
ছবিঃ আমার তোলা।
আজকে একটা বিশেষ দিন গেছে।
আমাদের বিয়ের আট বছর হয়েছে। যেখানে চারিদিকে শুধু তালাক তালাক এর ঘটনা। এর মাঝে আমি আর সুরভি হেসে খেলে আট বছর পার করে ফেলেছি। মাশাল্লাহ! যাই হোক, আজ সকালে সুরভি আমার জন্য আফগানি পরোটা বানিয়েছে। সাথে ডিম পোচ, ভুটের ডাল, এবং হালুয়া। সাধারনত সকালের নাস্তা বুয়া তৈরি করে দিয়ে যায়। কিন্তু আজ বুয়া আসে নি। আমি সুরভির বানানো আফগানি পরোটা খাই নি। তেলের পরোটা খেলে আমার সমস্যা হতে পারে। তাই পাউরুটি খেয়েছি মাখন মিশিয়ে। কিছুটা চিনি ছিটিয়ে দিয়েছি। ভালৈ লাগলো। তারপর এক কাপ দুধ চা। ব্যস আমার সকালের নাস্তা শেষ।
যেহেতু আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী-
তাই ভাবী আজ দুপুরে পোলাউ রান্না করেছেন। সাথে দেশী মূরগীর মাংস আর বেগুন ভাঁজা। দুপুরে বাসার কেউ খেতে বসে নি। কিন্তু আমি আর সুরভি যেহেতু বাইরে যাবো- তাই সবার আগে আমরাই খেয়ে নিলাম। রান্না বেশ ভালো হয়েছে। মূরগীর মাংসটা বেশ হয়েছে। বেগুন ভাঁজা সাধারনত আমি খাই না। আজ খেলাম। খেতে ভালৈ লেগেছে। খাওয়া শেষে সামান্য রস মালাই খেলাম। ছোটভাই গতকাল কুমিল্লা গিয়েছিলো। নিয়ে এসেছে। রসমালাইটা খেতে স্বাদ না। দশে বড়জোর ৫ দেওয়া যেতে পারে।
আমার আর সুরভির আজ বাইরে যাওয়ার কথা-
ভেবেছিলাম বিকেলে বের হবো। কিন্তু বের হয়েছি সন্ধ্যায়। ফারাজাকে ভাবীর কাছে রেখে গিয়েছি। ভাবী বলেছেন, কোনো সমস্যা নাই। যতক্ষন ইচ্ছা ঘুরে আসো। আমি সকালেই ড্রাইভারকে বলে রেখেছিলাম কোথাও যেও না। থাকো। আমি আর সুরভি বের হবো বিকেলে। কিন্তু বাইরে বের হয়ে সুরভি বলল, গাড়ি না। আজ আমরা আগের মতো এলোমেলো ঘুরে বেড়াবো রিকশায়। আমি ড্রাইভার হাশেদুলকে বললাম, স্যরি। তুমি চলে যাও। আমরা রিকশায় করে যাবো। হাশেদুলকে একশ' টাকা দিয়ে দিলাম। হাশেদুল চলে গেলো। সুরভি বলল, আজ কিন্তু আমি তোমার হাত ধরে রাখব সারাক্ষণ। তুমি হাত সরিয়ে নিতে পারবে না।
ভাগ্য ভালো আজ রাস্তায় জ্যাম কম।
প্রথমে আমরা দোয়েল চত্ত্বর গেলাম। সুরভি হাবিজাবি কিছু কেনাকাটা করলো। এরপর গেলাম টিএসসি। সেখানে বসে বাদাম, আর চা খেলাম। কলা ভবন গিয়ে পরিচিত একজনের সাথে দেখা করলাম। সেখানে ভাপা পিঠা, ফুচকা আর আইসক্রীম খেলাম। হাঁটতে হাঁটতে চারুকলার কাছে গিয়ে ফুটপাতের দোকান থেকে আলুর চপ আর চিকেন ফ্রাই খেলাম। চিকেনের ছোট ছোট টুকরা। দশটা খেলেও পোষাবে না আমার। ক্যাম্পাসে এক ঘন্টা সময় কাটালাম। সুরভির সাথে নানান বিষয় নিয়ে গল্প করলাম। সুরভি রাজনীতি বুঝে না। ক্রিকেট বুঝে না। সুরভি এখনও আমার কথা শুনলে গ্রামের কিশোরী মেয়েদের মতো অবাক হয়ে যায়।
কলাভবন থেকে ফুলার রোড পর্যন্ত হাঁটলাম আমরা।
জোড়ায় জোড়ায় অনেক ছেলেমেয়ে রাস্তার দুইপাশে বসা। সুরভি বলল, অনেকদিন পর এই রাস্তায় এলাম। আমাদের গন্তব্য নাজিরা বাজার। শহীদ মিনার পেছনে রেখে, সামনে ঢাকা মেডিকেল। আমাদের রিকশাচালক দারুন স্মার্ট। রাস্তাঘাট অলিগলি সব চিনে। আজ রাতে বাসায় খাবো না। হানিফ বিরানী খাবো। দুজন মিলে ইচ্চছামতো বিরানী খেলাম। কোক খেলাম। এক দোকানে স্প্রেশাল পান বিক্রি করছে। সেই পানের নাম 'জাফরান পান'। মূল্য ২০০ শ' টাকা। সুরভি বুড়ো মানুষের মতো সেই পান চিবিয়ে খেলো। বাসায় ফিরলাম রাত ৯ টা ৪৫ মিনিটে। এর মাঝে ভাবীকে দুইবার ফোন করে ফারাজার খোজ নিয়েছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




