
বাবা-মায়ের উচিত ছেলে-মেয়ের জীবনযাপনের দিকে লক্ষ রাখা।
ছেলেমেয়ে গুলো কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে? তাদের বন্ধু-বান্ধবী কারা? বিশেষ করে মেয়েদের উচিত বন্ধু নির্বাচনে খুব সর্তক থাকা। যে কোনো সম্পর্কে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিওচিত্র গ্রহন থেকে বিরত থাকতে হবে, অভিভাবক বা খুব কাছের মানুষ ছাড়া নিজের একান্ত মনের কথা খুলে না বলা। আমাদের দেশের বেশির ভাগ পুরুষই যথেষ্ট সভ্য ও শিক্ষিত নয়। প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও মেয়েরা যেন এমন ছবি বা ভিডিও চিত্র না তুলে যাতে পরবর্তী সময়ে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। পৃথিবীর সব ধর্মেই শালীনতার কথা ও নারীকে সম্মানের কথা বলা হয়েছে।
আমাদের দেশে পাবলিক প্লেসে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি, সিডি, বই অবাধে বিক্রি হচ্ছে যা খবরের কাগজে প্রায়ই আসে। নারীদের ভোগ্যপন্য হিসেবে দেখার মানসিকতা বহু শিক্ষিত মানুষের মধ্যে দেখা যায়। মোবাইল-ইন্টারনেট ইত্যাদি ব্যবহারের সুস্পষ্ট আইন ও নীতিমালা থাকা উচিত। সরকার বিভিন্ন সাইট বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সেসব বন্ধ সাইটে ভিপিএন দিয়ে প্রবেশ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই যৌন হয়রানির অপরাধে অভিযুক্ত কিন্তু তারা অবাধে পার পেয়ে যাচ্ছেন। মেয়েদের ইন্টারনেট ব্যবহারে অনেক সর্তক থাকতে হবে। ইভ টিজিং প্রতিরোধের জন্য সরকারসহ সব মানুষই এগিয়ে এসেছে। তেমনি প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের হয়রানি করাকে এর মধ্যে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
একটা ছোট গল্প বলি (গল্পটি সত্য)- একটা ছেলের সাথে একটা মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক হয়। একদিন ছেলেটা মেয়েটাকে তার এক বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে নিয়ে যায়। সেদিন সে বাড়ির সবাই গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। ছেলে-মেয়েটি নানান বিষয়ে গল্প করতে থাকে। এক পর্যায়ে ছেলেটি মেয়েটির শরীরের সব কাপড় খুলে মোবাইল ফোনে ধারন করতে থাকে। মেয়েটি ভয়ে ও লজ্জায় চিৎকার করতে পারে নি। এই ঘটনার বেশ কিছুদিন পরে, ছেলেটি মেয়েটিকে মোবাইলের ছবি গুলো দেখিয়ে হুমকি দেয়। তার কথা মতো না চললে ছবি গুলো নেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। চলমান চিত্রটি দেখার জন্য কিছু কুরুচি পূর্ন পুরুষ-নারী হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আর বিষয়টি জানা-জানি হলে মেয়েটি লোকলজ্জার ভয়ে পড়াশোনা বন্ধ করে ঘরবন্দি হতে হয়।
ইদানিং এই রকম ঘটনা আমাদের সমাজে অহরহ হচ্ছে।
মেয়েগুলো খুব বোকা, একটা ছেলের সাথে কিছুদিন প্রেমের সম্পর্ক হলেই খুব ঘনিষ্টভাবে ছবি তুলে রাখে। কিন্তু সেই ছেলেটা ছবি গুলো তার অনেক বন্ধুর মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়। বাজে ছেলে গুলো মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে দৈহিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। যুগযুগ ধরে একই ঘটনা বারবার ঘটছে। তবু কেন মেয়েরা সর্তক হচ্ছে না? পিতামাতা সর্তক হচ্ছে না? ইন্টার নেট আমাদের জীবনধারণটাই বদলে দিয়েছে। বোকা মেয়েদের বলি- ফেইসবুকে নিকটজন ছাড়া অন্য কারো বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহন করা উচিত নয়। কিছু সতর্কতা মেনে চললেই অনাকাংক্ষিত বিষয় গুলো অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে, নিজের কম্পিউটার ছাড়া অন্য কোথাও থেকে কোনো ওয়েব সাইটে লগ-ইন করলে, কাজ শেষে অবশ্যই লগ-আউট করতে হবে। ফেইসবুকে প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক করে নিতে হবে।অ্যাকাউন্ট সেটিংস থেকে প্রাইভেসি সেটিংসে গেলে অপশন গুলো পাওয়া যাবে। ফেইসবুকে যাকে তাকে এড করা এবং ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া ঠিক নয়। ফেইসবুকের মাধ্যমেই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বাজে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে বাজে মানূষদের সাথে।
মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রধান চাহিদা একটি স্থানে রয়েছে সংবাদ। যেভাবেই হোক, মানুষ সংবাদ পেতে আগ্রহী। আমার মনে হয়, সংবাদের উৎস হিসেবে জনপ্রিয়তার ছাপা সংবাদপত্র থেকে এগিয়ে গেছে অনলাইন সব সংবাদ মাধ্যম। অনলাইন সংবাদপত্রের ওয়েবসাইট এখন অনেকের কাছেই তাদের সংবাদের প্রধান উৎস। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের কাছে অনলাইন সংবাদপত্রের জনপ্রিয়তা অনেক অনেক বেশি। এই বয়সী মানুষের প্রায় ৬৫ ভাগ অনলাইন সংবাদপত্রের উপর নির্ভরশীল। তবে অনলাইন সংবাদ পেছনে ফেলতে পারেনি টিভি মিডিয়াকে। এখনও টেলিভিশনের সংবাদই বেশীর ভাগ মানুষের কাছে সংবাদের প্রথম পছন্দীয় উৎস।বিশ্বব্যাপী বাড়ছে অনলাইনের জনপ্রিয়তা। অনলাইন পত্রিকার এবং ব্লগ-এ পাঠক সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন। বাংলা ব্লগ গুলোতে টাটকা খবরের আড্ডা বসে।
সবাই ভালো থাকুন। ভালো থাকুক সমগ্র মানব জাতি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০২১ রাত ৯:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




