
একুশ দিন হয়ে গেলো!
সেভ করি না। সাধারনত আমি সপ্তাহে দুইবার সেভ করি। আগে সপ্তাহে তিনবার করতাম। তখন অফিসে যেতে হতো। মিটিং থাকতো। নানান রকম লোকের সাথে দেখা সাখাত করতে হতো। সেভ করবো-করবো করে আর করা হয় নি। এদিকে একুশ দিন পার হয়ে গেলো। আসলে, আমার রেজারের ব্লেড শেষ। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার বাজারে গিয়েছি কিন্তু ব্লেড কিনতে মনে ছিলো না। দাঁড়ি গুলো বেশ লম্বা হয়েছে। আমার সমস্যা হলো চুল আর দাঁড়ি লম্বা হয়ে গেলে মায়া পড়ে যায়। তখন আর চুল-দাঁড়ি কাটতে ইচ্ছা করে না। যত্ন নিয়ে এতদিন শ্যাম্পু-কন্ডিশনার দিয়েছি। তেল দিয়েছি। জেল দিয়েছি। চুল আচড়েছি। আর সেলুন ওলা মুহুর্তের মধ্যে ঘচাং করে কেটে দিবে! তা হবে না। তা হবে না।
গতকাল দাড়িতে শ্যাম্পু দিয়েছি।
কন্ডিশনার লাগিয়েছি। চুলে যেভাবে শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার লাগায় আমি ঠিক তাই করলাম। সারাদিন দাঁড়ি গুলো ঝকমক করেছে। ভাবছি দাঁড়ি রেখে দিবো। মায়া পড়ে গেছে। অবশ্য এরকম হাজার বার ভেবেছি শেষমেশ আর দাঁড়ি রাখা হয়নি। এবারও হবে না। জানি আমি। আসলে করোনার কারনে দীর্ঘদিন সেলুনে যাচ্ছি না। মাথা ভর্তি চুল। ঘরে না হয় সেভ করলাম। চুল তো ঘরে কাটাতে পারি না। অবশ্য সেলুন ওলাকে ফোন দিলে বাসায় এসে চুল কেটে দিয়ে যাবে। কিন্তু অনেক টাকা নেবে। এখন ফালতু কাজে টাকা খরচ করার সময় না। চারিদিকে করোনা। চুল দাঁড়ি তো আর ভাত মাছ চাচ্ছে না।
ঠিক করেছি ঈদের পর চুল-দাঁড়ি কাটাবো।
যদিও বাসার লোকজন প্রতিদিনই বলছে চুল কাটাতে, সেভ করতে। কিছু কিছু ব্যাপারে আমার গাড়ের রগ আবার ত্যারা। সিদ্ধান্ত যখন নিয়েছি ইদের পর কাটাবো। তাই ঈদের আগে চুল কাটাবো না। ফাইনাল। সবচেয়ে বড় কথা মাথার এলোমেলো চুলে আর মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়িতে আমাকে ভালোই লাগছে। বাংলা সিনেমার একজন দরিদ্র নায়কের মতো লাগছে। যে সততার কারনে দরিদ্র। সে চাইলে গাড়ি বাড়ি করতে পারতো। আমার এই চুল দাঁড়ি দেখে কোনো মেয়ে হয়তো আমার প্রেমে পড়ে যাবে।
সারারাত ঘুমাই না।
সেহেরি খেয়ে তারপর বিছানায় যাই। যদিও আমি রোজা রাখি না। কিন্তু ইফতারীটা সময় মতো করি। সেহেরি আর ইফতার করার কারনে কিছু সোয়াব তো পাবো। হে হে...। ইফিতারীতে নানান রকম আইটেম থাকে। এটা আমার খুব ভালো লাগে। বাসায় যতই এটা সেটা তৈরি করুক। তবু দোকান থেকে কিছু না কিছু আনতে হয়'ই। রোজা পাঁচটা হয়ে গেলো- এখনও চিকুন জিলাপীটা খাই নি। বেশীর ভাগ দোকানে মোটা জিলাপী বানায়। যেটাকে শাহী জিলাপী বলে। আমার সমস্যা হলো হালীম নিয়ে। বাসার হালিম আমার কাছে দোকানের মতো স্বাদ লাগে না। কারন কি?
বয়স বাড়লে মানুষের অনেক পরিবর্তন হয়।
আমি আমার পরিবর্তন গুলো খুব বুঝতে পারছি। আগে আমি মাছের মাথা খেতাম না। এখন মাছের মাথা খেতে ভালো লাগে। একসময় একশন মুভি ভালো লাগতো, এখন মারামারির মুভি দেখি না। একসময় প্রেম ভালোবাসার উপন্যাস পড়তে ভালো লাগতো। এখন ইতিহাস আর প্রবন্ধের বই পড়তে ভালো লাগে। আগে কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে ভালো লাগতো না। এখন অতি সামান্য বিষয় নিয়েও ঘন্টার পর ঘন্টা ভাবতে ভালো লাগে। ইদানিং মনে হচ্ছে তওবা করে আল্লাহর রাস্তায় ফিরে আসি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৪:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




