
টানটান উত্তেজনা।
মানুষ থামকে গেছে। সবাই অবাক হয়ে এক আকাশ বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে। না জানি কি হয়! সবাই দেখার জন্য থেমে গেছে। বেশ ভিড়। ভিড়ের মধ্যে আমিও দাঁড়িয়ে আছি। লোকটার হাঁটে ধারালো ছুরি। যার হাতে ছুরি সে-ও বেশ চিন্তিত। তার চোখে মুখে খেলা করছে আত্মবিশ্বাস আর অবিশ্বাসের চাপা আনন্দ। সবাই দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। বলছিলাম, একজন তরমুজ বিক্রেতার কথা। তরমুজ কিনবে একজন, অথচ অনেক লোক তাকিয়ে তরমুজ কাটা দেখে। যারা তরমুজ কাটা দেখে, তাদের চোখমুখ দেখে বুঝা যায়- তারা বিপুল আনন্দ পাচ্ছে।
বাজারে প্রচুর তরমুজ উঠেছে।
কেজি হিসবে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত। আমি অলরেডি বাসার জন্য তিনটা বড় তরমুজ কিনেছি। ভাগ্য ভালো তিনটা তরমুজ'ই মাশাল্লাহ ভালো হয়েছে। লাল টকটকা আর খুব মিষ্টি। সুরভি তরমুজ দেখে খুব খুশি। সে বলল, তরমুজ আমি খুব পছন্দ করি। আমি সুরভির একটা ব্যাপার বুঝি না। যখন হিমসাগর আম আনি, তখন সুরভি বলে- আম আমার খুব পছন্দ। আবার যখন কমলা আনি, সে বলে কমলা আমার ভীষণ পছন্দ। সব খাবারই তার পছন্দ? নাকি আমাকে খুশি করার জন্য এমনটা বলে? একদিন প্রশ্ন করে বিষয়টা জেনে নিতে হবে।
রাস্তায় যখন তরমুজ বিক্রি-
এবং বিক্রেতা যখন তরমুজ কাটে। তখন সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। লাল হবে তো। ক্রেতা বিক্রতা আর দর্শকদের মধ্যে বেশ উত্তেজনা কাজ করে। লাল হলে বিক্রতা বলে, বলেছিলাম অনেক লাল হবে। আবার লাল না হলে বিক্রেতা বলে, এখন তরমুজ এরকমই হালকা লাল হয়। আর কিছুদিন পর পুরো লাল হবে। অথবা বলে লাল কম হয়েছে। কিন্তু খেতে চিনির মতো মিষ্টি। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই তরমুজ হয় কম বেশি। আমার মনে একটা গোপন ইচ্ছা আছে আমি কিছু জমি কিনে চাষবাস করবো। আমি একজন ভালো এবং সফল কৃষক হবো। আমার ধারনা, আমার হাতে ফলমুল ভালো হবে।
খিলগাও রেললাইনের সামনে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।
আমি এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে তরমুজ বিক্রি দেখলাম। মুহুর্তের মধ্যে প্রচুর তরমুজ বিক্রি হতে দেখলাম। বেশির ভাগ লোকজন তরমুজ কেটে বাসার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। আমি কখনও তরমুজ কেটে কিনি না। বিক্রেতার মুখের কথাও বিশ্বাস করি না। কারন বিক্রেতা কিছুতেই জানবে না- এই তরমুজ ভিতরে লাল কিনা। কারন বিক্রেতা এই তরমুজ চাষ করেনি। সে কিনে এনেছে। তরমুজ কড়া লাল হতে পারে, আবার না-ও পারে। এজন্য বিক্রেতার কোনো দোষ নেই। গতকাল বাসায় গেস্ট এসেছিলো। তারা দুইটা বড় তরমুজ এনেছে। তরমুজ দুটা এখনও কাটা হয়নি।
সকাল বা বিকেলের দিকেই তরমুজ খাওয়ার আদর্শ সময়।
তরমুজ বাংলাদেশে চৈত্র ও বৈশাখ মাসে খুব বেশী পাওয়া যায়। ভিটামিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস তরমজু। তরমুজের প্রায় ৯৬ শতাংশই পানি। গরমে যারা বেশী ঘামেন তারা প্রচুর পরিমাণে তরমুজ খান। শরীর ঠান্ডা হবে শরীরে পানির অভাব পূরণ হবে এবং শরীর দুর্বল হবে না। যাঁদের ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে, তাঁদের বেশি তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়। যাঁরা অ্যালকোহল পান করেন, তাঁদের তরমুজ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কিছু তরমুজে খুব বেশি বিচি থাকে, এগুলো খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, তরমুজের বিচি খুব বেশি খেয়ে ফেললে পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি হতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০২১ দুপুর ২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




