
ছবিঃ আমার তোলা।
মানুষের জীবনে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে।
নারী পুরুষ সমান হারেই পরিবর্তন হয়। স্কুলে প্রথম ভর্তি হবার পর পরিবর্তন আসে। কলেজে প্রথম ক্লাশের সময় পরিবর্তন আসে। ইউনিভার্সিটিতেও বেশ পরিবর্তন আসে। লেখাপড়া শেষ করে চাকরী জীবনেও ব্যাপক পরিবর্তন আসে। প্রেম ভালোবাসা করার সময়ও নারী পুরুষ বদলে যায়। প্রিয় মানুষের মৃত্যুও জীবনকে অনেকখানি বদলে দেয়। তবে নারী পুরুষের সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আসে বিয়ের সময়। সারা জীবনের সব পরিবর্তনের চেয়ে বেশি পরিবর্তন হয় বিয়ের পর। আবার তার চেয়েও বেশি পরিবর্তন আসে সংসারে সন্তান আসার পর। হ্যাঁ, সবাই জানে মানুষ পরিবর্তনশীল। এবং মরনশীল।
আমি অনেক কিছু ভুলে যাই।
তখন আমার মস্তিস্ককে জানাই ভুলে যাওয়া জিনিসটা আমার জানা দরকার। আমাকে খুব দ্রুত জানাও। মস্তিস্ক আমার কথা রাখে। সে অনেক পুরাতন এবং ভুলে যাওয়া ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। তখন ছবির মতো সব চোখের সামনে ভাসে। ফিরে যাই অতীতে। রোমাঞ্চিত হই। দুঃখ পাই। আবার আবেগে ফেটে পরি। আমার জীবনের পরিবর্তন গুলো আমি টের পাই। পরিবর্তন হতে গিয়ে কোথায়-কোথায় কি কি ভুল গুলো করেছি সেটা বুঝতে পারি। অনুশোচনা হয়। বড্ড দেরী হয়ে গেছে। অতীতে যে ভুল গুলো করেছি সেসব শুধরানোর সময় আর নেই। তাই বার বার আফসোস হয়। অতীত জীবনে করা ভুল গুলো শুধরানো যায় না।
আমার মস্তিস্ক কিছু জিনিস আমাকে দেখায়।
কিন্তু সেসব আমার সাথে কখনও ঘটেনি। দুই একটা উদাহরন দেই। মেট্রিক পরীক্ষার কিছুদিন আগের কথা। শীতকাল ছিলো। আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। কম্বল গায়ে দিয়ে। শীতকালে কম্বলের ভিতর থেকে উঠতেই ইচ্ছা করে না। এমন সময় আমার কাছে একটা মেয়ে আসে। মেয়েটা ভীষন সুন্দর। মেয়েটা আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললো। আমি শীত গ্রীষ্ম সব সময় খালি গায়ে ঘুমাই। মেয়েটা আমার গা থেকে একটানে কম্বল সরিয়ে দিলো। বলল, দুই দিন পর পরীক্ষা আর তুমি ঘুমাচ্ছো? উঠো। নাস্তা খাও। খেয়ে পড়তে বসো। আমি মেয়েটাকে দেখে মুগ্ধ! এত সুন্দর। যেন মাত্র আকাশ থেকে নেমে এসেছে। আমার ইচ্ছা করলো মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরি।
এই মেয়েটাকে নিয়েই আমার আরেকটা স্মৃতি আছে।
একদিন মধ্য দুপুরবেলা আমি মেয়েটার বাসায় যাই। গিয়ে দেখি ওদের বাসায় কোনো একটা অনুষ্ঠান। বাসা ভর্তি মানুষজন। ভিড়ের মধ্যে আমি মেয়েটাকে খুঁজে বের করি। খুব সুন্দর একটা জামা পরা। এই জামার নাম কি আমি জানি না। মাথা ভরতি চুল। চুল গুলো ফুলে আছে। মেয়েটাকে দারুন লাগছে। মেয়েটা আমাকে দেখে ভীষন খুশি হলো। তার চোখ মুখ আনন্দে ঝলমল করছে। মেয়েটা বলল, এই ভিড়ের মধ্যে তোমার থাকার দরকার নেই। তুমি ছাদে যাও। আমি আসছি। কিছুক্ষন পর মেয়েটা ছাদে এলো। আমাদের মাঝে কিছু কথা হলো। হঠাত মেয়েটা আমার ঠোটে ঠোঁট রাখলো। আমি শিহরিত হলাম। ঘটনা এইখানেই শেষ।
এবার আসল কথায় আসি।
এই দুটি ঘটনা আমার সাথে কখনও ঘটেনি। আমি যখন মেট্রিক পরীক্ষা দেই তখন গরম কাল ছিলো। এটা আমার স্পষ্ট মনে আছে। কারন পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর আব্বা আমাকে ডাবের পানি খাইয়েছিলো। বলেছিলো- খুব গরম পড়েছে রে। আরেকটা বিষয় আমার স্পষ্ট মনে আছে- শীতের সময় আমি লেপ গায়ে দিতাম। আব্বা আমাকে একটা সুন্দর লেপ বানিয়ে দিয়েছিলো। আমি কম্বল ব্যবহার করছি গত দশ বছর ধরে। আরেকটা বিষয়- আমাদের স্কুলে ছেলে মেয়ে একসাথে ক্লাশ হতো না। মেয়েরা মর্নিং শিফটে। ছেলেরা ডে শিফটে। এখন কথা হচ্ছে- আমার মস্তিস্ক কেন আমাকে এরকম একটা স্মৃতি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে!
আমি কোনো মেয়ের বাসায় দুপুরবেলা যাই নি।
দাওয়াত ছাড়া আমি কি করে একটা মেয়ের বাসায় যাই? সেই সময় আমার কোনো মেয়ে বন্ধু ছিলো না। মেয়েটা আমাকে ছাদে যেতে বলবে কেন? বাসায় তো মেয়েটার বাবা মা ভাইবোন সবারই থাকার কথা। যেহেতু বাসায় অনুষ্ঠান চলছে। আমি ভীষন লাজুক মানুষ। একটা অচেনা অজানা মেয়ের সাথে ছাদে যাবো- এই টাইপ ছেলে আমি না। মেয়েটা আমাকে চুমু দিলো কেন? মেয়েটা কি আমার প্রেমিকা? তাহলে এই মেয়ে এখন কোথায়? কেন তার চেহারা ছবি মনে করতে পারি না। নিশ্চয়ই আমার অবচেতন মনের কারসাজি। আমার মস্তিস্ক কেন আমাকে এই দুটা মিথ্যা ঘটনা বারবার দেখাচ্ছে? যার কোনো ভিত্তি নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ১১:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




