
পৃথিবী এ পর্যন্ত পাড়ি দিয়েছে চারটি বরফ যুগ ও চারটি আন্তঃবরফ যুগ।
হোমো স্যাপিয়েন্সদের সবচেয়ে কাছের মানুষ হচ্ছে ক্রোমেনিয়ন মানবেরা। ফ্রান্সের ক্রোমেনিয়ন অঞ্চলের গুহা থেকে এদের ফসিল পাওয়া যায়। পুরোপলীয় (পুরনো পাথরের যুগ) যুগে মানুষের জীবন ছিল শিকারি যাযাবর জীবন এবং নবোপলীয় (নতুন পাথরের যুগ) যুগে ছিল কৃষিপ্রধান স্থায়ী জীবন।
পুরোপলীয় যুগে মানুষের মধ্যে ক্ল্যান এবং টোটেমের (ধর্মবিশ্বাস) চর্চা শুরু হয়। টোটেমের বা ধর্মবিশ্বাসের চর্চা করতে গিয়ে যে সমস্ত বিধিনিষেধ মানা হতো তার নাম ছিল ট্যাবু। মূর্তি নির্মাণে মিশরীয়রা ছিলেন সিদ্ধহস্ত। আখেনাতেন ও রানী নেফারতিতির চুনা পাথরের মূর্তি দেখলে এখনো তাদের জীবন্ত মনে হয়। গ্রিক শব্দ 'মেসোপটেমিয়া'র অর্থ 'দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি'। মেসোপটেমিয়ার পূর্বদিকে টাইগ্রিস বা দজলা নদী এবং পশ্চিমে ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদী। মেসোপটেমিয়ার অনেক গুলো সভ্যতার মধ্যে সুমেরীয় সভ্যতা সবচেয়ে প্রাচীন।
আরব মরুভূমির উত্তরে একদিকে দানিয়ুব নদীর অববাহিকা থেকে শুরু করে পূর্বমুখী আর অন্যদিকে কৃষ্ণ সাগরের উত্তর প্রান্ত থেকে শুরু করে রাশিয়ার দক্ষিণ সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল পারস্য সভ্যতা। পারস্য সভ্যতায় দুটো সাম্রাজ্য ছিল। মিডীয় সাম্রাজ্য ও পারস্য সাম্রাজ্য। বিশ্ব সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়- খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ থেকে। মেসোপটেমিয়ার বসতি স্থাপনকারী আদি অধিবাসীদের প্রধান খাদ্য ছিল গম। খেজুর গাছকে তারা অভিহিত করত 'জীবনদায়িনী বৃক্ষ' বলে। খেজুর থেকে তারা তৈরি করত ময়দা ও মধু। প্রথম দিকে জলাভূমির আগাছা দিয়ে তৈরি করা হতো কুঁড়ে ঘর। পরে এ কাজে ব্যবহার করা হতে থাকে এঁটেল মাটির ইট। পৃথিবীতে মানব সৃষ্টির পরে সর্ব প্রথম যে সভ্যতাটি হচ্ছে মেসোপটেমিয়া। মেসোপটেমিয়ার জন্ম এতো আগে যে এর আগে অন্য কোন সভ্যতার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মেসোপটেমিয়াদের হাত ধরেই মানুষ সভ্য সমাজের প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমান ইরাক বা ততকালিন ব্যাবিলিয়ন, সুমার, এস্যারিয়াতে তাদের বাসস্থান ছিলো।
ইসলাম ধর্ম পৃথিবী শুরু থেকেই আছে?
যেদিন আদম (আ.) [পৃথিবীর প্রথম মানুষ] কে আল্লাহতালা এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনিও একজন নবী। তার উপরেও অনেক কিতাব নাজিল হয়েছিল। আল্লাহ পৃথিবীতে প্রথম মানুষ আদম (আ.) কে যেদিন পাঠানো হয়েছে তখন তাকে মুসলিম ও ইসলাম ধর্মের প্রথম নবী হিসাবে প্রেরন করেছেন। হজরত আদম (আ.) আল্লাহ প্রথম জান্নাত থেকে শ্রীলংকায় পাঠান। এখনো শ্রীলংকায় তার পায়ের ছাপ বাধাই করে রাখা আছে পাথরের উপর। যা সবাই সম্মান করে।
পৃথিবীতে সর্বপ্রথম বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রতি ভক্তি বা পূর্বপুরুষের প্রতি ভক্তি হিসেবে ধর্ম আত্মপ্রকাশ করে। বিচ্ছিন্ন মানব সমাজ যেমন পাপুয়ানিউগিনি বা আমাজনের গভীর বনে ছোট ছোট মানব সম্প্রদায়ের মধ্যে আজো এ ধরণের ধর্মের অস্তিত্ব থাকার কথা। যদিও সব ধর্ম নিজেদের সর্বপ্রথম দাবি করে থাকে, তবুও বিশ্বব্যাপী বহু বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে হিন্দু ধর্ম পৃথিবীর সর্বপ্রথম ধর্ম। যার বয়স প্রায় ৪০০০ বছর।
ধর্মের ইতিহাস থেকে জানা যায়-
পৃথিবীতে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশী ধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল। ভারতে এবং ইউরোপের গ্রীস ও ইতালীতে ধর্মের প্রবল প্রতাপ ছিল। মধ্য প্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি গোত্রেই কেউ না কেউ সময়ের স্রোতে ইশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যুগে যুগে ধর্ম এভাবেই বিবর্তিত হয়েছে এবং বিজ্ঞানের সাথে তাল মিলিয়ে সংস্কার হয়ে চলতে চলতে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।
ধর্মকে কেউ ব্যবহার করেছে তার নিজের স্বার্থ হাসিলে, আবার কেউ ব্যবহার করেছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিয়ে, অর্থ উপার্জনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে ধর্ম, আবার কেউবা নিজেকে স্মরণিয় রাখতে ধর্মের ব্যবহার করেছেন। মানুষকে নৈতিক করার জন্যও বিভিন্ন সময় ধর্মের ব্যবহার হচ্ছে। আনুমানিক ৩২ হাজার ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে পৃথিবীতে। যার মধ্যে বর্তমানে ৪ হাজার ধর্ম টিকে আছে। এবং এই সংখ্যা দিনদিন কমছে। হাজার হাজার ধর্মের মধ্যে অন্তত একটা ধর্মই সত্যি হবে। আবার নাও হতে পারে। হয়তো কোনো ধর্মই সত্য নয়। ইব্রাহিম, আব্রাহাম কিংবা ব্রক্ষ্মা একই ব্যাক্তি- কয়েকটি ধর্মের উৎস খুঁজতে গেলে তাকে পাওয়া যায়, তিনিও খুঁজে পাবার আগে সবসময় তার সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজতেন, প্রকৃত ধর্ম খুঁজতেন।
ধর্মের উৎপত্তি আজ থেকে প্রায় কয়েক লক্ষ বছর আগে হয়।
যার সম্বন্ধে একশো শতাংশ সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলেও আন্দাজ তো করা যেতেই পারে। বুদ্ধের জীবনী থেকে জানা যায় যে, তিনি ভগবানের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি এবং সবকিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করার পক্ষে ছিলেন। তার মৃত্যুর পরে তার শিষ্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। আর তারা 'হীনযান' আর 'মহাযান' এই দুভাগে ভাগ হয়ে যান।
যীশু সম্পর্কে কিছু অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত আছে। যেমন অন্ধকে চোখ ফিরিয়ে দেওয়া, খোঁড়ামো ঠিক করা ইত্যাদি, সেই একই রকম গল্প এই দুজনের নামেও প্রচার করা হয়! মজার ব্যাপার- মোহাম্মদ ও বুদ্ধের নামেও এমন গল্প আছে। কুরআন, বাইবেল, তাওরাত (Torah), বেদ, ইত্যাদি। একটা গ্রন্থের সাথে আরেকটা গ্রন্থের অনেক কিছুর আশ্চর্য মিল! বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে, ভিন্ন ভিন্ন শতাব্দীতে, সহস্রাব্দে ধর্মগুলোর উদ্ভব, কিন্তু এরকম আশ্চর্য কিছু মিল থাকার কারণ কী? মিল থাকা তখনি সম্ভব, যখন তাদের স্রষ্টা এক ও অভিন্ন। তাহলে এত অমিল থাকার কারণ কী? কারণ সহস্রাব্দ আগে বইগুলো কোনো ছাপাখানায় ছাপা হয়নি বা পাণ্ডুলিপিতে লিখা হয়নি। মানুষের মুখে মুখে চলতে চলতে যেকোনো কিছু বিকৃত হবেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৪:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




