
ছবিঃ আমার তোলা।
আমি যা চাই তা-ই হয়ে যাচ্ছে।
যেটা আশা করি তাই হয়ে যাচ্ছে। ভাবলে নিজের কাছেই আজিব লাগে! শেষমেষ আমি কি অন্তর্জামী হয়ে গেলাম! ঘটনা কি হয়েছে খুলে বলি- তিন দিন আগের কথা। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রোদ নেই। আকাশ মেঘলা বা কুয়াশাচ্ছন্ন বলা যেতে পারে। বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদার। ঘুম থেকে উঠে আমি সাধারণ এক কাপ চা খাই। দাঁত ব্রাশ করার পর ব্রেকফাস্ট করে আরেক কাপ চা খাই। এটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস। বাসার সবাই সকাল নয়টার মধ্যে নাস্তা করে ফেলে। কিন্তু আমার নাস্তা করতে দেরী হয়ে যায়। অবশ্য কোনো কিছু নিয়েই তাড়াহুড়া করতে আমার ভালো লাগে না।
যাই হোক, সেদিন মেঘলা আবহাওয়া মনটা নরম করে দিয়েছে।
এঁর মধ্যে একটা প্রেমের বই পড়ছিলাম। বইয়ের নাম 'তেঁতুল বনের জোছনা'। বইটা আগেও তিনবার পড়েছি। বইটা পড়া শেষ হয়েছে তিনটায়। বেশ ক্ষুধাও পেয়েছে। ইচ্ছা করছে গরম গরম খিচুড়ি খেতে। সাথে গরুর মাংস ভূনা। মোটা করে বেগুন ভাঁজা। ইলিশ মাছ ভাঁজা থাকলেও চলে, না থাকলেও সমস্যা নাই। ভাবী হয়তো রান্না করছে রুই মাছ আলু দিয়ে ঝোল করে। অবশ্য ইদানিং ভাবী ফুলকপি শিম দেয়। সাথে টোমেটো। যাই হোক, খেতে বসে আমি অবাক! খিচুড়ি। মাত্র চুলা থেকে নামিয়েছে। ধোঁয়া বের হচ্ছে। সাথে গরুর মাংস। রান্না করেছে সুরভি। আমি তিন প্লেট উড়িয়ে দিলাম। জব্বর স্বাদ হয়েছে।
এই কয়েকদিন আগের কথা।
সুরভি নিউ মার্কেট গিয়েছে। আমি বাসায় ফারাজার দেখভাল করছি। ফারাজার বিকেলে ঘুমানোর কথা ছিলো। সে ঘুমায় নি। ফারাজার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমি ক্লান্ত। বিকেলে চা নাস্তাও খাওয়া হয়নি। চা নাস্তা দিবে কে? সুরভি আর ভাবী দুজনেই মার্কেটে গিয়েছে। প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে। দুপুরেও খাওয়া হয় নি। যদিও সুরভি টেবিলে খাবার সাজিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু কন্যা ফারাজাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আর খাওয়া হয়নি। সন্ধ্যায় অনুভব করলাম অনেক ক্ষুধা লেগেছে। ইচ্ছা করছিলো কেএফসি'র চিকেন ফ্রাই খেতে। সাথে কোক। ঠিক তখন ছোট ভাইয়ের বউ এসে দুই পিছ চিকেন ফ্রাই আর কোক দিয়ে গেলো। আমি প্রচন্ড অবাক! যা চাইছি তাই পেয়ে যাচ্ছি! ছোট ভাইয়ের বউ এঁর বুদ্ধি আছে চিকেন ওভেনে গরম করে দিয়েছে। সাথে সস দিয়েছে।
সেদিন আমার খুব কাচ্চি খেতে ইচ্ছা করছিলো।
ইদানিং হুটহাট নানান রকম খাবার খেতে ইচ্ছা করে। শুনেছি মৃত্যু ঘনিয়ে এলে এরকম হয়। যাই হোক, ভাবছি কাচ্চি কি সুরভিকে রান্না করতে বলব না চুপ করে হটেল থেকে খেয়ে আসবো। তবে হোটেলের কাচ্চির চেয়ে সুরভির রান্না অনেক বেশি ভালো। যাই হোক, সুরভিকে আর কাচ্চির কথা বললাম না। রাতে বাসায় ফিরে ল্যাপটপ অন করেছি। মুভি দেখব, না লিখব- ভাবছি। সময় তখন রাত দশটা। এমন সময় সুরভি আমার জন্য কাচ্চি নিয়ে এসে হাজির। আমি প্রচণ্ড অবাক! সুরভি আমার মনের কথা জানলো কি করে? সুরভি বলল, তুমি এখনই খেয়ে নাও। বাসায় আমার আর ভাবীর বান্ধবীরা আসছে। আমরা সারারাত আজ গল্প করবো। তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে যাও। আমি বললাম, আমার খাওয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকো। একা খেতে ভালো লাগে না।
আজকের কথা। রাত আট টা বাজে।
বাসায় ফিরছি। রেলগেটের কাছে এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা। বড় ভাই জোর করে রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেলেন। নান রুটি দিয়ে মূরগীর চাপ খেলাম। মূরগীটা টুকরো টূকরো করে কেটে সয়া সস, কেপসিকাম, পেয়াজ, কাচা মরিচ দিয়ে হালকা ভাঁজা ভাঁজা করে। খেতে খারাপ না। খেলাম। পেট ভরেই খেলাম। এবং ঠিক করে ফেললাম, রাতে আর খাবো না। বাসায় এসে দেখি ভাবী বাইরে গিয়েছিলেন। আসার সময় গরুর চাপ, গ্রীল চিকেন, গরুর মগজ ভূনা আর নান রুটি নিয়ে এসেছেন। সামান্য খেলাম। না খেলে ভাবী রাগ করতেন। কিন্তু আমি বুঝি এসব খাওয়া ঠিক না। শরীরের জন্য খারাপ। সুস্থ থাকতে হলে শুধু সবজি খাওয়া উত্তম।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০২১ রাত ১:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




