
ছবিঃ আমার তোলা।
শাহেদ জামালকে বন্ধী করে রাখা হয়েছে।
তার মোবাইলও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘরে সামান্য আলো ভেন্টিলেটার দিয়ে আসছে। ঘটনা শুরু এভাবে- সময় তখন মধ্যদুপুর। শাহেদ জামাল সেগুন বাগিচা গিয়েছিলো। না কোনো কাজে না, এমনি। কোথায় যাবে এই দুপুরে শাহেদ জামাল তাই ভাবছিলো ফুটপাতে দাঁড়িয়ে। ঠিক তখন এক মেয়ে হাসি মুখে শাহেদ জামালকে কাছে ডাকলো। শাহেদ মেয়েটির কাছে গেলো। মেয়েটিকে পরিচিত মনে হচ্ছে না। তবে মেয়েটা বেশ সুন্দর। কি সুন্দর একটা অফ হোয়াইট শাড়ি পড়েছে। শাড়ির সব গুলো কুচি সমান হয়েছে। ফর্সা পেটের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। তা নিয়ে মেয়েটার মধ্যে কোনো সংকোচ নেই।
মেয়েটা হেসে বলল, আমাকে চিনতে পারো নি?
শাহেদ জামাল বলল, না।
মেয়েটা বলল, গাধা। তুমি আগেও গাধা ছিলে, এখনো গাধাই আছো। আমার নাম সুমি।
শাহেদ বলল, চিনতে পেরেছি। তুমি তো আগের থেকে আরো বেশি সুন্দর হয়েছো।
সুমি বলল, দীর্ঘ তেরো বছর পর আজ তোমার সাথে দেখা।
শাহেদ বলল, অথচ আমরা একই শহরে থাকি!
সুমি শাহেদকে জোর করে একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেলো।
দুজনে মিলে ভাত খেলো। খাওয়ার সময় তাদের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হলো। সুমি বলল, তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। অথচ তুমি পালিয়ে গেলে। আমি তোমার সব খোজ খবর রেখেছি সব সময়। তুমি বেকার। তোমার প্রেমিকার নাম নীলা। কিছুদিন আগে তোমার বাবা মারা গেছেন।
শাহেদ বলল, আমি তোমার কোনো খোজ খবর জানি না।
সুমি বলল, কখনও জানতে চেয়েছো? চাও নি। তুমি আমাকে দারুন অবহেলা করেছো। ভীষন কষ্ট পেয়েছি আমি। তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। আমি তোমাকে কঠিন শাস্তি দিবো। কঠিন।
সুমি শাহেদ জামালকে বন্ধী করে রেখেছে।
জায়গাটা কোথায় শাহেদ জামাল জানে না। তাকে অজ্ঞান করে এখানে এনে রাখা হয়েছে। ছোট একটা ঘর। ঘরের সাথেই বাথরুম। একটা চৌকি আছে। চৌকিতে একটা ছেঁড়া ময়লা কাঁথা। ঘরের এক কোনায় একটা টেবিল। টেবিলের উপর কিছু বাসী পত্রিকা। আর একটা দেয়াশলাই। বন্ধী অবস্থায় বারো ঘন্টা পার হয়ে গেছে। কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। শাহেদ জামাল বাথরুম থেকে পানি খাচ্ছে অনবরত। শাহেদ জামালের ধারনা বাথরুমের পানিও বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাকে সম্পূর্ন না খাইয়ে হত্যা করা হবে। শাহেদ জামাল মনে মনে ভাবলো- সুমি মেয়েটা আগেও নির্বোধ ছিলো। এখন আরো বেশি নির্বোধ হয়েছে।
মানুষ না খেয়ে ৪০ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
তেরো বছর পর সুমির কেন শাস্তি দিতে ইচ্ছা হলো! আজব মেয়ে মানুষের মন। সুমি মেয়েটাকে শাহেদ জামাল পছন্দ করেনি একটা মাত্র কারনে, মেয়েটা শাহেদ জামালকে কিনে নিতে চেয়েছিলো। বলেছিলো, তার অনেক সম্পত্তি। ঢাকা শহরে ছয় তোলা দুটা বাড়ি আছে। বাড়ি থেকে প্রতিমাসে অনেক টাকা আসে। নিউ মার্কেটে তিনটা দোকান আছে। সেখান থেকেও প্রতিমাসে ভাড়া আসে। ইত্যাদি ইত্যাদি। শাহেদ জামাল সুমিকে বিয়ে করলে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারবে। সুমিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো শাহেদ। এরপর তাদের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তাতে সুমি অনেক অপমান ভোধ করেছিলো।
২৪ ঘন্টা পার হয়ে গেছে।
তাকে কোনো খাবার দেওয়া হয় নাই। অবশ্য ক্ষুধাবোধ চলে গেছে। বাথরুমে পানি না থাকলে খুব কষ্ট হয়ে যেত। তবে এক কাপ চা আর একটা সিগারেটের জন্য বুক ফেটে যাচ্ছে। যাই হোক, এ ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন কিছু না। অতি সামান্য বুদ্ধির লোকও এই ঘর থেকে পালাতে পারবে। ঘরে কোনো জানালা নেই। তবে একটা দরজা আছে। বেশ শক্ত দরজা। পা দিয়ে লাথি মেরে দরজা ভাঙ্গা সম্ভব না। চিৎকার করে কাউকে ডাকলে শব্দ বেশি দূর যাবে না। শাহেদ জামাল ঘর থেকে বের হওয়ার দুটা উপায় বের করলো। ঘরে একটা দেয়াশলাই আছে। তাতে উনিশ টা কাঠি আছে। কিছু পুরোনো খবরের কাগজ আছে। দরজাটায় ভালো করে আগুন ধরিয়ে দিতে পারলে বের হওয়া সম্ভব। শাহেদ জামাল প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে ক্ষমা করে দিতেই বেশি পছন্দ করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০২১ রাত ১২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




