
ছবিঃ গুগল।
মুসলমানদের দুই কাঁধে দুই ফেরেশতা থাকে।
এই দুই ফেরেশতার সঠিক কোনো নাম নেই। কিন্তু তাদের একজনের নাম কিরামান এবং অন্যজনের নাম কাতেবীন ধরা যেতে পারে। মূলত তাঁরা লেখক। আল্লাহ বলেছেন, 'যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার কর্ম লিপিবদ্ধ করে’। ডান দিকের ফেরেশতা কিরামান সৎ আমল ও বাম দিকের ফেরেশতা কাতেবীন গোনাহ লিপিবদ্ধ করে থাকেন। কাজেই দুনিয়াবি জীবনে পাপ করে বেঁচে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। মানুষ যেমন রোবট বানিয়েছে আল্লাহ বানিয়েছেন ফেরেশতা। ফেরেশতা এবং রোবটের এক জাগায় খুব মিল। তাঁরা সেক্স করতে পারে না। তাদের আবেগ নেই। তাঁরা নিজ ইচ্ছায় চলতে পারে না।
ফেরেশতারা সব সময় মানুষের পাশে পাশে থাকেন।
শুধু মাত্র- প্রস্রাব-পায়খানা, স্ত্রী সহবাস ও গোসলের সময় ফেরেশতারা দূরে থাকেন। দূরে থাকলেও কান সজাগ রাখেন। যদি সেই সময়েও পাপ করে ফেলে! প্রতিটি মানুষের কাঁধে লেখক ফেরেশতাগণ থাকেন- এটা কুরআন ও হাদীছ থেকে প্রমাণিত এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের সর্বসম্মত আক্বীদা। জ্বীন এবং ফেরেশতাদের খালি চোখে দেখা যায় না। অদৃশ্য এরা। তবে খাটি ধার্মিকগন এদের অনুভব করতে পারেন। ফেরেশতাদের নিয়ে আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে বহু আয়াত নাযিল করেছেন। ফেরেশতাদের ক্ষুধা নেই। তাঁরা শুধু তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। মানুষ মৃত্যুর পর দুজন ফেরেশতার দেখা পাবে। মুনকার ও নাকির। এরা দুজন ফেরেশতা। তাঁরা কবরে তিনটা প্রশ্ন করবেন। প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে খবর আছে।
ফেরেশতারা মন্দ কাজ করতে পারেন না।
মানুষ মন্দ কাজ করতে পারে এবং করে। শয়তান যখন মানুষকে অন্যায় ও খারাপ কাজের দিকে ধাবিত করে ফেরেশতারা তখন মানুষকে কল্যাণের দিকে যেতে প্রেরণা যোগায়। ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো, তারা মুমিন বান্দার জন্য কল্যাণের জন্য সুপারিশ ও দোয়া করতে থাকে। ফেরেশতারা নানা কাজ পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন। চাঁদ-সূর্যের জন্য, পাহাড়-পর্বতের জন্য, আকাশের বিভিন্ন স্থানের জন্য, মেঘ প্রবাহিত করার জন্য, বৃষ্টি বর্ষন করার জন্য, মায়ের গর্ভে ভ্রণের জন্য, জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, পাপীদের শাস্তি প্রদানের জন্য, জান্নাতিদের খেদমত ও শান্তির জন্যও অনেক ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে। এত বড় বিশ্ব! কত নিয়ম কানুন। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। নাসার বিজ্ঞানীসহ পৃথিবীর সমস্ত বিজ্ঞানীদের ওস্তাদ ফেরেশতারা। তবে মানুষের মতোণ বাহাদূরি তাঁরা করতে পারেন না।
অনেক হুজুরগন বলে থাকেন, মানুষের সাথে চারজন ফেরেশতা থাকে।
যাই হোক, আল্লাহ এমন একদল ফেরেশতা তৈরি করেছেন, যাঁরা সর্বদা নামাজ আদায় করছেন। করেই যাচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ সিজদারত অবস্থায় রয়েছেন, কেউ রুকুতে রয়েছেন। আর তাঁরা নামাজ আদায় করছেন সারিবদ্ধ হয়ে ও সুশৃঙ্খলভাবে। সাত আসামানের উপর মানুষের মতো ফেরেশতাদের জন্য রয়েছে কাবা। তাঁরা সেই কাবা ঘরের জিয়ারত করেন, তাওয়াফ করেন, হজ পালন করেন। সপ্তম আসমানে অবস্থিত আল্লাহর এই ঘরের নাম বায়তুল মামুর। ফেরেশতারা মানুষের চেয়ে আল্লাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন, তাই তাঁরা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান। আল্লাহর ভয়ে তাঁরা ভীত ও বিনম্র হয়ে থাকেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা তাদের পালন কর্তাকে ভয় করে এবং তিনি যা আদেশ করেন তা পালন করে। সুবাহানাল্লাহ।
আসমানে এবং দুনিয়াতে ফেরেশতারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।
বিনা বেতনে তাঁরা চাকরী করছেন। ফেরেশতাদের স্ত্রী, পুত্র-কন্যা নেই। বাপ, মা নেই। শ্বশুর শ্বাশুরি নেই। দুলা ভাই নেই। তালুই নেই। ফেরেশতাদের ডানা রয়েছে। অনায়াসে তারা যেখানে-সেখানে বিচরণ করতে পারেন। যারা নাপাক থাকে এবং মদ খায় তাদের কাছে ফেরেশতারা আসেন না। আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী-রাসুলদের নিকট অহি পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়োজিত করেছিলেন জিব্রাঈল নামক ফেরেশতা-কে। মিকাইল ফেরেশতা বৃষ্টি, উদ্ভিদ বিষয়ক দায়িত্বে রয়েছেন। ইস্রাফিল ফেরেশতা পুরো পৃথিবী ধ্বংস করবে এক ফু'য়ে। তিনি শিঙা হাতে নিয়েই রেখেছেন। শুধু আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় আছেন। বিজ্ঞানীরা ফেরেশতা সম্পর্কে কোনো তথ্য আজও দিতে পারেন নাই। কুরআন এবং হাদীস থেকে আমরা ফেরেশতা সম্পর্কে জানতে পেরেছি।
(লেখায় যদি ভুল থাকে, তবে তা ধরিয়ে দিবেন। আমি সাথে সাথে শুধরে নিবো। ছোটবেলা থেকেই ফেরেশতাদের নিয়ে আমার দারুন আগ্রহ। জ্বীন জাতি এবং ফেরেশতাদের নিয়ে আমার চিন্তার শেষ নেই। আজকাল মানুষের চেয়ে জ্বীন এবং ফেরেশতারা আমাকে বেশি আকর্ষন করে। তাদের সম্পর্কে যতই জানছি, ততই অবাঁক হচ্ছি, ততই মুগ্ধ হচ্ছি।)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




