
আমাদের দেশে এত এত গরীব মানুষ কেন?
রাস্তায় বের হলে অসংখ্য ভিক্ষুক। কিছু ভিক্ষুক আছে একদম ছোট। ৫/৬ বছর বয়স। এই বয়সী একটা বাচ্চা কেন ভিক্ষা করবে? এটা আমি মেনে নিতে পারি না। 'দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে' এই কথাটা যে বা যারা বলে তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। শুধু মাত্র মেট্রোরেল আর পদ্মাসেতু দিয়ে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে বলা উচিত না। একটা ৫/৭ বছরের বাচ্চা রাস্তায় কেন মানুষের কাছে হাত পাতবে? যে বাচ্চাটার লেখাপড়া করার কথা। খেলাধুলা করার কথা। আমার নিজেরও মেয়ে আছে। এই শ্রেনীর শিশুদের রাস্তায় দেখলেই আমার নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে। খুব কষ্ট হয় আমার।
গতকালের ঘটনা। রাত ৯ টা।
আমার সিগারেট শেষ। আমি সিগারেট আনতে বাইরে গিয়েছিলাম। অবশ্য সন্ধ্যায় বের হয়েছিলাম। কিন্তু তখন সিগারেটের কথা মনে ছিলো না। তাই আবার বাসা থেকে বের হয়েছি। বাসা থেকে বের হয়ে সাতটা বেনসন কিনলাম। এক শ' টাকা। একটা সিগারেট ধরিয়েছি। তখন ছোট্র একটা বাচ্চা মেয়ে আমার কাছে এলো। পরীর চেয়ে ছোট মেয়েটা। চোখে মুখে অসহায় ভাব। দেখলেই বুঝা যায় মেয়েটা ক্ষুধার্থ। বয়স্ক মানুষ ভিক্ষা করে মানা যায়। একটা ছোট বাচ্চা কেন ভিক্ষা করবে? তাছাড়া চারিদিকে করোনা। দরিদ্র পিতা মাতা নিশ্চয়ই শখ করে মেয়েকে রাস্তায় ছেড়ে দেয়নি।
মেয়েটাকে দেখে আমার ভীষন কষ্ট হলো।
এই রকম দরিদ্র মেয়ে দেশে কত জন আছে? সেই হিসাব আমার কাছে নেই। আমি সত্যি কথা বলি- রাস্তায় বের হলে এই রকম বাচ্চা ছেলে মেয়েদের দিকে আমি তাকাই না। ওদের আমি অস্বীকার করতে চেষ্টা করি। ওদের ভুলে থাকতে চেষ্টা করি। কারন ওদের জন্য আমার কিছু করার ক্ষমতা নাই। দশ বিশ টাকা ওদের হাতে দিলে, ওদের কি খুব উপকার হয়ে যায়? এই মেয়েটা সারাদিন হাত পেতে কত টাকা পায়? দুই শ' টাকা? আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম সারাদিনে কত টাকা পাও? মেয়েটা বলল, ৭০/৮০ টাকা। এই ৮০ টাকা দিয়ে কি হয়? যেখানে এক কেজি মোটা চালের দাম ৬৫ টাকা। এক হালি ডিম ৩৫ টাকা।
মেয়েটার নাম ফুল।
কিন্তু সবাই তাকে ডাকে ফুলি নামে। সে বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তাঁর বাবা নিখোঁজ। মা অসুস্থ। তাই সে রাস্তায় জনে জনে হাত পাতছে। যা টাকা পায় সে মায়ের হাতে তুলে দেয়। মাঝে মাঝে সে বেলুন বিক্রি করে। বেলুন কেউ কিনে না তবে কেউ কেউ দুই টাকা, পাঁচ টাকা দেয়। আমি মেয়েটাকে বললাম, তুমি কিছু খাবে? মেয়েটা বলল না। আমি একশ' টাকা মেয়েটাকে দিলাম। আমার কাছে আর টাকা ছিলো না। আমার ইচ্ছা করলো মেয়েটা কোলে করে বাসায় নিয়ে যাই। ভালো করে গোছল দিয়ে দেই। পেট ভরে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেই। ঘুম থেকে উঠে সে পড়তে বসবে। এই মেয়েটাকে দেখে কোন পাষন্ডের না মায়া হবে? এই মেয়েটার দায়িত্ব নেওয়ার মতো কি কেউ নেই? শেখ হাসিনা কি এই এরকম মেয়েদের সম্পর্কে কিছু জানেন না?
আমার একটা স্বপ্ন আছে।
এরকম অসহায়, গরীব শিশুদের জন্য কিছু করবো। আমার একটা প্রতিষ্ঠান থাকবে। আমি তাদের লেখাপড়া শেখাবো। খাওয়াবো, পড়াবো। তাদের যোগ্য করে তুলবো। এই স্বপ্ন আমার এই ফুলকে দেখে হয়নি। অনেক আগে থেকেই আমার এই ইচ্ছা, এই স্বপ্ন। কারন সরকার এদের জন্য কিছু করবে না। ক্ষমতাবানরাও এদের জন্য কিছু করবে না। করলে আরো আগেই করতো। এই শ্রেনীর শিশু ত্রিশ, চল্লিশ বছর আগেও ছিলো। আজও আছে। আগামীতেও হয়তো থাকবে। সব ধনী লোক যদি একজন করে এরকম শিশুর দায়িত্ব নিতো তাহলে এরকম শিশু একজনও রাস্তায় থাকতো না। মানুষের মন থেকে কি মায়া দয়া উঠেই গেছে? রাত ৯ টায় একটা বাচ্চা মেয়ে জনে জনে দুইটা টাকা চাচ্ছে! কেউ তাকে টাকা দিচ্ছে না। কেউ তাঁর দিকে ফিরে তাকাচ্ছে না।
আমি প্রতি বছর ঈদের সময়-
দুই ডজন জামা কিনি। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বাচ্চাদের বিলিয়ে দেই। চারিদিকে অসংখ্য দরিদ্র অসহায় শিশু। সবাইকে দিতে পারি না। খুব খারাপ লাগে। আমি ধনী মানুষ নই। কিন্তু আমার ইচ্ছা করে সবাইকে দেই। গত বছর কাউকে জামা দিতে পারি নি। এ বছরও পারবো না। না দিতে পারার যন্ত্রনা আমাকে কষ্ট দেয়। আমাকে নড়াচড়া দিয়ে উঠে বসতে হবে। সময় হু হু করে চলে যাচ্ছে। আমার চোখে যত দরিদ্র অসহায় শিশু চোখে পড়বে, তাদের দায়িত্ব নিবো। তাদের থাকা খাওয়ার নিশ্চয়তা দিবো। তাদের লেখাপড়া শেখাবো। তাদের হাতের কাজ শেখাবো। তারা একটু সুযোগ পেলে নিজের পায়ে দাড়াতে পারবে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




