিন বদলের কর্মসূচিসহ সোনার বাংলা গড়ায় আত্মনিয়োগ করেছেন। দুশটলোকদের কলা দেখিয়ে হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যাবে। জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০২১ দুপুর ১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




