somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- (ছত্রিশ)

১৮ ই নভেম্বর, ২০২১ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

শাহেদ জামালকে বন্ধী করে রাখা হয়েছে।
তার মোবাইলও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘরে সামান্য আলো ভেন্টিলেটার দিয়ে আসছে। ঘটনা শুরু এভাবে- সময় তখন মধ্যদুপুর। শাহেদ জামাল সেগুন বাগিচা গিয়েছিলো। না কোনো কাজে না, এমনি। কোথায় যাবে এই দুপুরে শাহেদ জামাল তাই ভাবছিলো ফুটপাতে দাঁড়িয়ে। ঠিক তখন এক মেয়ে হাসি মুখে শাহেদ জামালকে কাছে ডাকলো। শাহেদ মেয়েটির কাছে গেলো। মেয়েটিকে পরিচিত মনে হচ্ছে না। তবে মেয়েটা বেশ সুন্দর। কি সুন্দর একটা অফ হোয়াইট শাড়ি পড়েছে। শাড়ির সব গুলো কুচি সমান হয়েছে। ফর্সা পেটের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। তা নিয়ে মেয়েটার মধ্যে কোনো সংকোচ নেই।

মেয়েটা হেসে বলল, আমাকে চিনতে পারো নি?
শাহেদ জামাল বলল, না।
মেয়েটা বলল, গাধা। তুমি আগেও গাধা ছিলে, এখনো গাধাই আছো। আমার নাম সুমি।
শাহেদ বলল, চিনতে পেরেছি। তুমি তো আগের থেকে আরো বেশি সুন্দর হয়েছো।
সুমি বলল, দীর্ঘ তেরো বছর পর আজ তোমার সাথে দেখা।
শাহেদ বলল, অথচ আমরা একই শহরে থাকি!

সুমি শাহেদকে জোর করে একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেলো।
দুজনে মিলে ভাত খেলো। খাওয়ার সময় তাদের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হলো। সুমি বলল, তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। অথচ তুমি পালিয়ে গেলে। আমি তোমার সব খোজ খবর রেখেছি সব সময়। তুমি বেকার। তোমার প্রেমিকার নাম নীলা। কিছুদিন আগে তোমার বাবা মারা গেছেন।
শাহেদ বলল, আমি তোমার কোনো খোজ খবর জানি না।
সুমি বলল, কখনও জানতে চেয়েছো? চাও নি। তুমি আমাকে দারুন অবহেলা করেছো। ভীষন কষ্ট পেয়েছি আমি। তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। আমি তোমাকে কঠিন শাস্তি দিবো। কঠিন।

সুমি শাহেদ জামালকে বন্ধী করে রেখেছে।
জায়গাটা কোথায় শাহেদ জামাল জানে না। তাকে অজ্ঞান করে এখানে এনে রাখা হয়েছে। ছোট একটা ঘর। ঘরের সাথেই বাথরুম। একটা চৌকি আছে। চৌকিতে একটা ছেঁড়া ময়লা কাঁথা। ঘরের এক কোনায় একটা টেবিল। টেবিলের উপর কিছু বাসী পত্রিকা। আর একটা দেয়াশলাই। বন্ধী অবস্থায় বারো ঘন্টা পার হয়ে গেছে। কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। শাহেদ জামাল বাথরুম থেকে পানি খাচ্ছে অনবরত। শাহেদ জামালের ধারনা বাথরুমের পানিও বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাকে সম্পূর্ন না খাইয়ে হত্যা করা হবে। শাহেদ জামাল মনে মনে ভাবলো- সুমি মেয়েটা আগেও নির্বোধ ছিলো। এখন আরো বেশি নির্বোধ হয়েছে।

মানুষ না খেয়ে ৪০ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
তেরো বছর পর সুমির কেন শাস্তি দিতে ইচ্ছা হলো! আজব মেয়ে মানুষের মন। সুমি মেয়েটাকে শাহেদ জামাল পছন্দ করেনি একটা মাত্র কারনে, মেয়েটা শাহেদ জামালকে কিনে নিতে চেয়েছিলো। বলেছিলো, তার অনেক সম্পত্তি। ঢাকা শহরে ছয় তোলা দুটা বাড়ি আছে। বাড়ি থেকে প্রতিমাসে অনেক টাকা আসে। নিউ মার্কেটে তিনটা দোকান আছে। সেখান থেকেও প্রতিমাসে ভাড়া আসে। ইত্যাদি ইত্যাদি। শাহেদ জামাল সুমিকে বিয়ে করলে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারবে। সুমিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো শাহেদ। এরপর তাদের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তাতে সুমি অনেক অপমান ভোধ করেছিলো।

২৪ ঘন্টা পার হয়ে গেছে।
তাকে কোনো খাবার দেওয়া হয় নাই। অবশ্য ক্ষুধাবোধ চলে গেছে। বাথরুমে পানি না থাকলে খুব কষ্ট হয়ে যেত। তবে এক কাপ চা আর একটা সিগারেটের জন্য বুক ফেটে যাচ্ছে। যাই হোক, এ ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন কিছু না। অতি সামান্য বুদ্ধির লোকও এই ঘর থেকে পালাতে পারবে। ঘরে কোনো জানালা নেই। তবে একটা দরজা আছে। বেশ শক্ত দরজা। পা দিয়ে লাথি মেরে দরজা ভাঙ্গা সম্ভব না। চিৎকার করে কাউকে ডাকলে শব্দ বেশি দূর যাবে না। শাহেদ জামাল ঘর থেকে বের হওয়ার দুটা উপায় বের করলো। ঘরে একটা দেয়াশলাই আছে। তাতে উনিশ টা কাঠি আছে। কিছু পুরোনো খবরের কাগজ আছে। দরজাটায় ভালো করে আগুন ধরিয়ে দিতে পারলে বের হওয়া সম্ভব। শাহেদ জামাল প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে ক্ষমা করে দিতেই বেশি পছন্দ করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০২১ রাত ১২:২২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”
==========================================
চুক্তি মানেই তো স্বার্থের ভারসাম্য। কিন্তু সেই ভারসাম্য যখন দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, তখন সেটি আর চুক্তি থাকে না প্রশ্নবিদ্ধ সমঝোতায় পরিণত হয়। ইউনূসের শেষ সময়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইব্রাহীমের (আ.) কুরাইশ আহলে বাইতের মধ্যে হযরত আলীর (রা.) মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের সময় সবচেয়ে কম

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৯



সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×