somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

স্বপ্নে সব সম্ভব

২৬ শে মে, ২০২১ দুপুর ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

আজ বিকাল চারটায় নীলার সাথে আমার দেখা করার কথা, কফি পারলারে। এখন বাজে দুপুর দুইটা। আমি আছি তাজমহল রোডে। হাতে দুই ঘন্টা সময় আছে। এখন আমি যাবো আজিজে। তপন বাবুর সাথে কিছু জরুরী আলাপ আছে। আলাপ শেষ করে সেগুন বাগিচা কফি পারলার।

তপন বাবুর সাথে কথা বলতে বলতে কখন সাড়ে চারটা বেজে গেছে খেয়াল করিনি। নীলা আমার জন্য কফি পারলারে বসে আছে একথা মনে পড়তেই দৌঁড় দিলাম। পাঁচ টায় কফি পারলারে পৌছে দেখি নীলা দুই হাত গালে দিয়ে বসে আছে। দুই হাত ভরতি তার কাঁচের চুড়ি। সামনে কফির মগ। খুব সুন্দর একটা শাড়ি পড়ে আছে। নীল আর সাদা। দেখে মনে হলো যেন ঝলমলে দুপুরের স্বচ্ছ নীলাকাশ। নীলার পাশের টেবিলে চৌদ্দ পনের জনের একটা দল বসে আছে। সবার'ই বয়স পঞ্চাশ এর উপরে। তারা সবাই নীচু গলায় কথা বলছেন। হঠাৎ ইচ্ছা করলো নীলার কানের কাছে গিয়ে বলি- 'আমার শূন্যতা তুমি পূর্ন করি গিয়েছ আপনি/জীবন আঁধার হলো, সেই ক্ষনে পাইনু সন্ধান/পূজামূর্তি ধরি প্রেম দেখা দিল দুঃখের আলোতে'।

আমি মাথা নীচু করে গিয়ে নীলার সামনে বসি। আমি নীলার দিকে না তাকিয়ে খুব বুঝতে পারি নীলা দুই হাত গালে রেখেই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি কোনো দিন'ই নীলার সাথে সময় মতো দেখা করতে পারিনি। কিভাবে কিভাবে যেন দেরী হয়ে যায়।

একবার শীতের সময় নীলাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বুড়িগঙ্গা নদীর ঐ পাড়ে। একটা গ্রামে দারুন কাশফুল হয়েছে। নীলা কাশফুল অনেক পছন্দ করে। সেদিন আড়াই ঘন্টা দেরী করেছি। আহা... সেদিন নীলা আড়াই ঘন্টা গুলশান লেকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। আড়াই ঘন্টা পর যখন আমি নীলার কাছে যাই, সে একবারও জানতে চায়নি- আমার কেন দেরী হলো। আমি যখন নিজ থেকে বলতে চাইলাম, তখনও সে শুনতে চাইলো না। খুব নরম সুরে শুধু বলেছিল- আমি জানি তুমি ইচ্ছা করে দেরী করনি।

আমি কখনো দুপুরে খাওয়ার পর ঘুমাই না। সেদিন হঠাৎ এমন ঘুম দিলাম।

আমাদের পাশের টেবিলের বুড়ো গুলো খুব বেশী ক্যাট ক্যাট করছে। ঝগড়ার মতো অবস্থা। তাদের দিকে তাকাতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম! আরে...এদের সবাইকে তো আমি চিনি! শুধু আমি না নীলাও চিনে। খুব ভালো করে চিনে। আমি বললাম নীলা দেখ আমাদের পাশে কারা বসে আছেন! নীলা একটু আগ্রহ দেখালো না। তাদের দিকে ফিরেও তাকালো না। আমি বললাম, নীলা তুমি পাঁচ মিনিট বসো আমি তাদের সাথে কথা বলে আসি। নীলা কঠিন চোখে আমার দিকে তাকালো। আর তখন নীলাকে আমার হিংসুটে বলে মনে হলো। নীলাকে বলতে ইচ্ছা করলো -তোমার বান্ধবীরা ঠিক'ই বলতো, হিংসুটে।

নীলা যখন ক্লাশ এইটে পড়ে তখন তার খুব কাছের একটা বান্ধবী রেগে বলেছিল-'হিংসুটে'। নীলা তো বাসায় এসে কান্নাকাটি শুরু করেছে। নীলা কাঁদতে কাঁদতে তার বাবা কে বললো- বাবা, মিতু নাম আমার ভালো লাগে না, তুমি আমার নতুন একটা নাম রেখে দাও।সবাই আমাকে হিংসুটে বলে ডাকে। নীলার বুদ্ধিমান বাবা তখন অনেক ভেবে চিন্তে বললেন- শোন আজ থেকে তোর নাম নীলা। নামটা খুব পছন্দ হলো। নীলা হলো আকাশের একটা তারার নাম। এই তারাটা অন্যসব তারা থেকে অনেক বেশী ঝলমল করে।

আমি নীলার কঠিন চোখকে সম্পূর্ন অগ্রাহ করে পাশের টেবিলে বসা বুড়োদের টেবিলের দিকে পা বাড়ালাম। বুড়ো গুলোতো আর সাধারন বুড়ো না। এক একজন কিংবদন্তি পুরুষ। সক্রেটিস, আইনষ্টাইন, আব্রাহাম লিংকন, ব্রার্টান্ড রাসেল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ডারউইন, ফ্রয়েড, ভিঞ্চি, হো চে সিন, এডিসন, গোর্কি, পীথাগোরাস, বিটোফেন, শেক্সপিয়ার আরো দুইজন কে ঠিক চিনতে পারছি না।

আমি রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে হাসি মুখে বললাম- হ্যালো স্যার! আপনারা সবাই কেমন আছেন?
আইনষ্টাইন আর রবীন্দ্রনাথ ছাড়া সবাই আমার দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়ে আবার তাদের কথায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আইনষ্টাই আমার দিকে তাকানি কারন সে একটা ডাব গাছের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সেই ডাব গাছে দুইটা কাক কা কা করছিলো। আর রবীন্দ্রনাথ তাকিয়ে ছিলেন আমার নীলার দিকে। হয়তো ভাবছিলেন- যাকে না পেলে চলে না তাকে না পেয়ে কী করে দিনের পর দিন কাটবে, ঠিক এই কথাটার সুর পাই কোথায়?

সক্রেটিস, হো চে সিন কে বলছেন- বলেন রাষ্টবিজ্ঞানের সংজ্ঞা কি?
শেক্সপিয়ার আব্রাহাম লিংকন কে ভারী গলায় কবিতা আবৃওি করে শুনাচ্ছেন। 'In the forgeten days of sunny April- /Through the forest path, /He Comes, comes, ever comes. /In the rainy of July night on the /Thunder in gcharriot of cloud /He comes, comes, ever comes."

ভিঞ্চি, ফ্রয়েডকে মোনালিসার হাসির ব্যাখ্যা করছেন।
ব্রার্টান্ড রাসেল, পীথাগোরাসকে বলছেন-আপনি কি আমার 'বিবাহ ও নৈতিকতা' বইটি পড়েছেন?
বিজ্ঞানী ডারউইন-গোর্কিকে বিবর্তনবাদ বুঝাচ্ছেন।
আর বিটোফেন সবার দিকে বোকার মতো তাকিয়ে আছেন। আর একটু পরপর কোটের ভেতর থেকে একটা ছোট বোতল বের করে চুপি চুপি চুমুক দিচ্ছেন।

আমি কফি পারলারের একটা ছেলেকে ডেকে বললাম- এদের সবাইকে কফি দাও। আর প্রত্যেককে এক প্যাকেট করে বেনসন সিগারেট।আর নীলাকে দেখিয়ে বললাম- ঐ টেবিলে দুই মগ চা দাও। বুড়োদের বক বক ভালো লাগছে না। এখন নীলার সাথে কথা বলব আর চা খাবো। নীলা চা কফি কিছুই খায় না, তারপরও আমি একা চা খেতে পারি না বলে সে চায়ে সুন্দর করে চুমুক দেয়।

রবীন্দ্রনাথ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি ধুমপান করি না। হো চে সিন বললেন, আমি চা কফি কিছুই খাই না। গোর্কি বলছেন... হঠাৎ নীলার দিকে চোখ পড়তেই দেখি, নীলা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এখনো দুই হাত তার গালে। শেষ বিকেলের আলো নীলার মুখে। নীলাকে এতো সুন্দর লাগছে, মনে হচ্ছে এই মেয়ে এই ভুবনের মানবী হতেই পারে না। নীলার চোখের কোনায় দুই ফোঁটা জল হীরার মতো জ্বল জ্বল করছে। আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করল...

কিন্তু তার আগেই পেছন থেকে কে যেনো আমাকে ডেকে উঠলো। উঠ এই উঠ....দশ টা বাজে। বলতে বলতে গায়ে ধাক্কা দিল। আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখি মা ডাকছেন। বিছানায় উঠে বসতেই মা বললেন, যাও বিদুৎ বিলটা দিয়ে আসো। আজকেই শেষ দিন। মা'র পেছন থেকে ভাবি বললেন নাস্তা খেয়ে তাড়াতাড়ি যাও।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০২১ দুপুর ১২:২৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×