somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রফিক ও নীলা

২১ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



৭ই মার্চ ১৯৭১।
আজ সকাল থেকেই রফিক অনেক অস্থির। আজ একটি বিশেষ দিন। শেখ মুজিবুর রহমান আজ ভাষণ দিবেন। এবং আজ বিকেলে নীলার সাথে গুল্লুর দেখা করার কথা শহীদ মিনারে। রফিক অনেক চিন্তা ভাবনা করে ঠিক করেছে- নীলাকে নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে যাবে। শেখ মুজিবর কি বলেন-মন দিয়ে শুনবে। দেশের অবস্থা ভালো না। আজকে শেখ সাহেবের ভাষণের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। ইয়াহিয়া কে বিশ্বাস নেই। ব্যাটা একটা হারামজাদা। সমস্যা হলো নীলা কি যাবে ভাষণ শুনতে? নীলা চেয়েছিল বলাকাতে সিনেমা দেখবে। নীলা সিনেমা দেখতে খুব পছন্দ করে।

নীলা হাসি মুখে রাজি হয়েছে-
সে অবশ্যই যাবে শেখ সাহেবের ভাষণ শুনতে। রফিক এবং নীলা রেসকোর্স ময়দানে গিয়ে প্রচন্ড অবাক। তারা তাদের জীবনে এত মানুষ কোনো দিন দেখে নি। মনে হচ্ছে যেন সারা দেশের মানুষ এই ময়দানে এসে জড়ো হয়েছে। সব বয়সী মানুষ এখানে এসে জড়ো হয়েছে। অনেক ছোট ছোট বাচ্চা তাদের নানা দাদার কোলে পিঠে কাঁধে, বাচ্চারা অবাক হয়ে চেয়ে আছে এত মানুষ দেখে। রফিক নীলার হাত ধরে একেবারে মঞ্চের কাছে নিয়ে গেছে। রফিকের খুব শখ শেখ সাহেব কে কাছ থেকে দেখবে। নীলা বলল, আমি কখনও ভাবতে পারিনি এত কাছ থেকে শেখ সাহেব কে দেখব!

নীলা খুব সুন্দর করে সেজেছে।
সাদা কালো একটি শাড়ি পড়েছে। কিন্তু হাত ভরতি লাল সবুজ কাঁচের চুড়ি। কপালে একটা বড় লাল টিপ। সিনেমা দেখতে পারেনি বলে নীলার একটুও মন খারাপ হয়নি। শেখ মুজিব মঞ্চে উঠলেন। নীলা শক্ত করে রফিকের হাত ধরে রাখলো। ব্রজ কন্ঠে মুজিব ভাষণ শুরু করলেন। ময়দানের সবাই একসাথে চিৎকার করে বলে উঠলো- জয় বাংলা। শেখ মুজিব বললেন- 'আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। ...১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯ এর আন্দোলনে আয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গনতন্ত্র দেবেন - আমরা মেনে নিলাম। ... তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। রক্ত যখন দিয়েছি, আরো রক্ত দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম জয় বাংলা'।

এটাই ছিল রফিকের সাথে নীলার শেষ দেখা।
রফিক দেখেছে শেখ মুজিবরের ভাষণ শুনে সেদিন নীলার চোখ ভিজে উঠেছে। একটু পরপর নীলা তার শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছেছে।ভাষন শেষে রফিক নীলাকে বাসায় পৌছে দেয়। রফিকের সাথে নীলার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ১৬ই ডিসেম্বর। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনের ঐতিহাসিক গণরায়কে নস্যাৎ করার জন্য একাত্তর সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান বেতার ঘোষণার মাধ্যমে ৩ মার্চ ঢাকায় আহূত জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করে।

২৫শে মার্চের পর নীলা এবং রফিকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নি।
নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় রক্তপিপাসু হিংস্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষদের ওপর চালায় গণহত্যা ও পৈশাচিকতা। সেই হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি ছাত্র, শিক্ষক, নারী, শিশু এমনকি রিকশাচালকও। ২৫ শে মার্চ রাতে রফিক নীলার বাসার উদ্দেশে বের হয়- তারপর রফিকের খোঁজ পাওয়া যায় নি। ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় হানাদার বাহিনীর অগ্নিসংযোগে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। চতুর্দিকে বিরামহীন গুলির শব্দে বিনিদ্র রাত কাটায় নগরবাসী। হঠাৎ করে হানাদার বাহিনীর আক্রমণ ও রাস্তায় রাস্তায় তাদের সশস্ত্র টহলে ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ ঘরের কোণে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি।

২৬শে মার্চ আসে স্বাধীনতার ঘোষণা।
এরপর নয় মাস বাঙালির মরণপণ যুদ্ধে অর্জিত হয় রক্তের পতাকা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৪০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×