somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বাকশাল

২৮ শে মে, ২০২১ দুপুর ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাকশাল গঠন ছিল বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় ভুল।
আরেকটা ভুল ছিল দলের লোকদের কে প্রচন্ড বিশ্বাস করা। তখন আওয়ামী লীগ সংসদে ৩/৪ মেজরিটি নিয়ে সরকার করেছিল। সেই মেজরিটির জোরে তিনি বাকশাল গঠন করেছিলেন। তার এই ভুল গুলোর প্রায়শ্চিতঃ তিনি তার ও তার পরিবারের জীবন দিয়ে করে গেছেন। সেই ভুলের ধারাবাহিকতায় বিএনপি জন্ম। সেই ভুলের জন্য ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়ছে আঃ লীগকে। আঃ লীগকে বাধ্য হতে হয়েছে এরশাদের মত লোকের সাথে জোট করতে।

একটা দেশ সবাই মিলে স্বাধীন করছে।
যুদ্ধের সময় উনি ছিলে পাকিস্তান জেলে। যুদ্ধে কার কতটুকু অবদান এইটা উনার পক্ষে জানা সম্ভব না। তিনি ফিরে এসেছিলেন যুদ্ধ বিধধস্ত একটা স্বাধীন দেশে। বাকশালের অপকর্ম আজ সর্বজন স্বীকৃত। তার পরেও এর জন্য আমি অন্তত শেখ সাবকে দোষ দিতে নারাজ। বাকশাল নিয়া কাউরে দোষ যদি দিতেই হয় তাইলে সেটা কমুনিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের। আফসোস একটাই, কমুনিষ্টরা এখন পর্যন্ত ভালো কোন উদাহরণ দুনিয়ায় দেখাতে পারল না। তার পরেও এখন পর্যন্ত তাদের প্রগতিশীল ইন্টেলেকচুয়াল চিড়া ভিজানো কথায় আমরা মজি।

শেখ মুজিব আর মুক্তিযুদ্ধ বেঁচে খাওয়া আওয়ামীলীগ দলটা খুব তাড়াতাড়িই খন্ড বিখন্ড হয়ে অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে হয়তো। কিন্তু শেখ মুজিব বা মুক্তিযুদ্ধ সবার ভালোবাসায় ঠিকই থাকবে। হাজার বছর টিকে থাকবে। ইতিহাসের শিক্ষা একটাই সেইটা হইল ইতিহাস থেকে আমরা কিছু শিখি না। কোনটা ভুল আর কোনটা সঠিক সিদ্ধান্ত এ বিষয়ে নানাজনের নানান মত। আমি বিশ্বাস করি- শেখ মুজিব মোটেই ভুল করেন নি। ভুল করেছিল তৃতীয় পক্ষের চর বিশেষ দলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কিছু গার্দার এবং তাদের বেঈমানীর ফলেই বঙ্গবন্ধুকে জীবন দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে। উনার মতো নির্ভীক, প্রতিবাদী, দেশ প্রেমিক, স্পষ্টভাষী, মানবতাবাদী মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া বিরল।

শেখ মুজিব যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেই পরিস্থিতি তাঁকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় নিয়ে গিয়েছিলো। বাকশালই প্রথম বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরি করেছিলো কিন্তু বাকশাল ব্যবস্থা টিকে ছিলো মাত্র ২৩২ দিন। বঙ্গবন্ধু এই ঘূণেধরা সমাজব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বাকশালের মাধ্যমে। বাকশাল ছিল গরীবের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নেয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তম শাসনব্যবস্থা: সাম্যবাদী ব্যবস্থা। এমন একটি মানুষ, এমন দরদি, এমন কান্নাভরা কিন্তু দৃপ্ত কণ্ঠের শেখ মুজিব কখনো একনায়ক হতে পারেন না! এমন ভালোবাসা যার বুকে তিনি কখনই এমন কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা করবেন না যেখানে তার প্রিয় দেশবাসী অশান্তিতে থাকবে।

১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল, সুদীর্ঘ ২০ বছর একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে এই সব মিথ্যা এবং বিভ্রান্তির গল্প শুনে। এভাবেই বঙ্গবন্ধুর সকল কীর্তিকে মুছে ফেলতে যত চেষ্টা করা দরকার তারা সব চেষ্টাই চালিয়েছে। সকল কীর্তিতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি ওরা সুকৌশলে আরেকটি পদক্ষেপ নিয়েছিল তা হলো আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মধ্যেও কিছু বিভ্রান্তি ঢুকিয়ে দেওয়া। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সংগ্রাম মানেই একটি স্বাধীন সার্বভৌম এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। তাঁর আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন- ‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানব জাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্ত সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০২১ দুপুর ১:৫৪
১২টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×