somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- (সাইত্রিশ)

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

শাহেদ জামালের মন মেজাজ আজ বড্ড খারাপ।
এতটাই খারাপ যে সে আজ গালি দিবে। কুৎসিত গালি দিবে। এমন গালি দিবে যে ভদ্র সমাজের লোকদের কান ও নাক দিয়ে অটোমেটিক রক্ত বের হয়ে যাবে। কথায় আছে যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। কাজেই শাহেদ জামাল ভদ্র হলেও গালি দিতে জানে। উদাহরন দেই একটা- শাহেদ কাউকে কোনো দিন লাথথি দেয় নি। তার মানে এই না যে সে লাথথি দিতে জানে না। কাজেই আজ শাহেদ গালি দিবে। ইচ্ছে মতো গালি দিবে। ভয়ঙ্কর সব গালি দিবে। হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, গালি হচ্ছে দুষ্ট লোকদের হাতিয়ার। দুষ্ট লোককে শায়েস্তা করতে গেলে দুষ্ট হতে হয়। আপনারা হয়তো ভাবছেন, শাহেদ আবার কার উপর খেপলো!

শাহেদ জামাল খেপেছে- এক ল্যাদানো গল্পকারের উপর।
ল্যাদানো গল্পকার নিজেকে হিরো মনে করে। শুধু হিরো না, সাথে নিজেকে হুমায়ূন আহমেদও মনে করে। ইদানিং তার মধ্যে এক ধরনের অহংকার দেখা যাচ্ছে। তার ধারনা সব মেয়ে তার উপর ক্রাশ খেয়েছে। আসল সমস্যা হলো- যে কোনো ছেলে গ্রাম থেকে শহরে এলে প্রথম প্রথম এরকমটাই ভাবে। যদিও তাদের এই ভাবনা এক থেকে দেড় বছরের বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মেয়েদের পটানোর জন্য এই ল্যাদানো গল্পকার তার লেখাতে ক্লাশমেটদের নাম ব্যবহার করে। এরকম ভাব যেন মেয়েদের নাম ব্যবহার করে তাকে বিখ্যাত বানিয়ে দিলো। সেই মেয়েকে গল্প পড়তে দেওয়া হলে, মেয়েটা তেমন আগ্রহ দেখায় না।

শাহেদ জামালের সাথে ল্যাদানো গল্পকারের দেখা হয়েছে।
শাহেদ কোনো রকম ভনিতা বাদ দিয়ে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে- ঐ ল্যাদানো। শালা। কি শুরু করেছিস এই সব? ছাগল কোথাকার? কানটা টেনে ছিড়ে দিবো। ফাজিল। তুই কি বাল লিখিস? নিজে জানিস? এযুগের মেয়েরা বোকা না। তোর বালছাল লেখা দিয়ে মেয়ে পটাতে পারবি না। মেয়ে পটাতে হলে পকেটে টাকা থাকতে হয়। শূন্য পকেট থাকলে কোনো মেয়ে তোমার দিকে ফিরেও তাকাবে না। এটা তোর গ্রাম না। শহর। ল্যাদানো গল্পকার মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছে। শাহেদ জামাল বলল, হারামজাদা তোরাই ঢাকা শহরে এসে ঢাকার পরিবেশ নষ্ট করিস। তোরা গ্রামে ফিরে যা। এমন সময় ল্যাদানো গল্পকার শাহেদ জামালের পা ধরে মাফ চাইলো। এবং বলল, বড় ভাই আমাকে মাফ করে দিন। এখন থেকে আমি ভালো হয়ে যাবো। কসম।

শাহেদ জামালের একটা বন্ধু আছে।
নাম হচ্ছে বাবলু। গ্রাম থেকে শহরে এসেছে। একদম অজপাড়া থেকে। ঢাকা এসে জগন্নাথে ভর্তি হয়েছে। টিউশনি করেছে। বাবা মার কাছ থেকে কোনো টাকা নেয় নি। বরং বাবা মাকে টাকা পাঠিয়েছে। টিউশনি করে অনার্স-মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে। শহরে এসে মেয়েদের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে নি। মন দিয়ে পড়াশোনা করেছে। লেখাপড়া শেষ করে ভালো চাকরী পেয়েছে। চাকরী পেয়ে এমবিএ করেছে। সারাদিন অফিস করে সন্ধ্যায় আবার এমবিএ'র ক্লাশ করেছে। নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে বিয়ে করেছে। বাবলুর এখন দুই সন্তান। একটা ছেলে, একটা মেয়ে। হাসিখুশি পরিবার। দুই বছর আগে বাবলু ঢাকার উত্তরাতে পাঁচ কাঠা জায়গা কিনেছে। আগামী বছর বাড়ির কাজে হাত দিবে। এরাই হলো আসল ছেলে। ল্যাদানো গল্পকার টাইপ না।

শাহেদ জামালের এক শিক্ষক বলতেন- বাবারা লাইনে থাকিস।
তোমরা লেখাপড়ায় মন দাও। ভালো রেজাল্ট করো। তবেই না ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে। সারা দিনরাত মেয়ে মেয়ে করো না। তুমি ভালো রেজাল্ট করলেই ভালো চাকরি পাবে। ভালো চাকরী পেলেই ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবে। তখন দেখবে মেয়েরা তোমার পিছু ঘুর ঘুর করবে। নিজের পায়ের নীচের মাটি শক্ত না করে প্রেম ট্রেম করো না। পকেটে টাকা না থাকলে প্রেমট্রেম টিকে না। প্রেম তো দূরের কথা- টাকা না থাকলে ঘরের বউও থাকবে না। কাজেই বাবারা লাইনে থাকো। মন দিয়ে পড়ো। এখন তোমাদের পড়ার সময়। লেখাপড়া শেষ করে প্রেম করো। কে মানা করছে। মেয়েদের খুশি করতে বালছাল লেখা বন্ধ করো।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১০:০৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×