
করোনায় বন্ধী শাহেদ জামাল।
সারাদিন বাসায় শুয়ে বসে থাকতে কার ভালো লাগে! নীলার সাথে কতদিন দেখা হয় না। রিকশায় করে ঘুরা হয় না! প্রিয় রমনা পার্কে কত দিন যাওয়া হয় না। তাঁর জন্মের পর দেশের এরকম পরিস্থিতি সে কখনও দেখেনি। শাহেদ জামালের সবচেয়ে ভালো দিক হলো সে সময়ের অপচয় একদম পছন্দ করে না। তাই ঘরে থেকেও সে চেষ্টা করে সময়টা কাজে লাগাতে। সময় খুব মূল্যবান। সময় নষ্ট করা ঠিক না। এটা শাহেদ জামাল খুব ভালো করেই জানে।
সরকারের দেওয়া লকডাউন শাহেদ জামাল মানছে।
ঘরে থেকে সে পৃথিবীর সেরা মুভি গুলো দেখে নিচ্ছে। কোনো কোনো মুভি এত ভালো লাগছে যে ৩/৪ বার করে দেখছে। যেমন- দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন, দ্য পারসুইট অফ হ্যাপিনেস, লাইফ ইজ বিউটিফুল এবং ফরেস্ট গাম্প মুভিগুলো তাঁর মনে দাগ কেটেছে। এই মুভি গুলো সে আবারও দেখবে। দারুন সব বইও পড়ে যাচ্ছে। যেমন- দান্তের ডিভাইন কমেডি, গ্যাটের ফাউস্ট, নেপোলিয়ান হিল এর থিংক এন্ড গ্রো রিচ, তলস্তয়ের 'দ্য কিংডম অব গড ইজ উইথ ইউ'। সময় একেবারে মন্দ কাটছে না।
একবার শাহেদ আর নীলা বান্দরবন গিয়েছিলো।
অফ সিজন ছিলো তখন। তারা এক হোটেলে উঠলো। তখন বান্দরবন এত হোটেল, মোটেল ছিলো না। হাতে গোনা কয়েকটা হোটেল ছিলো। তারা সন্ধ্যায় হোটেলে গেলো। মোটামোটি মানের এক রুম। ডবল বেড। তখন সন্ধ্যা। শাহেদ আর নীলা দুজনেরই ক্ষুধা পেয়েছে বেশ। ইন্টারকম ফোন করে বলল, কি খাবার আছে দিয়ে পাঠাও তাড়াতাড়ি। ওরা বলল, স্যরি স্যার কোনো খাবার নেই। রাতের খাবার দেওয়া হবে আট টায়। তাও নীচে এসে খেয়ে যেতে হবে। আমার হোটেলে রুমে খাবার দেওয়া হয় না।
সারাদিন বাস জার্নি করে দুজনে'ই ক্লান্ত।
শাহেদ আবার ফোন দিলো ইন্টারকমে। বলল, আমাদের খুব ক্ষুধা লেগেছে। দু'টা পরোটা আর মূরগী মাংস যা আছে দিন। ওরা বলল, স্যার স্যরি কিছুই নেই। শাহেদ বলল, কিছু না থাকলে অন্তত একটা ডিম ভেজে দিন। আর চা। দশ মিনিট পর ওয়েটার দুটা ডিম ভাজি, দু কাপ চা আর এক বোতল নিয়ে এলো। সেই ডিম বাজিটা খেতে দারুন লেগেছিলো তাদের। মাঝে মাঝে নীলা আর শাহেদ এই ডিম ভাজির কথা মনে করে খুব হাসে।
হ্যা, বিয়ের আগেই তারা একসাথে বান্দরবন গিয়েছিলো।
একই রুমে দুজন দুই বিছানায় ঘুমিয়েছে। তাদের সম্পর্ক ছিলো স্বচ্ছ পবিত্র। সবচেয়ে বড় কথা দুজনের প্রতি দুজনের দারুন বিশ্বাস ছিলো। সেবার তারা একসাথে তিন দিন ছিলো বান্দরবন। অবশ্য একদিন রাতে নীলা শাহেদকে কাছে ডেকেছিলো। বলেছিলো যদি কিছু ঘটে ঘটুক। আসো। শাহেদ যায়নি। বলেছিলো, দেরী হোক যায় নি সময়। এই ঘটনার পর নীলা বলেছিলো, আমি তোমাকে ছেড়ে কোনোদিন কোথাও যাবো না। নো, নেভার।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




