somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নৌকা ভ্রমন

০৫ ই জুন, ২০২২ বিকাল ৪:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশে মোট ৪০৫ টি নদী আছে।
আমাদের দেশে সব কিছুই বেশী বেশী। আমাদের দেশে মসজিদের অভাব নেই। বাইকের অভাব নেই। মানুষের অভাব নেই। গরীব লোকের অভাব নেই। দুষ্ট লোকের অভাব নেই। যাইহোক, বাংলাদেশের বেশির ভাগ নদীতে আমি নৌকায় ভ্রমন করেছি। পদ্মা নদী, মেঘনা নদী, বারাশিয়া নদী, মধুমতি নদী, সন্ধ্যা নদী, রুপসা নদী। নদীর ভ্রমনটা আনন্দময়। আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে পনের মিনিট হেঁটে গেলেই পদ্মা নদীর দেখা পাওয়া যায়। গ্রামে গেলে পদ্মানদীতে লাফালাফি করে স্নান করি।

একসময় আমাদের গ্রামে যেতে হতো নৌকায় করে।
ইঞ্জিনওলা নৌকা। সারাক্ষণ ভোট ভোট শব্দ হতেই থাকতো। মাথা ধরে যেত। বিকট শব্দ। এরমধ্যে আছে রোদের তাপ। ছাউনি নাই। বাবা অথবা মায়ের লোকে বসে থাকতাম। মা বাবা আমার হাত ছাড়তো না। যদি নদীতে পড়ে যাই! এখন আমাদের দেশে যেতে দেড় ঘণ্টা সময়ও লাগে না। অথচ একসময় সারাদিন পার হয়ে যেতো! বাসা থেকে নেমেই গাড়িতে উঠি। দেড় ঘন্টা পর গাড়ি চলে যায় আমাদের গ্রামের বাড়ির উঠানে। এই মাসে গ্রামে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। শুনেছি এবার আম এবং কাঠাল অনেক হয়েছে। গাড়ি ভরে আম, কাঠাল নিয়ে আসবো।

নৌকা ভ্রমন ভালো লাগে।
নৌকা কি সুন্দর তরতর করে এগিয়ে যায়। একজন মাঝি কি সুন্দর বৈঠা দিয়ে নদী বায়। আমাদে দেশ নদীর দেশ। অথচ আমি সাঁতার জানি না। বেশ কয়েকবারা সাঁতার শেখার চেষ্টা করছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। পুকুরে নেমেছি সাঁতার শিখব বলে। কিন্তু পুকুরে সোজা হয়ে দাড়াতে পারছি না। পুকুরের মাটি নরম। পা ঢেবে যাচ্ছে। শেষমেষ পুকুরে কাঁত হয়ে পড়ে যাই। পুকুরের পানি দিয়ে পেট ফুলে যায়। নদীর দেশে সাতার না সেখাটা অন্যায়। অবশ্য সাঁতার যে কোনো বয়সে শেখা যায়। শিখে নিবো। আমার কন্যা আর আমি একসাথেই সাঁতার শিখবো। সুইংপুলে টাকা দিয়ে আমি সাঁতার শিখবো না। নো নেভার।

জীবনে একবার নৌকা ভ্রমন বিরাট বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম।
মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছি। আমার বন্ধু এসেছে দুবাই থেকে। সে তার সাবেক প্রেমিকার সাথে দেখা করবে। বন্ধু আমাকে নিয়ে গেলো তার সাথে। কার্তিকপুর যাবো। নৌকা চলছে ধুমছে। ইঞ্জিনওলা নৌকা। মাঝনদীতে নৌকা হঠাত থেমে গেলো। ইঞ্জিনে সমস্যা। নৌকায় আমরা ২০/২৫ জন মানুষ। নদীর ঢেউয়ে নৌকা সমানে দুলছে। মনে হচ্ছে নৌকা যে কোনো সময় ডুবে যাবে। এদিকে আকাশ কালো হতে শুরু করেছে। আর কি বাতাস! নৌকা ভরা যাত্রীরা আহাজারি করছে। তাদের আচার-আচরন পাগলের মতো লাগছে আমার কাছে।

আমার বন্ধু ভয়ে কাপছে।
নারী পুরুষ চিৎকার চেচামেচি করছে। একজন হুজুরকে দেখলাম আযান দিচ্ছেন। কেউ কেউ মোবাইলে আত্মীয়স্বজনকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করছে। 'মাফ করে দিস'। 'সুমাইয়ারে দেখে রাখিস'। 'তোমরা ভালো থাইক্কো'। আমার বন্ধু নামাজে দাঁড়িয়ে গেলো। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। একটা সিগারেট ধরালাম। মনে মনে ভাবছি এক কাপ চা হলে দারুন হতো। দুইজন সাহসী লোক নদীতে ঝাপ দিলো। তাঁরা হয়তো সাতারে ভালো। এক মহিলা আল্লাহ গো, আল্লাহ গো বলে খুব কান্না করছে। যাইহোক, সে যাত্রায় বেঁচে যাই। তিনটা স্প্রীডবোট এসে আমাদের বাঁচায়।

আমার বেস্ট নৌকা ভ্রমন হলো নীলার সাথে।
তূরাগ নদীতে। একবার ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে আমি আর নীলা বেড়িয়ে গেলাম। আজ আমরা সারাদিন ঘুরবো। একসাথে থাকবো। সারাদিন আমরা নানান জায়গায় ঘুরে বেড়ালাম। দুপুরে স্টারে খেলাম। ধানমন্ডি লেকে বসে থাকলাম। হঠাত নীলা বলল নৌকায় চড়তে ইচ্ছা করছে। মিরপুর বেড়িবাধ থেকে একটা সুন্দর নৌকায় উঠলাম। তখন বিকেল। নৌকা চলছে!! নীলা আমার কোলে শুয়ে আছে। হঠাত দেখি তার চোখে পানি! আমি বললাম, কি হয়েছে? নীলা কিছু বলে না। শুধু কাঁদছে। শেষে জানলাম নীলার বিয়ে ঠিক হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২২ বিকাল ৪:২৮
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টারজান থেকে আইনস্টাইন

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা।
প্রচন্ড শীতে এক বালক রাস্তা দিয়ে একাএকা হাঁটছে। বালক জানে না- তার বাবা কে, মা কে? ক্ষুধা পেলে একটা খাবার দোকানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার দৃষ্টিতে - 'ব্লগার ওমর খাই-আম' বনাম 'ব্লগার সত্যপথিক শাইয়্যান'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩২



চ্যাটজিপিটিকে আমার এবং ওমর খাই-আমের ব্লগপেইজের লিংক দিয়ে বলেছিলাম মূল্যায়ন করতে। সে আমাদের রেটিং দিয়েছে এরকম -
সত্যপথিক শাইয়্যানঃ 8.0/10, আর ব্লগার ওমর খাই-আমঃ 7.8/10!!!

বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×