
আজ সন্ধ্যায় হঠাত ঝড় হয়ে গেলো।
আমি প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বের হয়েছি। বাসা থেকে বের হয়ে বড় রাস্তায় কাছে আসতেই কোনো কথা নেই, বার্তা নেই- শুরু হলো ঝড়। ব্যাপক ঝড়। কিন্তু আমি দৌড়ে বাসায় গেলাম না। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝড় উপভোগ করলাম। শুকনো ঝড়ে ধুলোবালি উড়ে বিশ্রী অবস্থা। আজ সারা দিন মানুষের ভোগান্তি হয়েছে। লকডাউন এর কারনে যেন আজ শহরের মানুষ বাইরে চলে এসেছে। সারাটা দিন ভয়াবহ জ্যাম গিয়েছে। সব জায়গায় মানুষ গিজ গিজ করেছে।
আজ বাজারে গিয়ে দেখি সব জিনিসের দাম বেড়েছে।
এমনিতেই বাজারে সব কিছু উর্ধমুখী। আগামীকাল থেকে লকডাউন তারই প্রভাব পড়েছে বাজারে। মধ্যবিত্তরা খুবই খারাপ আছে এই সময়ে। যেমন আমি। পৃথিবীতে এরকম একটা বিপর্যয় হবে কেউ সেভাবে উপলব্দি করেনি আগে। এলোমেলো এবং অসচেতন বাঙ্গালীর সংক্রমণ বেশি না হওয়ায় বাঙালী সূক্ষ্ম আত্ন তৃপ্তিতে ভুগছে। গ্রামাঞ্চলে মানুষ দেদারসে রাস্তায় ঘুরছে, বাজার করছে, চা খাচ্ছে, দশ জনে মিলে গল্প করছে। গ্রামের তথাকথিত শিক্ষিতরা বলছে, করোনা শহরেই সীমাবদ্ধ থাকবে, গ্রামে আসবে না।
গত এক বছরে বহু কিছু বদলে গেছে।
পরিচিত পৃথিবীটা কেমন যেন হঠাৎ করে অনেকটা অপরিচিত হয়ে গেল। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়- এই সময়টার প্রয়োজন ছিলো। মানুষ ভাবতে শিখছে। মানুষের ভাবনাশক্তি প্রায় অচল অথর্ব হয়ে পড়েছিলো বলা চলে। প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, কিন্তু বাকিদেরকে উনার সাথে তাল মিলাতে হবে। তবে ঢাকা শহরের মানুষের হাবভাব দেখে মনে হয়- তারা করোনা নিয়ে মোটেও চিন্তিত না। অথচ প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেরেই চলেছে।
আগামীকাল থেকে লকডাউন।
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, এবার মানুষ লকডাউন মানবে না। বিরোধী দলের হরতালের মতোন এই লকডাউন জনগন প্রত্যাক্ষান করবে। তবে আশার কথা হলো- মানুষ যেমন বিপদ ডেকে আনে, মানুষই আবার মুক্তির পথ দেখায়। আমাদের শিক্ষিত বেকার আছে, কারণ মেধাহীন শিক্ষিতরা প্রশাসন ও সরকার চালা্চ্ছে। প্রেসিডেন্ট জানেন না প্রধান মন্ত্রী কি করতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী জানেন না বাকী মন্ত্রীরা কি করছেন। ব্যুরোক্রেটরা কি করছে তা কেহই জানে না।
হয়তো সামনে বাংলাদেশের সুসময় আসবে।
২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে উন্নীত করার যে রূপকল্প শেখ হাসিনার সরকার গ্রহণ করেছে তা বাস্তবায়নের পথে যে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে এবং সে অগ্রযাত্রা যে দৃশ্যমান এবং স্পর্শযোগ্য তা বোধ করি সরকারের চরম নিন্দুকেরাও অস্বীকার করতে পারবে না। যদিও শেখ হাসিনা মাহাথিরের মতো এখনো ২২ বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব করেননি। বর্তমান সরকারের সবচাইতে বড় সাফল্য- উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা। জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




