
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
কোরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রাসুল (সা.) তোমাদের যা দিয়েছেন তোমরা তা ধারণ করো আর তিনি যা বারণ করেছেন তা হতে বিরত থাকো।’
১। নবি করিম (স.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি ঘুমানোর পূর্বে আয়াতাল কুরসী পড়ে, মহান আল্লাহ্ তাকে রক্ষার জন্য একটি ফেরেশতা নিযুক্ত করেন যাতে সে সুস্থ অবস্থায় সকালে পৌঁছায়’ (বা জাগ্রত হয়)।
২। মুহাম্মাদ (স.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি কোন মুসলিম বৃদ্ধকে সম্মান করে, মহান আল্লাহ্ তাকে কেয়ামতের দিনের ভয় হতে নিরাপত্তা দান করেন’।
৩। মহানবী (স.) এমন একদল লোকের মাঝ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যাদের মধ্যে শক্তিধর এক লোক ছিল। যে বড় বড় পাথর উত্তোলন করছিল এবং উপস্থিত লোকেরা তাকে ভার উত্তোলনের বীর হিসেবে বাহবা দিচ্ছিলো। আর ঐ ক্রীড়াবিদের কর্মকাণ্ডে সকলে অবাক হচ্ছিল। আল্লাহর নবী (স.) জিজ্ঞেস করলেন: এখানে লোক সমাগমের কারণ কি? জনগণ ভার উত্তোলক ঐ ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কথা সম্পর্কে মহানবী (স.) কে অবগত করলো। রাসূলে আকরাম (স.) বললেন: ‘তোমাদেরকে কি বলবো না যে, এ ব্যক্তির চেয়ে শক্তিশালী কে?
তার চেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে সে, যাকে গালী দেওয়া হয় কিন্তু সে ধৈর্য্য ধারণ করে নিজের প্রতিশোধ পরায়ন নফসের উপর নিয়ন্ত্রন রাখে এবং নিজের শয়তান ও তাকে গালি দানকারী শয়তানের উপর বিজয়ী হয়।
৪। নবী করিম (সাঃ) বলেছেন- যে ব্যক্তি মানুষকে কষ্ট দিবার জন্য খাদ্যসহ যাবতীয় জিনিসপত্র বেশী দামে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে গুদামজাত
করিয়া রাখে আল্লাহতায়ালা তাকে কষ্ট, রোগ ও দারিদ্রতার রোগে আক্রান্ত করিবেন।
৫। নবী করিম (সাঃ) বলেছেন- যে কোরআন পড়িয়া ভুলিয়া যায় কেয়ামতের দিন সে আল্লাহর সহিত কান ও নাক কাটা অবস্থায় সাক্ষাৎ করিবে।
৬। উসামা ইবনে শারিক (রা.) বর্ণনা করেছেন, একদা আমি রাসূল (সা.) এর নিকট আসলাম, তাঁর সাথীগণ তখন এমন শান্তভাবে বসে ছিল যেন তাদের মাথায় পাখি বসে আছে। আমি সালাম দিয়ে বসে পড়লাম। মরুভূমির কিছু আরব লোক আসলো আশপাশ থেকে। অতঃপর তারা রাসূল (সা.)- কে জিজ্ঞেস করলো, আমরা কি কোনো চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবো?
তিনি উত্তর দিলেন: চিকিৎসা গ্রহণ করো, কেননা আল্লাহ প্রতিকার ছাড়া কোনো অসুখ তৈরি করেন নি, শুধু একটি রোগ ব্যতীত, আর তা হলো বার্ধক্য।’
৭। নবীজি (সা.) বিশেষত প্রতি সোমবার রোজা পালন করতেন। সাহাবাগণ এর কারণ জানতে চাইলে নবীজি (সা.) বলেন, ‘এই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনে আমার প্রতি ওহি নাজিল হয়েছে।’
৮। এক রাতে রাসুল (সা.) বললেন, হে আয়েশা, আমাকে ছাড়ো। আমার রবের ইবাদত করব। আয়েশা বললেন, আল্লাহর শপথ, আপনার সান্নিধ্যে থাকতে ভালোবাসি। আপনাকে আনন্দিত দেখতে পছন্দ করি। নবীজি উঠে অজু করেন। অতঃপর নামাজ আদায় করেন। তখন কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কোল ভিজে যায়। তিনি তখন বসা। অশ্রুতে তাঁর দাড়ি ভিজে যায়। এরপর জমিনও ভিজে যায়। বিলাল (রা.) এসে তাঁকে নামাজের জন্য ডাকেন। রাসুলকে কাঁদতে দেখে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কেন কাঁদছেন, অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সব গুনাহ ক্ষমা করেছেন। তখন তিনি বললেন, ‘আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?’ রাতে আমার ওপর এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। কেউ তা পাঠের পরও চিন্তা না করলে তার জন্য ধ্বংস। আল্লাহ বলেন, আসমান-জমিন সৃষ্টি ও দিন-রাতের আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন আছে।’
৯। কবর দেখলে রাসুল (সা.) কান্না করতেন। রাসুল (সা.) নিজ মায়ের কবর জিয়ারত করে কান্না করেন। আশপাশের সবাইও কান্না করে। অতঃপর তিনি বলেন, আমার রবের কাছে মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করি। আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁর কবর জিয়ারতের আবেদন করলে অনুমতি দেওয়া হয়। অতএব তোমরা কবর জিয়ারত করো। কেননা তা তোমাদেরকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করাবে।
১০। হজরত আদম (আ.) কৃষি কাজ করতেন। হজরত ইদরিস (আ.) সেলাই কাজ করতেন। হজরত দাউদ (আ.) লোহার বর্ম বানাতেন। আমাদের নবীজি (সা.)ও নিজে ব্যবসা করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।
অর্ধেকটা খেজুর দান করেও তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারো। যদি তা-ও না থাকে, তবে সুন্দর করে কথা বলো।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ৯:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




