somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

পুরোনো দিনের একটা গল্প বলি

১৪ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

আমার যখন ৬ বছর বয়স, তখন আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম।
এখনকার ছেলে মেয়েরা ৬ বছর বয়সে কি চালাক চতুর হয়। আমি ছিলাম নির্বোধ শ্রেনীর। অবশ্য তখন মোবাইল ছিল না, ল্যাপটপ ছিল না, ইন্টারনেট ছিল না। ডিশ লাইন ছিল না। যাই হোক, স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর মা আমাকে গোসল করিয়ে দেয়। গোছল তো না, মারাত্মক অত্যাচার। নারকেলের ছোবা দিয়ে ডলে আমাকে লাল বানিয়ে দিত। মাথায় এক গাদা তেল দিয়ে দিত। কপালের ডান পাশে আঙ্গুল দিয়ে এত্ত বড় একটা টিপ দিয়ে দিত।

গোছলের পর আমি দুপুর পর্যন্ত খেলি।
সেদিন গোসল করার পর খেলা করার জন্য পাশের বাসার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হই। কিন্তু পাশের বাসায় না গিয়ে এক পাগল এর পেছন পেছন হাঁটতে হাঁটতে কোথায় যেন চলে যাই। চারিদিকে শুধু গাড়ি, বাস, রিকশা আর দোকান-পাট। অনেক খোঁজা-খুঁজি করেও আমাদের বাসা খুঁজে পেলাম না। এদিকে ক্ষুধায় আমার পেট চু চু করছে। হঠাৎ রাস্তার পাশের এক মাইকের দোকানের লোক আমাকে কোলে নিয়ে বলল- বাবু তোমার বাসা কই?
আমি বললাম -জানি না।
ঠিকানা কি?
আমি বললাম- জানি না।
তোমার বাবার নাম কি?
আমি বললাম- মনে করতে পারছি না।
থাকো কোথায়?
আমি বললাম - বাসায়। আমার খুব ক্ষুধা লাগছে।

লোকটি আমাকে রুটি কলা কিনে দিলো।
আমি লক্ষ্মীর ছেলের মতন সবটুকু রুটি কলা খেয়ে নিলুম। তারপর লোকটি আমাকে তার দোকানে পেছনে বস্তিতে একটা ভিক্ষুক বুড়ির কাছে রেখে এলো। আমার এখনও চোখে ভাসে- বস্তির সেই নোংরা পরিবেশ। ছোট ছোট বাঁচা গুলো কাঁদায় মাখা-মাখি করে খেলছিল।

সময় তখন মধ্যদুপুর।
আমি বাসা থেকে বের হয়েছিলাম সকাল এগারো টায়। মাইকের দোকানের লোক সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ যেটা করেছে- তা হলো, উনি মাইক দিয়ে নিজের খরচে আশে-পাশে এলাকায় ঘোষনা করেছেন। একটি ফরসা ছেলে পাওয়া গিয়াছে। হাফ প্যান্ট, হাফ শার্ট পরা। পায়ে জুতো। কপালে ইয়া বড় টিপ। মাথার চুল ছোট ছোট করে কাটা।

এখন, সেই সময় বাসার পরিস্থিতি কি হয়েছিল সেই কথা একটু বলি-
আমার মা জানতেন আমি যেখানেই থাকি না কেন, একটু পর-পর বাসায় ঘুরে এসে মাকে দেখে যেতাম। মা ১২ টার দিকে আমার প্রথম খোঁজ করেন। ১ টার দিকে আমাকে না পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। আবার জ্ঞান ফিরে, আবার আমাকে দেখতে না পেয়ে জ্ঞান হারান। দুপুরবেলা আমাদের বাসার আশের পাশের এলাকায় মাইক দিয়ে জানানো হলো রাজীব নামে একটি ছেলে হারানো গিয়াছে। গায়ের রং ফর্সা। মোটা করে। হাফ প্যান্ট আর হাফ শার্ট পরা। কোনো সহৃদয়বান পেয়ে থাকলে সন্ধান দিন। সন্ধ্যা পর্যন্ত মাইক ঘুরল- খিলগা, ফকিরের পুল, মালিবাগ, শান্তিনগর, কমলাপুর ইত্যাদি জাগায় মাইক দিয়ে সবাইকে জানানো হলো কিন্তু কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না।

রাত ১১ টা। মা যায় যায় অবস্থা।
সবাই ধরেই নিলো রাজীবকে আর পাওয়া যাবে না। এই ব্যাপারটা সবাই মাকে বুঝাতে চেষ্টা করলো। প্রতিবেশীরা মাকে বলল, আল্লাহর মাল আল্লহ নিয়ে গেছে। আর কান্না-কাটি করো না। তখন আমার বাবা নিখোঁজ। মার সাথে রাগ করে কোথায় যেন চলে গিয়েছিল। আর নানা-নানী'ও কিছুদিন আগে মারা যান। আমার বাবা থাকলে আমাকে ঠিকই খুঁজে বের করতে পারত। বাবার কাছে কোনো সমস্যাই কোনো সমস্যা নয়।

আমি রয়ে গেলাম বস্তিতে।
ইয়া বড় বড় মশা আমাকে আদর যত্ন করতে লাগল। অবশ্য সারারাত আমাকে মশার কাছ থেকে আদর যত্ন নিতে হয়নি। রাত ১ টায় আমি বাসায় ফিরি। মা কোলে করে আমাকে বাসায় নিয়ে আসে। বাসায় ফেরার পর মা আমাকে এক বালতি দুধ আর দুবলা দিয়ে গোছল করায়। সারা মহল্লার মানুষকে মিষ্টি খাওয়ায়। তখন মার কাছে দুধ মিষ্টি কেনার টাকা ছিল না। টাকার জন্য মাকে গলার চেন টা বিক্রি করতে হয়েছিল।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩১
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×