
আট বছর পার করে ফেললাম।
আট বছর কম সময় না। কিন্তু মনে হয় এই তো সেদিন বিয়ে করলাম। কিন্তু দেখতে দেখতে আট বছর হয়ে গেছে। যদিও বিয়ে, জন্মদিন ইত্যাদি কোনো তারিখই আমার মনে থাকে না। এগুলো মনে রাখে মেয়েরা। কিন্তু কোনো স্ত্রী মানতেই পারবে না, তার স্বামী বিয়ের তারিখ ভুলে গেছে। হইচই শুরু করে দিবে। যাই হোক, সুরভির ভাব ভঙ্গি দেখে আমি বুঝে ফেলি- হয়তো আজ কোনো বিশেষ দিন। তখন খুঁজে বের করি বিশেষ দিনটা কি। এইভাবে বড় বাঁচা বেঁচে যাই বারবার।
সুরভিকে নিয়ে সামুতে বেশ কিছু লেখা লিখেছি।
সুরভি খুব ভালো একটা মেয়ে। সবচেয়ে বড় কথা সে আমাকে বুঝে। এমন কি আমার মনের কথা গুলোও যেন কিভাবে বুঝে ফেলে। আমাদের মাঝে ঝগড়াঝাটি হয় না। কারন আমি ঝগড়ার মানুষ না। কোনো কারণে সুরভি রেগে গেলে, আমি চুপ থাকি। আবার আমি রেগে গেলে- সুরভি চুপ থাকে। তাই ঘটনা বেশি দূর এগোয় না। এক ঘন্টা পরেই ঝামেলা চুকে যায়। মিটে যায়। তবে সুরভি আমার একটা কথা রাখে নি। বিয়ের আগে বলেছিলাম, যদি রাত দুইটায় চা চাই বানিয়ে দিবে? সুরভি বলেছিলো দিবে। কিন্তু দেয় নি। সুরভি মুহুর্তের মধ্যে ঘুমিয়ে যেতে পারে। গত আট বছরে তার ঘুমের সমস্যা দেখি নাই।
সংসার জীবন আমাদের সুন্দর কাটছে।
সুরভি সাংসারিক মেয়ে। সমস্ত রকম রান্না পারে। সামাজিকতা খুব ভালো বুঝে। এলোমেলো কোনো কিছুই সুরভির পছন্দ না। সব সময় ঘর দুয়ার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখে। বুয়া আসলো কি আসলো না সেই অপেক্ষায় থাকে না। যে কেউ আমাদের ঘরে এলে বলে- আপনাদের বাসাটা ছোট কিন্তু অনেক সুন্দর। আপনাদের ঘর দেখলেই বুঝা যায়- ঘরে শান্তি আছে। ভালোবাসা আছে। বাসায় গেস্ট এলো সুরভি মুহুর্তের মধ্যে রান্না করে ফেলে। কখনও বিরক্ত হয় না। সেই গেস্ট যদি একদিন থাকতে এসে সাত দিন থাকে তবুও সুরভি বিরক্ত হয় না। সুরভির হাতের রান্না যে'ই খেয়েছে, সে-ই মুগ্ধ হয়েছে! আসলেই সুরভি ভালো রান্না জানে।
সুরভি লেখাপড়ায় ভালো ছিলো।
ইডেন কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছে। আমি বলেছি, তুমি চাকরী করো। সুরভি বলে- সবার আগে আমার সংসার। সংসার বাদ দিয়ে আমি চাকরী করবো না। আমি বললাম, তুমি চাকরী করলে সংসার ভেসে যাবে না। সুরভি বলল, ঠিক আছে একটা চাকরী জোগাড় করে দাও। আমি চুপ করে গেলাম। আমি চাকরী জোগাড় করবো কিভাবে? আমার তো ক্ষমতাবান মামা চাচা নেই। এখন আর সুরভিকে চাকরির কথা বলি না। তবে সুরভি প্রায়ই বলে- তার নাকি একটা বিরাট রেস্টুরেন্ট দেওয়ার ইচ্ছা। আমি খেয়াল করে দেখেছি- সুরভি যা চায় তাই হয়। একদিন হয়তো সে সত্যি সত্যি রেস্টুরেন্ট দিয়ে দিবে।
সুরভির সাথে আমার বিয়ে হতোই না।
সুরভি বাবা যখন জানলেন আমি পত্রিকা অফিসে কাজ করি, তখন স্পষ্ট মানা করে দিলেন। হায় হায়! সুরভি বলল, আমাকে ভুলে যাও। আব্বা মানা করে দিয়েছেন। বলেই সে কান্না শুরু করলো। আমি বললাম, কান্নার কিছু হয় নাই। আমার একজন সুপারম্যান আছে। তাকে বললেই সে সব ব্যবস্থা করে দিবে। কোনো চিন্তা নাই। সুরভি বলল, আমার আব্বা খুব কঠিন মানুষ। একবার যা না করে, সেটা আর হ্যাঁ হয় না। আমি আমার আব্বাকে সুরভির বাবার কথা বললাম। আব্বা বলল, দূর এটা কোনো ঘটনাই না। আমি ব্যবস্থা করছি। আব্বা সুরভির বাবার সাথে দেখা করলেন। এবং বিয়ের তারিখও ঠিক করে ফেলল।
বিয়ের পর আমি ব্যাপক বদলে গেলাম।
সময় মতো খাই। সময় মতো ঘুমাই। বাইরে আড্ডা দেই না। অফিস শেষ হলেই বাসায় চলে আসি। বাসায় ফেরার পথে সুরভির জন্য কিছু না কিছু কিনে নিয়ে যাই। বিয়ের আট বছর হয়ে গেলো- এখনও আমি সংসার পাগল মানুষ। বাজার করি দুই হাত ভর্তি করে। যে যা পছন্দ করে তাই বাজার করি। আমাদের একান্নবর্তী পরিবার। আমরা সবাই একসাথে থাকি। মিলেমিশে থাকি। আমাদের পরিবারে শুধু আব্বা নেই। গত বছর ডিসেম্বরের ১১ তারিখ আব্বা মারা গেলো করোনায়।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




