
একটা মা জিরাফ যখন বাচ্চা প্রসব করে, তখন শিশু-জিরাফটি অনেক উঁচু থেকে মাটিতে এসে পড়ে, কারন জিরাফ অনেক লম্বা প্রানী। বেচারা শিশু-জিরাফটি তখন বুঝতে পারে না কোথা থেকে কোথায় এসে পরল। ঠিক সেই সময় মা-জিরাফ শিশু-জিরাফের কাছে এসে দাঁড়ায় এবং সদ্য প্রসূত শিশু-জিরাফটিকে আঁচমকা নির্মমভাবে জোরে লাথি মেরে দূরে ফেলে দেয়।
বেচারা শিশু জিরাফটি কিছুই বুঝে উঠতে পারে না।
কেবল অসহায় হয়ে তার ব্যাথা পাওয়ার অনুভূতি হয় ও কষ্ট পেতে থাকে। মা-জিরাফ আবার শিশু-জিরাফের কাছে এসে দাঁড়ায় এবং আরও জোরে লাথি মারে। শিশু-জিরাফ এবার বুঝতে পারে, আমি যদি কিছু না করি তবে আবার লাথি খাবো। সেই মুহূর্তে দূর্বল শরীর আর পা নিয়ে শুধুমাত্র উঠে দাড়াবার চেষ্টা করে।
মা-জিরাফ আবার শিশু-জিরাফের কাছে এসে দাঁড়ায় এবং আরও জোরে লাথি মেরে দূরে ফেলে দেয়। শিশু-জিরাফ বুঝতে পারে আমি যদি ছুটে পালাতে না পারি তবে লাথির পর লাথি খেয়েই যেতে হবে। ঠিক তখনই শিশু-জিরাফ সমস্ত শক্তি নিয়ে ছুটে পালায়। এবার কিন্তু মা-জিরাফ শিশু-জিরাফের কাছে এসে দাঁড়ায় এবং আদর করে, চুমু খায়, গলায় গলা মিলায়।
আসলে মা-জিরাফ জানে যে, জঙ্গলে অনেক হিংস্র ও ক্ষুধার্ত পশু রয়েছে। ওরা শিশু প্রানীর মাংস ভীষন পছন্দ করে। মা-জিরাফ এটাও জানে আমি সব সময় শিশু-জিরাফের সাথে সাথে থাকতে পারবো না। যখন জীবন ধারনের তাগিদে বাইরে যাবো তখন কে শিশু-জিরাফকে সুরক্ষা দেবে? তাই বাচ্চা প্রসব করার সাথে সাথে মা-জিরাফ-
১ম বার লাথি মারে: যেন সে উঠে দাঁড়াতে শেখে।
২য় বার লাথি মারে: যেন সে উঠে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
৩য় বার লাথি মারে: যেন সে দৌড়ে পালাতে শেখে।
আমাদেরকেও জীবনে এরকম বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সবাইকে অংশ নিতে হয়। হয়ত আমরা আঘাত পাই, ধপাস করে মুখ ধুবড়ে পড়ি, কখনো কখনো পরাজিতও হই। তখন শিশু-জিরাফের এই গল্পটা মনে করবো। তাই যখনই জীবনে সমস্যা আসবে, যত বারই লড়াইয়ে আহত হয়ে মুখ থুবড়ে পড়বেন, ঠিক এই অসহায় শিশু-জিরাফের মত তখনিঃ উঠতে শিখুন।
♦ উঠে দাড়িয়ে থাকতে শিখুন।
♦ দাঁড়িয়ে থেকে দৌড়াতে শিখুন।
যখনই এরকম করতে পারবেন, সফলতা আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসতে বাধ্য। মনে রাখবেন, সফলতার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো নিরাশা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২১ রাত ৯:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




